কবি আলমগীর হোসেনের একগুচ্ছ কবিতা

মুক্তির চেতনায় কবিতা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮
আশাবাদী
আমি আশাবাদী, হতাশ নই । ——–দু’মুঠো ভাতের জন্য লড়াই করি। মেঘ দেখে ভয় পাই না, ——– সূর্য্যের আলোর অপেক্ষায় থাকি। আমি আত্মবিশ্বাসী, ধুকে-ধুকে মরি না । ——-বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি । রাজ- প্রাসাদ চাই না, ——- খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় খুঁজি । আমি লোভ- লালসা করি না, ——- অল্পতে তুষ্ট থাকি । সন্তুষ্টি অর্জনে সর্বদা – ——–আল্লাহকে স্মরণ রাখি। আমি হিংসা – বিদ্বেষ করি না, ——- সহমর্মিতা পোষণ করি । সকল কাজে ধৈর্য্য ধরি । —–অপকর্মে- যেন লজ্জায় মরি। আমি পরনিন্দা করি না, ——- আত্মসমালোচনা করি। সর্বদা নিজ কাজে ব্যস্ত থাকি। —— বাস্তবতার স্বপ্ন আঁকি। আমি কখনও খারাপ কাজে আসক্ত নই, ———সর্বদা ভালো কাজের চিন্তায় রই । মানব কল্যাণে জীবনকে – ———বিলিয়ে দিতে যেন উদ্যত হই । আমি সর্বদা পেশাগত মান উন্নয়ন ও ——-দক্ষতা অর্জনের চেষ্ঠা করি, সৃজনশীল কর্মে নিয়োজিত থাকি। ——- নতুন কিছু খুঁজার চেষ্ঠা করি। আমি কখনও কাউকে- ——– নিরুৎসাহিত করি না, সর্বদা ভালো কাজে ——-উৎসাহিত করি। আমি অন্তর মুখী নই, – বহির্মুখি, ——- বিমর্ষ কাতর নই, সদা হাসি-খুশী । সংগঠনপ্রিয় ও সাংস্কৃতিমনা, —— নেতৃত্ব দিতে পছনদ করি । আমি কাউকে অবমূল্যায়ন করিনা , ——-যোগ্যদেরকে মূল্যায়ন করি কখনও কাউকে অসম্মান করি না, ——- জ্ঞানী-গুনীদেরকে সম্মান করি। আমি দানব নই, ——-মানব, ——- শান্তি ও মানবতার গান গাই, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসে নই, ——– বিশ্ব শান্তির কথা কই । আমি কখনও নেতিবাচক ——–দৃষ্টি- ভঙ্গি পোষণ করি না , সর্বদা ইতিবাচক- ——– দৃষ্ঠি- ভঙ্গি পোষণ করি। আমি সাম্প্রদায়িকতা কে- ——- কখনও সমর্থনে নই , ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী করি। ——- অপসাংস্কৃতিরোধে সোচ্চার হই । আমি সত্য ও ন্যায়ের কথা বলি, ——– অধিকার আদায়ে সংগ্রামী হই, অন্যায়, অত্যাচার ও অনিয়মরোধে- ——–কারও সাথে আপোষী নই । হে প্রভু ! তুমি মোরে রক্ষা কর , ——— বিপদে সদা হাল ধর, পদভ্রস্ঠ মানুষকে সুপথে আন, ———ভাল- মন্দ তুমি– সবই জান ।                                                      —————****—————-

ডিজিটাল ভাবনা
ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্ম- প্রযুক্তি নিয়ে ভাবে, বিশ্বের বুকে একদিন তারা – দেশকে নিয়ে যাবে । নতুন- নতুন আবিষ্কারে – অবাক হয়ে থাকি, মেধাবীরা পড়ালেখায় – দেয় না কোন ফাঁকি। একদিন তারা বড় হয়ে- গড়বে সোনার দেশ, বাঁধা-বিঘ্ন পেরিয়ে – এগিয়ে যাবে দেশ।
