আমরা স্বার্থপর হলেও নিশাচারীরা আমাদের নিঃস্বার্থ বন্ধু

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৪৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার: আমরা যে যতই মিষ্টি কথা ও নৈতিকতা সমৃদ্ধ উক্তি উচ্চারণ করি। আমরা কি জীবনাচরণের ক্ষেত্রে আসলেই তাই? হ্যাঁ, আমরা খুবই স্বার্থপর, স্বার্থে আঘাত লাগলেই আমাদের ভয়ঙ্কর চেহারাটি প্রকাশিত হয়। শুধু স্বার্থে আঘাত লাগা কেন? কারো উন্নতি দেখলেই তো আমাদেও সহ্য হয়না। লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেই তার পেছনে লেগে যাই। বাস্তব জীবনে আমরা আমাদের মুখের কথার চেয়ে অনেক নোংরা। অনেক হীন ও নি¤œ প্রকৃতির। কিন্তু কাজে হলে কি হবে? আমাদের লজ্জা তো আর কম নয়। কখন কি করি তা প্রকাশ করতে আমারা লজ্জার জলে সিক্ত হয়ে যাই। যা আমরা মুখে প্রকাশ করতে সংকোচবোধ করি। এড়িয়ে যাই নিজের চরিত্রকে।

কিন্তু আমাদের সমাজের সবাই এমন নয়। কেউ কেউ অনেকটা স্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই তারা আমাদের জীবনকে সহায়তা করে যায়। কিন্তু আমাদের মতো তাদের ততো লজ্জা নেই। তারা আমাদের চেয়ে নির্লজ্জ। তাদের লোভ লালসা আমাদের চেয়ে খুবই ক্ষুদ্র। তাদের জীবনের চাহিদাও আমাদের চেয়ে কম। তবে তারা আমাদের জীবনের অনেক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। তাদের অধিকাংশই অভ্যাসের অনুভূতি থেকেই আমাদের জীবনের চাহিদা মিটিয়ে যায়।

তাদের একটি শ্রেণি হলো কুকুর। সারারাত তারা আমাদের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকে। কাওকে জীবন বিনষ্টকারী মনে হলেই দলবদ্ধ ভাবে তার ওপর তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু সূর্যোদয়ের পর তারা নির্জীব হয়ে যায়। তারা হয়ে যায় আমাদের ঘৃণা ও অবহেলার পাত্র।

আর একটি শ্রেণি হলো পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। আমরা তাদের কতই না অবহেলা করি। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান তাদের কপালে সবসময় সর্বনি¤œটিই জোটে। কিন্তু আমরা যখন ঘুমিয়ে যাই। তারা থাকে সম্পূর্ণ কর্মচঞ্চল। সারাদিন এ নগরটি আমরা নোংরা করে বেড়াই, কিন্তু ভোরের আলো আগমন করার আগেই তারা আবার সুদর্শন পরিপাটি নগর আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। আবার সে পরিপাটি নগরেই আমরা ছড়িয়ে পড়ি।

তৃতীয় শ্রেণিটি হলো চোর ও লুটেরা। তাদের জন্যই প্রতিনিয় আমরা একটু শৃঙ্খলায় থাকি। সর্বদা সতর্ক থাকি নিজের চারপাশের প্রতি। আবার অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে আমাদের চারপাশে যে অর্থের অভাবে কিছু লোক নি¤œতর জীবন যাপন করে এবং তাদের প্রতি যে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে সে কথা চোর লুটেরাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়।

যেমন আল্লাহ আমাদের মাথায়, চোখের উপর এবং মুখের আশপাশে চুলগুলো দিয়েছেন ভালোকথা, কিন্তু বগল ও শরীরের আরো তলদেশে চুলগুলো কেন দিলেন? এ চুলগুলো না থাকলেই তো আমাদের আরাম অনুভব হতো।

কিন্তু এগুলো আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন  আমারা যাতে শরীরের ওই স্থান গুলোর একটু বেশি যতœ করি, এবং ঐ স্থান গুলোর ব্যপারে সতর্ক থাকি। সুতারাং মাথা ও মুখমন্ডলের নিচের চুলগুলো আমাদের জন্য আর্শীবাদ। সুতারাং চোর লুটেরাও আমাদের জীবনে তেমন আর্শীবাদ। তারা আমাদের বিচক্ষণ করে তোলে, আর সতর্কতা বাড়ায় স্ব জীবনের প্রতি।

চার নম্বর শ্রেণিটি হলো পতিতা। দিনের আলোয় তারা নির্জীব হয়ে থাকে। রাত হলেই তারা রজনীগন্ধার মতো উদ্ভাসিত হয়। রাতের অন্ধকারে তারা সহ¯্র যৌন উত্তপ্ত পুরুষকে যৌনক্ষুদা মিটিয়ে স্বস্তি ও মানসিক সমৃদ্ধি দেয়। মানসিক ভাবে বিদ্ধস্ত অসংখ্য পুরুষের হৃদয়ে আবর্তন করে প্রশান্তির ঝর্ণাধারা।

পঞ্চম সম্প্রদায়টি হলো রাতে ক্ষমা প্রর্থনাকারীরা। কোরআনের ভাষায় যাদের বলা হয় ‘মোস্তাগফিরিনা বিল আসহার’ অথাৎ রাতের আধারে যারা আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়ে যায়।

আমরা জীবনে কত সহস্র পাপ করে বেড়াই। এর বেশির ভাগই করি ইচ্ছে করে। অসখ্য বার অমান্য করি ¯্রষ্টার নির্দেশ। কিন্তু এর পরও আমাদের জীবনের আহার ও নিরাপত্তা থাকে আগের মতো অটুট। আর এটি হয় শেষরাতে ক্ষমা প্রর্থনাকারীদের কারণে। তাদের সক্রিয়তার জন্য ক্ষমা পেয়ে যাই আমরাও। নাহয় আমাদের পাপের পরিণাম গুলো আমরা পেয়ে যেতাম নগদে।

লেখক: কবি, সাংবাদিক ও উপস্থাপক