কুয়াকাটার কয়েক’শ কৃষকের সর্বনাশ॥ বিক্ষোভ মিছিল॥

মনিরুল ইসলাম মনিরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৫৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

প্যাকেটের গায়ে বীজের জাত পরিবর্তন, মূল্য বৃদ্ধি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ সরবরাহের অভিযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সোমবার দুপুরে শতাধিক কৃষক লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও কয়েকটি কৃষি পন্য বিক্রেতার দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভা ও লতাচাপলী ইউনিয়নের কৃষকদের কয়েক’শ একর জমিতে ফলন না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

 

ভূক্তভোগী কৃষকরা এমন সর্বনাশের পিছনে অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকার অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা আমতলী উপজেলার কচুফাতরা এলাকার বিএডিসি কর্তৃক নিয়োগকৃত পরিবেশক মো. আবু মিয়াকে দায়ী করেছেন। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুইশতাধীক কৃষক লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। শেষ পর্যন্ত কৃষকরা কোন সুরহা না পেয়ে বীজ সরবরাহকারী দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকে লতাচাপলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আমন ক্ষেতে রোপন করা ধানের বীজ ও প্যাকেট নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক সরবরাহকৃত বীজের প্যাকেটের গায়ে লাল কালীর লেখার উপর কাটাছেড়া দেখা যায়। যার ফলে কৃষকরা এসকল বীজ ক্ষেতে রোপন করার পনের দিনের মাথায় অপরিপক্ক ধান গাছে ফলন এসে গেছে। এ বীজ জমিতে রোপন করে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে পুনরায় চাষাবাদ করে ধান রোপন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

 

এ বিষয়ে মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আমির শরীফ বলেন, আলীপুর বাজারে হঠাৎ ব্রিধান ৪৯ এর চাহিদা বেড়ে যায়। স্থানীয় পরিবেশকের নিকট ধান না পেয়ে আমতলী উপজেলার কচুফাতরা এলাকার বিএডিসি কর্তৃক নিয়োগকৃত পরিবেশক মো. আবু মিয়ার মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স থেকে বীজ সংগ্রহ করে বিক্রয় করেছি। এ ধান আমার নিজের জমিতেও রোপন করছি।
লতাচাপলী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভে আসা হারুন মাতুব্বর, জলিল গাজী, এনায়েত হোসেন, জসিম উদ্দিন, শাকু কাজীসহ অনেক কৃষক জানান, মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজারের ব্যবসায়ী চাঁনমিয়া বেপারী, আমির শরীফ, মাসুম বিল্লাহ, আবুল কালাম এদের দোকান থেকে বীজ ক্রয় করে ক্ষেতে রোপন করেছেন। কিন্তু পনের দিনের মাথায় অপরিপক্ক ধান গাছে ফলন এসে যায়। যার ফলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া বেপারী বলেন, আমি উদ্দেশ্যমূলক এ বীজ বিক্রয় করিনি। আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমার নিজের সাড়ে ১২ একর জমিতে এ বীজ রোপন করেছি। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে হঠাৎ বীজের সংকট দেখা দিলে আমি আমতলী উপজেলার কচুফাতরা এলাকার মো. আবু মিয়ার থেকে বীজ সংগ্রহ করেছিলাম।

 

এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমি কৃষকদের ক্ষেত দেখেছি, তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কারা, কোন উদ্দেশ্যে এসকল বীজ সরবরাহ করেছে তা বের করা চেষ্টা চলছে। আমি উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে আলোচনা করে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, আমি ব্যবসায়ীদের সাথে বসে আলোচনা করে জেনেছি, ব্যবসায়ীরা আমতলী উপজেলার কচুফাতরা এলাকার বিএডিসি কর্তৃক নিয়োগকৃত পরিবেশক মো. আবু মিয়ার নিকট থেকে বীজ সংগ্রহ করে অসচেতনভাবে বিক্রয় করছে।

 

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ জানান, আমি বিষয়টি শুনে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে শীঘ্রই ভূক্তভোগী কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email