‘দক্ষিণাঞ্চল হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র’- আমু (ভিডিও)

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০১৮ | আপডেট: ৯:০২:অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০১৮

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, পদ্মাসেতু ও পায়রা বন্দর নির্মানের মধ্য দিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের যোগাযোগ এবং সমুদ্র পথের নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে পুরো দক্ষিণাঞ্চল।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে শিল্প-শিক্ষাবিদ জোট বিষয়ক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, শিল্প উন্নয়নে বরাবরই পিছিয়ে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। অপার সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। এর জন্য নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ সবার সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আমরা শিল্প সহায়ক অবকাঠামো বিণিমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরিশাল বিসিক নগরীর উন্নয়নে ইতিমধ্যেই ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলে কেউ শিল্প কলকারখানা করার উদ্যোগ নিলে প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংক ঋন থেকে শুরু করে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। মোট কথা শিল্পায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিল্প সংযোগ অত্যন্ত জরুরি। বরিশাল অঞ্চলে শিল্পায়নের বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে আহবান জানান শিল্পমন্ত্রী।

বরিশালের সাহসী জনগণের শ্রম, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের উদ্যোগ, সুশীল সমাজের মেধা এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা সমন্নিতভাবে কাজে লাগিয়ে অচিরেই দক্ষিণাঞ্চল দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ তাঁর।

শিল্পমন্ত্রী বলেন- ঐতিহ্যগতভাবে বরিশাল অঞ্চল বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধ জনপদ। বরিশাল জেলা ধান, মাছ ও কৃষি পণ্যে সমৃদ্ধ। পাশাপাশি ভোলা জেলা গ্যাস, ব্লাক ডায়মন্ড ও পটুয়াখালী জেলা পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ। ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পেশার সঙ্গে জড়িত। সামুদ্রিক মৎস্য আহরণেও বরিশাল বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদিত হয় বরিশাল বিভাগে। ইলিশের উৎপাদন বিবেচনা করে বরিশালে হিমায়িত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চল চামড়া, হস্ত ও কারুশিল্পের বহুমুখীকরণ ও মূল্য সংযোজনের চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উন্নত বিশ্বে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারা চলছে জানিয়ে আমু বলেন, বিশ্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চললেও বাংলাদেশ এখন তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। শিল্পসমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস এই শিল্প বিপ্লবেরই বাস্তবতা। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। এ অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে শুধু তৃতীয় শিল্প বিপ্লব নয়, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফলও কাজে লাগাতে হবে।

শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, আমাদের শিল্প উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই প্রথম জেনারেশন অতিক্রম করছে। কোন ধরনের শিল্প স্থাপন লাভজনক হবে, বাজারে কি ধরনের পণ্যের চাহিদা বেশি, কীভাবে প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করতে হবে, কীভাবে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো এবং ভ্যালু এডিশন করা যায় ইত্যাদি বিষয়ে তাদের ধারণা কম। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, উন্নয়ন চিন্তাবিদ, শিল্প বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ তথা এককথায় শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে নতুন প্রজন্মের শিল্প উদ্যোক্তাদের সাহায্য করতে হবে। তাদের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বরিশাল অঞ্চলসহ বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে এ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন সেল গঠনের মাধ্যমে শিল্প গবেষণা জোরদার করে শিল্পায়নের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি এগুলো মোকবিলায় কার্যকর কর্মপন্থা নির্ধারণ করে কাঙ্খিত গন্তব্যের পথে এগিয়ে নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ কে এম মাহবুব হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিসের পরিচালক প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হকের সঞ্চলনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান রাহাত হোসেন ফয়সাল।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) গোলাম রউফ খান এবং বেঙ্গল বিস্কুট কোম্পানির ম্যানেজার আবদুর রহমান প্রমুখ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, উন্নত দেশে শিল্প বিকাশের জন্য গবেষনায় মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের শিল্প বিকাশে তেমন কোন অর্থ বরাদ্দ রাখা হয় না। শিল্পকে এগিয়ে নিতে শিল্পদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন জরুরী বলে মনে করেন তারা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্টার, চেয়ারম্যানবৃন্দ, প্রক্টর, প্রভাস্টবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলী, পরিচালকবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।