জিজ্ঞাসা – —-আলমগীর হোসেন পারবে কি নিভাতে ——–সেই অন্তর্দহন ? যে আগুনে পুড়ে – ——– ছার-খার আমি । হেসেছিলে তুমি – ——– কেঁদেছি আমি । কোন দোষে – ——– দুষ্ঠ হওনি তুমি । পারবে কি উপশম করতে – ——– সেই ক্ষতচিহ্ন কে ? যে আগুনের লিলা- খেলায়- ——–তুমি ছিলে সদা মেতে। পারবে কি লাঘব করতে – ——— সেই নিদারুন দু: খ- কষটকে ? যে যন্ত্রনা আজ ও – ——-বহন করে চলেছি আমি । পারবে কি থামাতে– ——- সেই বুক ফাটা ক্রন্দন- আর আহাজারি ? ——- যার আর্তনাদে সমস্ত – আকাশ – বাতাশ যেন ভারি হয়ে ওঠে । পারবে কি মুছে দিতে – —— দু’ চোখের সেই- ছল- ছল জল ? —— যে জলে আজ ও ভেসে বেড়াচ্ছি আমি। পারবে কি ফিরিয়ে দিতে – ——- সেই সোনালী অতীতকে ? যার জন্য আজও ——-অপেক্ষার-প্রহর গুনি । পারবে কি নিয়ে যেতে – ——- সেই মধুর স্মৃতি ঘেরা দিনগুলোতে ? যার জন্য আজ ও ——–ব্যাকুল আমি । পারবে কি শোনাতে – —– সেই স্বপ্নঘেরা আশার বাণী ? যা নিয়ে দু’ জন দু’ জনে – —— স্বপ্নীল আকাশে উড়ছি ডানা মেলে। ———-
তোমায় বিহনে
আলমগীর হোসেন বল সখী, তোমায় বিহনে- থাকিব কেমনে, তোমায় নিয়ে আজও ঘর- বাঁধার – স্বপ্ন আকি মনে । জলে নয়, স্থলে নয় , আকাশে নয়, বাতাসে নয়, তোমায় রাখিব হৃদয় কোণে, কত সুখী থাকব মোরা- দেখবে বিশ্বজনে । তুমি আসবে তাই- পথ চেয়ে বসে-রই-প্রতিক্ষণে। তোমায় পরশে জীবন হবে ধন্য, সুখের ঘর বাঁধার জন্য, যেখানে থাকবে সকল পণ্য ।
ফেসবুকের প্রচলন 
বর্তমানের চলন, ——–ফেসবুকের প্রচলন। ফেসবুকের ব্যবহার – ——-নতুন প্রজন্মের হাতিয়ার। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ——বাড়ছে তাতে পেয়ার। বসার নেই চেয়ার- ——তাই নেই কোন কেয়ার। ফেসবুকে আছে এক ম্যাসেন্জার- ——-রাত জেগে করে সবে চ্যাটিং তার। চ্যাটিংয়ের ফলে — ——- বয়স ভেদা-ভেদ যায় ভুলে। মধুর আলাপনে মন যায় গলে, ——–কত লোকের বুক ভাসে জলে। ঘর-সংসার ছেড়ে – ——- যারা অন্যের পিছে ছোটে, কে জানে, শেষ পর্যন্ত – ——–কার কপালে কি জোটে ? ফেসবুকের হাত ধরে – ——কত লোক জীবন শেষ করে। প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে পালায় – ——– ফেসবুকের জালায়। পালায় যখন কারও বোন, বউ, মেয়ে, ——–,কেউবা থাকে অবাক বিস্ময় চেয়ে। ফেসবুকের সুবাদে – ——ম্যাসেজ আর পোষ্ঠিং চলে অবাধে। বন্ধুর সাথে কথা হয় নীরবে- ———-ধরবে তাদের কিভাবে ? ফেসবুকের হাওয়াতে- —–তরুণ প্রজন্মকে দেখি গা ভাসাতে। তাহলে—- ——প্রত্যাশা কি ভবিষ্যতে ? লেখা- পড়ায় অমনোযোগী যারা ——–ভবিষ্যৎ কি করবে তারা ? ভাবছি বসে মনে, ——-এ যেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ফেসবুক নিয়ে দেখি– —— কত না মাতা-মাতি, কাছে নয়, দূরে বলে ——–হয় না কোন হাতা-হাতি। । হায়রে এলো, একি কলির কাল ! ——–বল দেখি, এ কেমন ডিজিটাল.?
