‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির প্রভাবশালীদের কাঠগড়ায় আনা হবে’ : পরিকল্পনামন্ত্রী

সিপিডি বাজেট ডায়লগ ২০১৮

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৫৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৮
‘ব্যাংক কেলেঙ্কারির প্রভাবশালীদের কাঠগড়ায় আনা হবে’ : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংক সেক্টরে রিফর্মস (সংস্কার) এনে ভালোদের পুরস্কৃত করা হবে। আর খারাপরা যতই প্রভাবশালী হোক তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পাওনা আদায় করা হবে।

রোববার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট ডায়লগ ২০১৮’-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এ কথা বলেন।

সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির, সিপিডির সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আমির খসরুকে উদ্দেশ্য করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আপনাদের (বিএনপি সরকারের আমলে) সময় কত মাস ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাওয়া যায়নি। আমাদের সময় অনিয়ম হয়নি এমন কথা বলব না। তবে আমরা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের রিফর্মস আনব। রিফর্মস এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করব।

তিনি বলেন, আমরা কোনো ব্যবস্থায় নেইনি এমন অভিযোগ সঠিক না। উইন উইন সিচুয়েশন আমরা ম্যাচ করব। যারা ভালো তাদের যত প্রকারের উৎসাহ দেয়া যায় দেয়া হবে। আর খারাপ যারা আছে, তারা যত বড়ই হোক তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং তাদের কাছ থেকে পাওনা আদায় করা হবে।

ব্যাংক খাতের কর্পোরেট কর কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রফতানি ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। কর্পোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি। এ ট্যাক্স নেট যদি আমরা না কমায় বিদেশিরা বিনিয়োগ করবে কেন।

২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশ ঋণ দেবে উল্লেখ করে কামাল বলেন, ২০২৩ সাল নাগাদ আমাদের আর অন্য দেশ থেকে টাকা ধার করতে হবে না। আমরা বরং টাকা ধার দেব। চীন আমাদের ঋণ দিচ্ছে, অথচ ওদের ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় ১৮৫ শতাংশ। একশ শতাংশের নিচে কোনো দেশে নেই। আমার লেখা-পড়া যদি সত্য হয়, তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা আশপাশের দেশকে ঋণ দেব।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে পাবলিক-প্রইভেট মিলিয়ে দেড়শর মতো ব্যাংক আছে। টাকা নেই বলে কোনো ব্যাংককেই কোনো চেক রিটার্ন হয়নি। ফারমার্স ব্যাংককে আমরা হাতে নিয়েছি। এটা লুটপাট এবং শেষ হয়ে গেল এমন মন্তব্য করার সুযোগই এ মুহূর্তে নেই।

শিক্ষিত বেকারের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা বেকার রয়েছেন তারা এ কাজ করবে না, ময়মনসিংহ যাবে না, গুলশানে না হলে যাবে না, আইটি সেক্টরে কাজ করবো না। আমাদের লেবার যারা, কোথাও বেকার নেই। কতো ধরনের ব্যবসা যে এই মুহূর্তে ঢাকায় আছে, উবার, সাইকেল উবারও বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি যারা বেকার আছে তারা ইচ্ছা করেই বেকার।

এর আগে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ইদানিং দেশের পাঁচ শতাংশ লোকের আয় কতগুণ বেড়েছে তা আমরা জানি না। তবে যা বেড়েছে তা অবিশ্বাস্য। তারা সারা বিশ্বে বাড়ি-ঘর কিনছে। তাদের টাকা রাখার জায়গা নেই। সাধারণ মানুষের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে এ পাঁচ শতাংশ মানুষকে ট্যাক্সের আওতায় আনা গেলে, এনবিআরের ট্যাক্স আদায় বহুগুণ বেড় যাবে।

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংক লুট করছে, আপনারা তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দিচ্ছেন। আবার যারা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। ব্যাংকিং ডিভিশন বলে আপনারা যে জিনিসটা তৈরি করেছেন, এটাকে অবলপন করে দেন। দয়া করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজগুলো তাদের করতে দেন।

একটি হোটেলে ব্যাংক মালিকদের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে হোটেলে নিয়ে সিআরআর কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। চিন্তা করেন ইনস্টিটিউটশন কোথায় গেছে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর একটি প্রতিষ্ঠান, ওই প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা প্রশ্নাতীত। সেই গভর্নরকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হোটেলে। কারা হোটেলে? সব ব্যাংকের মালিকরা বসে আছে। তাদের বড় অংশই ব্যাংক লুটেরা। ব্যাংক লুটপাট করে এমন জায়গায় নেয়া হয়েছে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, পাঁচ শতাংশ মানুষের মধ্যে কারা আছে দেশের মানুষ তা জানে। কারা ফারমার্স ব্যাংক লুট করেছে? কারা ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুট করেছে? কারা মেগা প্রজেক্টের নামে টাকা বাইরে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর তো ৮-১০ মিলিয়ন ডলার বাইরে যাচ্ছে। এ টাকা কারা নিয়ে যাচ্ছে? তাদের সম্পদ বিদেশে থাকল, আইন মেনে আপনি এদের চিহ্নিত করেন।

নতুন অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে ব্যবসায়ী নেতা মনজুর আহমেদ বলেন, এ বাজেট শুধু ব্যবসায়ী বিরোধী নাই, এটা সরকার বিরোধী বাজেট। যারা ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছেন এবং যারা ট্যাক্স দিচ্ছেন না তাদের মধ্যে বিরাট গ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে করজাল বাড়াতে হবে। আমরা এ জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে ছিলাম। কিন্তু বাজেটে তার কোনো প্রতিফল হয়নি।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ৩২ বছর ধরে আমরা আর্থিক খাতের সংস্কারের কথা বলে যাচ্ছি। কিন্তু সেই সংস্কার আসছে না। সংস্কার না হওয়ায় অর্থনীতি ডাইবেটিস রোগীর দিকে চলে যাচ্ছে।