মহাদেবপুরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৮

নওগাঁ: দীর্ঘ সময়ে সংস্কার না হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বাঁধটি সংস্কার করা না হলে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
জানাগেছে, বাঁধটি বিভিন্নস্থানে খানাখন্দ ও ইঁদুরের গতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উজান থেকে ধেয়ে আসছে পানির তোড়। ফলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের নূরপুর এলাকার আত্রাই নদীর বাঁধসহ কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ধসে পড়ছে নদী গর্ভে। ঢেউয়ের পর ঢেউ আঘাত হানছে পাড়ে।
বন্যার হাত থেকে মানুষের সহায় সম্বল রক্ষায় উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। গত বছরের বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলেও মহাদেবপুরে বন্যার পানি ঢুকতে পারেনি। উপজেলার শিবতলা, কউয়াতলী, কলোনি, শ্রীনগর, বুড়া পাঠাকাটাহাট, গোপিনাথপুর, বেহুলাতলী ঘাট, লক্ষণপুর ও শিবগঞ্জ এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা আত্রাই নদীর ঢলের পানিতে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসী দিনরাত পরিশ্রম করে বাঁশের খুঁটি ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকিয়েছিল। ওই স্থানগুলো সহ আত্রাই নদীর বাঁধের প্রায় ৯ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড আশ্বাস দিয়েছিল নদীর পানি কমলে বাঁধটি সংস্কার করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাঁধ সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙলে দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত মহাদেবপুরের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাবে। প্রাণহানি, গবাদিপশু, শস্য ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাবে। এমনকি প্রধান সড়কও পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। ফলে জেলা শহর সহ বিভিন্ন উপজেলা ও বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সাথে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়বে। সাময়িক বন্ধ হয়ে যাবে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কল-কারখানা, চাল উৎপাদনকারী শত শত চালকল বন্ধ হয়ে যাবে। পথে বসবে কৃষক সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এলাকায় নেমে আসবে চরম বিপর্যয়।
বাঁধ সংলগ্ন নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র ও রুহুল সহ কয়েক বলেন, প্রতি বছরই কমছে নদীর গভীরতা। তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকবার এটি শুকিয়ে যায়। অতিরিক্ত বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে দুইকুল উপচিয়ে নদীর পানি সহজেই বাঁধে এসে আঘাত হানে। নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে এলাকার লোকজন রাত জেগে বাঁধ পাহারা দেওয়ার কাজ করেন। প্রত্যেক বর্ষা মওসুমেই তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
বাঁধ সংলগ্ন শিবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর রহমান, ধিরেন ও হিরা বলেন, জানান, আমরা চরম আতঙ্কে দিন যাপন করছি। গতবার রাত দিন পরিশ্রম করে কোন মতে বন্যা ঠেকানো গেলেও এ বছর কি হবে বলা সম্ভব হচ্ছেনা। বাঁধ ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসীর স্বার্থে বিষয়টি দেখার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসন মিঞা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট বার বার আত্রাই নদীর বাঁধ সংস্কারের জন্য যোগাযোগ করেছি। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও এখনো কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা অনুমোদিত ডিজাইন মোতাবেক কাজ বাস্তবায়নের জন্য অনুন্নয়ন রাজস্ব খাত (এনডিআর) টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু টাকা না পাওয়ার কারণে কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, জেলার ধামইরহাট, পত্নীতলা ও মান্দা উপজেলার ৯টি পয়েন্টে ভাঙ্গন স্থানে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় এ ৯টি স্থানে কাজ বাস্তবায়ন সংস্থান রয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন সাপেক্ষে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

Shila/Sohan

Print Friendly, PDF & Email