————————**————————-
প্রত্যাশা
দুর্নীতি দিচ্ছে থাবা, —– কেমনে এগিযে যাবা ? বিশ্ব যাচ্ছে এগিয়ে, —— থাকব কেন পিছিয়ে । এমন কোন শাখা কি পাই ? ——- যেখানে দুর্নীতির ছোঁয়া নাই। এই যদি হয় দেশ ! ——- কেমনে হবে সোনার বাংলাদেশ ? শপথ নিব, দুুর্নীতিকে রুখব, —– সোনার বাংলা গড়ার আশায়– এগিয়ে আসবেন সবাই, ——এ প্রত্যাশা আমায়।
বিজয় অহংকার
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর- বাঙ্গালীর মনে অহংকার , জীবন দিয়ে হলেও- তা রক্ষাঙ্গীকার । দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী – যুদ্ধ- সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা, তা কি সহজে ভুলিবার কথা ? লড়াকু বাঙ্গালীর সাহসিকতা- দেখে পিছু হটে পাকবাহিনী, যার ফলে রচিত হয়- কাঙ্খিত বিজয় কাহিনী । দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত ও ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে কাঙ্খিত বিজয় বাঙ্গালীর গর্ব, তা যেন কখনও হয় না খর্ব । স্বাধীনতা বিরোধীদের একে- একে- ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায়- রাজাকার আলবদর মুক্ত দেশ যখন, ভিন্ন স্বাদে বিজয় দিবস উদযাপিত তখন । বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ, জাতিকে যেমনি করে উজ্জীবিত, তেমনি করে অনুপ্রাণিত পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য- দিয়ে বিশ্বের মান চিত্রে অন্কিত হয় – লাল- সবুজের যে পতাকায়- সে গৌরব কখনও ভুলিবার নয় ।
বিকৃত মানবতা
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী- অংসাংসৃচির দেশে যদি- মানবতা নীরবে কাঁদে, এ দায় কে নিবে কাঁধে ! জাগো মানবতা জাগো, আর ঘুমাইও না, ওঠ, চেয়ে দেখ মিয়ানমারে – মুসলমানদের উপর চলছে- কি নির্মম ,নিষ্টুর রর্বরতা, কি বিভৎস, ভয়ন্কর, অমানবিক, নিপীড়ন নির্যাতন, যেখানে মানবতার অধ:পতন । কাঁদছে শিশু, ভাসছে লাশ, মানবতা আজ সর্বনাশ । বি্কৃত মানবতা নিয়ে- কেন এত উল্লাস ? হায় ! মানবতা আজ কোথায় ! বিশ্ব মানবতা কেন ঘুমিয়ে ? নিরহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের আর্তচিৎকার কি কানে পৌঁছে না ? বার্মা রোহিঙ্গাদের বুকফাটা ক্রন্দন আর আহাজরিতে আকাশ- বাতাস যেন ভারি হয়ে ওঠে, এ বিকৃত মানবতা রবে স্মৃতি পটে ।ত শোন, ওহে বিশ্ব মানবতা ! কবে ভাঙবে ঘুম ? দাড়াও উঠে, জাগাও বিবেক , মানবতাকে কর না আর গুম । নিরবতা ভেঙ্গে- পারি কি না দাড়াতে- তাদিরি পাশে ? শান্তির সুবাতাস ছড়ানোর আশ্বাসে ।
বিনম্র শ্রদ্ধা 
শোকবহ- শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে- জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের- প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনুপ্রেরণায়- যারা ছিলেন কলম যোদ্ধা । বিজয়ের প্রাক্কালে অকাতরে – দিয়ে গেল যারা প্রাণ, পরম শ্রদ্ধা ভরে জাতি আজ – জানায় তাদের সম্মান । কেননা, তারা যে – জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । পাকহানাদার বাহিনী চরম- বিপর্যয় দেখে এবং সম্মুখ পরাজয় নিশ্চিৎ জেনে- পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী – তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবিদের – ঘর থেকে-ধরে চোখ বেঁধে – অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গুলি করে
