হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাধুলা নিয়ে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৭:০৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

রাকিবুল ইসলামের বিশেষ প্রতিবেদনঃ

সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। শৈশবে যেসব খেলাধুলা খেলেছিলেন আজকের বৃদ্ধরা সেসব খেলাধুলা না দেখতে পেয়ে তারাও এখন ভুলে গেছেন বহু খেলার নাম।

 

এক সময় গ্রামের শিশু ও যুবকরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অভ্যস্ত ছিল। তারা অবসরে গ্রামের খোলা মাঠে দলবেঁধে খেলতো এসব খেলা। আর খেলাধুলার মাধ্যমে শৈশবে দুরন্তপনায় জড়িয়ে থাকতো ছেলেমেয়েরা। কিন্তু মাঠ-বিল-ঝিল হারিয়ে যাওয়া, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব খেলাধুলা। গ্রামীণ খেলা আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতি। এসব খেলাধুলা এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করত।

 

বর্তমানে গ্রামীণ খেলা বিলুপ্ত হতে হতে আজ তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন। খোদ অজপাড়াগাঁয়েও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, কানামাছি প্রভৃতি গ্রামীণ খেলার প্রচলন নেই। গ্রামবাংলার খেলাধুলার মধ্যে যেসব খেলা হারিয়ে গেছে তাদের মধ্যে হা-ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, মন্দুরুজ, গাদন, খো-খো, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, গোশত তোলা, চিক্কা, এ্যাঙ্গো এ্যাঙ্গো, কুতকুত, ল্যাংচা, কিং কিং খেলা, বোমবাস্টিং, হাড়িভাঙা, বুদ্ধিমন্তর, চাঁ খেলা, বৌচি, কাঠিছোঁয়া, দড়ি লাফানো, বরফ পানি, দড়ি টানাটানি, চেয়ার সিটিং, রুমাল চুরি, চোখবুঝাবুঝি, কানামাছি, ওপেন্টি বাইস্কোপ, নৌকাবাইচ, ঘোড়াদৌড়, এলাটিং বেলাটিং, আগডুম বাগডুম, ইচিং বিচিং, ইকড়ি মিকড়ি, ঝুম ঝুমা ঝুম, নোনতা বলরে, কপাল টোকা, বউরানী, ছক্কা, ব্যাঙ্গের মাথা, লাঠিখেলা, বলীখেলা, আইচ্চা ভাঙ্গা, এক্কাদোক্কা, কুৎ কুৎ, মইলা, রাম সাম যদু মদু, চোর ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, থিলো এম্প্রেস, ষোলগুড্ডা, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, চিলমোরগ, বুঝাবুঝি, বদন, লাপা লাপি, লগো লগো, ডালিম খেলা অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধুলা এখন আর তেমন কোথাও চোখে পড়ে না।

 

নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার নাম শুনে অনেকেই হাসে। গ্রামের এসব খেলাগুলোর মধ্যে
হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, ডাংগুলি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এসব খেলা চলাকালে শতশত মানুষের ঢল নামতো খেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু এখন গ্রামের খোলা মাঠ কমে যাওয়ায় এসব খেলা শুধুই স্মৃতি। এক সময় এ দেশের ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে খেলতো।কিন্তুবর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েরা গ্রামীণ খেলার সাথে পরিচিত নয়। তারা অধিকাংশ সময় কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক আর অনলাইন গেমস ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকে

 

গ্রামীণ খেলার বিষয়ে বগুড়ার অাদমদীঘি উপজেলার সাঁওইল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ও শাঁওল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, আমরা বইয়ের কিছু গ্রামীণ খেলার নাম জানলেও কি ভাবে এ খেলা করতে হয় তা কোন দিন দেখিনি। এমনকি তারা জানেও না এসব খেলার নিয়ম কানুন।
তারা আরো জানায়, পড়ালেখার চাপে খেলার তেমন একটা সময় পায়না তারা আর যে টুকু সময় পায় ইন্টারনেটে গেম খেলে আর বন্ধুদের সাথে ফেসবুকে চ্যাট করে পার করে সময়।

 

রাজিয়া সুলতানা স্বর্ণা নামে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীর কাছে গ্রামীণ এসব খেলার কথা জানতে চাইলে সে বলে কিছু গ্রামীণ খেলা সম্পর্কে জানি ছোট বেলায় খেলেওছি আর এখন গোল্লাছুট, বউছি, কানামাছি, খেলা হয়না সময় পার হয়ে যায় ফেসবুক,ইমু,হোয়াাটস অ্যাপ আর মোবাইলে গেমস খেলে।কলেজ পড়ুয়া এ ছাত্রী আরো বলে এখনকর ছোট ছোট ছেলে মেয়ে এই খেলা গুলো খেলা তো দূরে থাক তারা নাম ও জানেনা হয়তো।

 

বগুড়ার কম্পিউটার সায়েন্স আন্ড বিজনেস ইস্টাডিজ ইনিস্টিডিউট এর অার্কিটেচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ অাব্দুল হাই, বলেন,আমরা ছোটবেলায় বন্ধুরে সাথে দাড়িয়া বাঁধা, মার্বেল, হা-ডু-ডু ও ঘুড়ি উড়ানোর মত অনেক খেলা করেছি। এক সময় স্কুল ভিত্তিক আন্তঃ জেলা ও উপজেলার হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এ ধরনের কোন আয়োজনও করা হয় না।

তিনি জানান, বর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েরা গ্রামীণ খেলার সাথে তেমন একটা পরিচিত নয়। তারা অধিকাংশ সময় কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেট গেমস, ফেসবুক ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। যার ফলে সমাজের মানুষের সাথে তাদের একটা দুরুত্ব তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তার নানা রকম অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে।
তিনি মনে করে, সকলের উচিৎ বর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েদেরকে ঐতিহ্যবাহি গ্রামীণ খেলা সম্পর্কে জানানো ও পরিচয় করানো।