উৎসবমুখর গাজীপুর, আজ মধ্যরাতে প্রচার শেষ

সিটি নির্বাচন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৩:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮
উৎসবমুখর গাজীপুর, আজ মধ্যরাতে প্রচার শেষ

গাজীপুর শহরের রাজবাড়ি রোডের পৌর মার্কেটের সামনে গতকাল শনিবার হঠাৎ দেখা যায় তীব্র যানজট। কারণ আর কিছু নয়, বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিল। এর কোনোটা লাটিমের প্রার্থীর, তো কোনোটা ঠেলাগাড়ির।

কোনোটা নৌকার, আবার কোনোটা ধানের শীষের।

একটা মিছিল শুধু নারী কর্মীদের। এর পরই আসে ছেলে-বুড়োর দল। তারপরই আবার মোটরবাইকের। মিছিলের যেন শেষ নেই। এ ছিল গতকাল গাজীপুর শহরের চিত্র। কারণ নির্বাচন যে একেবারেই ঘনিয়ে এসেছে। প্রচারের সময়ও যে শেষ হতে চলেছে। আজ রোববার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে প্রচার কাজ। কাজেই গতকাল তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও প্রার্থীরা তাদের প্রচার চালিয়েছেন। কাদাপানি উপেক্ষা করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশেই চলছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। এরই মধ্যে ভোটের বাক্স, ব্যালট পেপারসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র গাজীপুরে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম শুক্রবার গাজীপুরে অবস্থান করে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা ৩৩৭টি কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য এরই মধ্যে গাজীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও ব্যস্ত। তাদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই।

নগরজুড়ে কেবলই প্রার্থীদের পোস্টার, চলছে মাইকিং। নানা ধরনের গান বেঁধে চলছে প্রার্থীদের প্রচার। এতে গাজীপুরবাসীর কান অনেকটা ঝালাপালা হওয়ার উপক্রম। গাজীপুরে কর্মরত শ্রমিক ভোটাররাও বাসে, ট্রেনে করে জড়ো হচ্ছেন। ভোটের আগে তাদের কর্মস্থলে আনার জন্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও চলছে জোর তৎপরতা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী অফিস জানায়, আজ রাত ১২টা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার। এরপর থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। রিটার্নিং অফিসার ড. রকিব উদ্দিন মণ্ডল জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু চলছে।

নির্বাচনী কর্মকর্তা আসাদুল হক জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতি তিন কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একজন করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. হারুন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য মোট ১২ হাজার পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে ৫ হাজার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বাকি ৭ হাজার পুলিশ সদস্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ও আশপাশের জেলা থেকে আনা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৪ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে মোতায়েন করা হবে ২৯ প্লাটুন বিজিবি। পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে টহল দেবেন। বেশ কয়েকটি বম্ব ডিসপোজাল টিম থাকবে। পর্যাপ্তসংখ্যক আনসারও থাকবে। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর নজরদারি : পুলিশ জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য বিবদমান কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কারণ প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এসব প্রার্থীর অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় গতকাল বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে যেন কোনো সহিংসতা না হয়। নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক : গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেন। গাজীপুর-২ আসনের এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের গাজীপুরের নতুনবাজার বাসায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামসহ গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যোগ দেন। পরে আ ক ম মোজাম্মেল সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তারা বসেছিলেন এবং প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

ছয় কেন্দ্রে ইভিএম : এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রগুলো হলো ১৫৪ নম্বর চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৫৫ মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম জয়দেবপুরের ১৭৪ নম্বর মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭৫ নম্বর সারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯১ রানী বিলাসমণি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২ রানী বিলাসমণি উচ্চ বিদ্যালয় ভবন-২। এ ছাড়া ১৮৯ নম্বর গাজীপুর মহিলা কলেজ নিচতলা কেন্দ্র, জয়দেবপুরের ২০৫ নম্বর কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আউশপাড়ার ৩৯০ নম্বর বশির উদ্দিন সরকার একাডেমি।