টাঙ্গাইলে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী হত্যা মামলার জট খুলেছে

হাফিজুর রহমান হাফিজুর রহমান

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৮ | আপডেট: ২:০৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৮
টাঙ্গাইলে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী হত্যা মামলার জট খুলেছে

গাড়ী চালকের স্বীকারোক্তিতে টাঙ্গাইলে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী হত্যা মামলার জট খুলেছে। দুস্কৃতকারীদের কাছ থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের চালক সহ দুইজনকে বৃহস্পতিবার(৯ আগস্ট) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত গাড়ী চালক রনির জবানীতে এ হত্যা মামলার জট খুলেছে।

 

গ্রেরকৃতরা হচ্ছেন, বাসের চালক রুহুল আমিন রনি (৩৮) ও আরিফ (৩৫)। রনি নড়াইল জেলার পাঙ্খারচর গ্রামের মৃত মুক্তার শেখের ছেলে। আরিফ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল মিয়ার ছেলে। এছাড়াও গাজীপুরের বারইপাড়া থেকে ঘটনার সাথে জড়িত গ্রামীণ শুভেচ্ছা পরিবহণের ‘ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৬৩৭’ নম্বর বাসটি আটক করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।

গ্রেরকৃতরা গাড়ীর চালক রনি পুলিশকে জানায়, গত ২৫ জুলাই(বুধবার) রাতে গাজীপুর থেকে একটি রিজার্ভ ট্রিপ নিয়ে তিনি রাবনা বাইপাস আসেন। যাত্রীদের নামিয়ে তিনি গাড়ীটি নিয়ে একাই ফিরতেছিলেন। গাড়ীতে অন্য কোন স্টাফ ছিল না। ফেরার পথে বৃহস্পতিবার(২৬ জুলাই) খুব ভোরে চরপাড়া পৌঁছালে গার্মেন্টস কর্মী শিউলী বাসটিতে ওঠে। তার সাথে সাথে আরিফও গাড়ীতে ওঠে এবং শিউলীর শরীরে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিউলী আরিফকে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিউলী গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়। এরপর গাড়ী থামিয়ে আরিফ গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। রনি আরো জানায়, আরিফ নেমে যাওয়ার পর তিনি গাড়ীর লুকিং গ্লাসে মেয়েটিকে হাত ধরে টেনে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে দেখেছেন।

 

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম মিজানুর রহমান জানান, তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ শুভেচ্ছা পরিবহণের বাসটি আটক করেছেন। পরে ওইদিন বাসটির চালক রুহুল আমিন রনিকে আটক করা হয়।

 

ওসি আরো জানান, আরিফকে গ্রেপ্তার করে গাড়ী চালক রনির মুখোমুখি করা হলে রনি তাকে সনাক্ত করে। বৃহস্পতিবার(৯ আগস্ট) আরিফকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই(বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গার্মেন্টসকর্মী ও গৃহবধূ শিউলী কারখানার নির্ধারিত বাসে উঠতে পারেন নি। পরে তার কর্মস্থল মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কমফিট কম্পোজিট মিলে যাওয়ার জন্য অন্য একটি বাসে উঠেন। এ সময় ওই বাসে যাত্রীবেশী কয়েকজন দুর্বৃত্ত শিউলী বেগমের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় তিনি বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে চিৎকার করতে থাকেন। এ ঘটনা বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের শিউলী বেওয়া ও আব্দুর রউফ নামে দুই ব্যক্তি দেখলেও তারা কোন সহায়তা করতে পারেন নি। দেড় কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানী নামক স্থানে পৌঁছার পর দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শিউলী চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গত ২৮ জুলাই(শনিবার) শিউলীর স্বামী শরিফ খান বাদি হয়ে অজ্ঞাত বাসে থাকা ৪-৫ জন দুস্কৃতকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।