সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চাইলেন সাদিক (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:২৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৮
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চাইলেন সাদিক (ভিডিও)

আসন্ন ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে ইভিএম চালুর দাবী জানিয়ে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনিত মেয়র প্রার্থী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

তার নিজ ওয়ার্ড ১৯ নং এর দুটি কেন্দ্র জগদিস স্বরস্বতী গার্লস স্কুল ও সরকারী বরিশাল কলেজে ইভিএম চালুর দাবী জানান তিনি।

বরিশাল নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার বরাবরে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে আজ বিকেল সাড়ে ৪ টায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পত্র জমা দেয়া হয়।

আবেদনের ব্যাপারে সাদিক আবদুল্লাহ জানান আসন্ন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা বলে মিথ্যাচার করে আসছেন। বিগত দিনে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী পদমর্যাদা, বরিশাল সিটি মেয়র ও হুইপ থাকা কালীন সময়ে সরোয়ারসহ বিএনপি সমর্থিত মেয়রদের কোন উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ন বরিশালবাসীর চোখে না পরায় বর্তমানে তারা অনেকটা জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারনেই জনবিচ্ছিন্ন এ নেতা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা বলে জনগনকে ভুল ও মিথ্যাচার করে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন । কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী জনগনের রায়কেই সর্বোচ্চ বলে বিবেচনা করেন। বরিশালের মানুষের ভালবাসায় তাদের পাশে থেকে নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়াই আমার প্রধান কাজ।

এ কারনেই বরিশাল সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি আমার বাসার কাছের নিজ ওয়ার্ডের দুটি ভোট কেন্দ্র ইভিএম এর আওতায় আনার দাবী জানিয়েছি। আমি জনগনের ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়ে বরিশালের মানুষের পাশে থেকে বরিশালকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

ইভিএম চাইলেন সাদিক এর ছবির ফলাফল

এদিকে নির্বাচনের শুরুতেই ইভিএম নিয়ে গোল বেঁধেছে। ২ দিন আগে ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে ইভিএম দিয়ে নির্বাচন গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা নির্বাচন কমিশন । এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. হেলাল উদ্দিন খান নির্বাচন কমিশনে বরিশালের ১২, ১৮, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের ৪টি কেন্দ্রের ১০টি বুথে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব পাঠান। নির্বাচন কমিশনের সহকারী পরিচালক স্টাফ ট্রেনিং অফিসার মো. সাব্বির আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি পত্র ১০ই জুলাই বরিশাল নির্বাচন অফিসে পৌছে। এ চিঠিতে বরিশালে ৪টি কেন্দ্রের ১০টি বুথে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে বিসিসি’র ১২, ১৮, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের ১০টি বুথে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই চারটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ২দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ এবং পরে ভোটারদের প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রার্থীরা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা তাদের এজেন্টদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। গতকাল হঠাৎ জানা যায় ১৮ নং ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহৃত হবে না। জেলা নির্বাচন অফিসার মজিবর রহমান স্বাক্ষরিত যে চিঠিটি কাল পাওয়া যায় সেখানে সব ঠিক আছে তবে শুধু ১৮ নং ওয়ার্ডের স্থলে ২৮ নং উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন গত তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মীর জাহিদুল কবির। তিনি নির্বাচন অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। মীর এটিএম জাহিদ কবির জানান, চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে ১৮ নং কেন্দ্রের অক্সফোর্ড মিশন স্কুল ও চৈতন্য স্কুল কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহৃত হবে। কিন্তু এখন নির্বাচন অফিস বলছে এটি ১৮ নয় ২৮ নং ওয়ার্ডে হবে। কিন্তু ২৮ নং ওয়ার্ডে ঐ নামের কোনো কেন্দ্র নাই। বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে তিনি দাবি করেছেন। শুরতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত বদল নির্বাচনের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে জেলা রিটানিং অফিসারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।