কবি পরিচিতি
মো: আলমগীর হোসেন
সহকারি প্রধান শিক্ষক, নথুল্লাবাদ উচবিদ্যালয়, ঝালকাঠি সদর
মোঃ আলমগীর হোসেন ১৯৮০ সালের ২৫ জানুয়ারী খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গড়ই খালী ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোঃ ইমান আলী সরদার এবং মাতার নাম মমতাজ বেগম । সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি নিজ গ্রামেের স্কুল থেকে ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তিলাভ সহ ১৯৯৪ সালে প্রথম বিভাগে এস,এস, সি এবং খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এইচ,এস,সি পাশ করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বরিশাল সরকারি বি,এম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংলি্শে অনার্স -মাস্টার্স সম্পন্ন করেন । ২০০২ সালে চরমোনানাই কামিল মাদ্রাসায় ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন ০এরপর ঝালকাঠি নবগ্রাম মডেল হাইস্কুল, ঝালকাঠি পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, এবং বরিশাল শহীদ আলতাফ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে সুনামের সহিত শিক্ষকতা করেন । বর্তমানে তিনি ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ঝালকাঠি সদরের নথুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন। চাকুরীতে প্রবেশ করে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বি,এড, এম,এড এবং এল,এল,বি ও সমপন্ন করেন । অনার্সে পড়াকালীন থেকেই মূলত তিনি লেখা-লেখি শুরু করেন । কবিতা লেখার পাশা- পাশি স্থানীয় ও জাতীয় পত্র- পত্রিকায় কলাম ও লেখেন । শিক্ষকতার পাশা- পাশি দীর্ঘ দিন সাংবাদিকতা ও করেছেন। প্রথমে “দৈনিক শাহনামা” পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার এবং পরবর্তীতে” দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল” পত্রিকার ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। অনেক চড়াই উৎরাই, ত্যাগ-তিতীক্ষা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন । সদিচ্ছা, প্রবল আকাঙ্খা, আর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান তিনি.। সামাজিক অন্যায়, অত্যাচার, অনিয়ম রোধে তিনি এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। তিনি একজন বাস্তববাদী কবি ও লেখক। রোমান্টিকতার ছোঁয়া ও তার কবিতায় পাওয়া যায়। সমাজের নানা অসঙ্গতি তার লেখনীতে ফুটে উঠেছে । “শততারা,” “বিজন অশ্রুবিন্দু ” সোনালী দিনের কাব্য, ও ভালবাসার এপিট – ওপিট নামক চারটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ রয়েছে তার। আরও দুটি প্রকাশের অপেক্ষায় । এছাড়া “অনুভূতির ছোঁয়া ” নামক তার একক কাব্য গ্রন্থ ও প্রকাশের অপেক্ষায় । অন্যদিকে, ” ছন্দে- আনন্দে ইংলিশ গ্রামার শিখি ” নামক একটি ইংলিশ গ্রামার বই ও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে । তার কিছু কবিতা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে স্থানীয় পত্র-পত্রিকা, ম্যগাজিন,ফেসবুক -ইন্টারনেটে ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একজন সাংস্কৃতিমনা ,সদালাপী, হাসি-খুশী ও সংগঠন প্রিয় মানুষ ।
০১৭১৮-২১৫৭২৬ /01919-215726