শোভারাণী খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৮:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮
শোভারাণী খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী একটি খালের নাম শোভারাণীর খাল। যাহা বর্তমানে পুরোটাই রয়েছে ভুমিদস্যুদের দখলে। নকশা ও কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে এই খালের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যেন দুস্কর।

ইতিমধ্যেই সেখানে গড়ে উঠেছে পাকা স্থাপনা দোকান-পাট ও মার্কেট। এসব দোকান ভাড়া ও স্টলের পজিশনে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি চক্র। আর এসব অবৈধ স্থাপনার কারনে ত্রিশ গোডাউন নদীর পাড়ে যাওয়ার রাস্তাটি হয়ে গেছে সরু। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ-কুরবানী কিংবা বিশেষ দিন গুলোতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। তখন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় দুস্কর হয়ে পড়ে। এবারের ঈদেও ব্যাপক যানজট হওয়ায় তা সামাল দিতে বিএমপি পুলিশের হিমশিম খেতে হয়েছে। ইতিপূর্বে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নিলে তা অদৃশ্য কারনে থেমে যায়। অবশেষে ভুমিদস্যুরা দখলকে স্থায়ী করতে মামলা দায়ের করলে সেখানেও হেরে যায়। এর পরেও অজানা কোন কারনে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, শোভারানী খালটি বেদখল হওয়ায় ত্রিশ গোডাউন সড়কে দীর্ঘদিন যাবত জনভোগান্তি হচ্ছে। একাধিক বার উচ্ছেদেও উদ্যোগ নিয়েও তা করা সম্ভব হয়নি।

তবে শিঘ্রই জনস্বার্থে এই সরকারী সম্পত্তি উদ্ধাওে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এ জন্য সবারই সহযোগীতা প্রয়োজন।

জানা গেছে, বরিশাল শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী বদ্ধভুমি স্মৃতি সৌধ অর্থ্যাৎ শহীদ এ.ডি.সি কাজী আজিজুল ইসলাম সড়ক যাইতে ১০ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সামনে শোভারাণী খাল নামে একটি খাল ছিল। যাহা সি.এস ম্যাপে আছে এবং আর.এস এবং এস.এ পর্চায় ১নং খাস খতিয়ানে হিসেবে আছে।

যার এস.এ দাগ নং ৬১৯০ ও ৮০৫৪ পর্চায় পরিস্কার করে লেখা আছে । শোভারানী সেবাইত সম্পওি উক্ত খাল জন সাধারনের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার্য্য সকল পর্চায় লেখা আছে। তহসিল অফিসের ভলিয়ামে লেখা আছে।

বরিশালের বেদখল হওয়া জেলখাল সহ সকল খাল খুজে বের করে অপদখলমুক্ত করা হলেও শোভারানীর খালটি এই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে কিছু ঘর ও দোকান পাট তৈরী করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।

উক্ত খাল ভরাট করে দোকান তৈরী করার কারণে রাস্তা সংর্কীণ হওয়ায় গাড়ী চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরায় সমস্যা হয়। রাস্তার পার্শ্বে শহীদ এ.ডি.সি কাজী আজিজুল ইসলাম এর কবর এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের সমাধিস্থল বদ্ধভুমি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, এত জন ভোগান্তির পরেও শোভারাণী খালটি বেদখল হয়ে আছে। দখলকারীরা একটি মামলা করেছিল। তাতে তাদের পক্ষে আদালত কোন আদেশ না দেওয়ায় এখন আর উচ্ছেদে কোন বাধা নেই।

প্রত্যক্ষ দর্শী সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশ গোডাউন সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা শোভারণী খালটি এখন পুরোটাই অস্তিত্ব সংকটে। এপিবিএন এর সামনে দিয়ে কয়েকজন ভুমিদস্যু পাকা স্থাপনা তৈরী করে দোকান ও ঘর উঠিয়ে ভাড়া দিচ্ছে। পজেশন নিয়ে একটি চক্র হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

বরিশাল জেলা প্রশাসন জেলখাল সহ সরকারী জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে থাকলেও ঐতিহ্যবাহী এই খালটি উদ্ধারে এখনো কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এলাকায় এসব দখলদার ভুমি দস্যুরা ক্ষমতার বলে দখল করে নিচ্ছে সরকারী শোভারানীর খালটি যাহা জনসাধারনের ব্যবহার্য্য এবং সরকারী খাল হিসেবে ১নং খাস খতিয়ানে।

দীর্ঘদিন যাবত এভাবে ভোগ করলেও কেউ বাঁধা দিয়ে কিছু করতে পারেনি কারণ তাদের হাত নাকি অনেক লম্বা। সরকারী খাল দখলমুক্ত অভিযানের অংশ হিসেবে এই খালটি উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করার জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবসী।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান শোভারাণী খাল বেদখলের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে শিঘ্রই যে কোন মূল্যে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করার আশ^াস দেন।