ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ, সুষ্ঠু নির্বাচন চায় বিএনপি

গাজীপুর সিটি নির্বাচন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪৫:পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ার এক মাস ১২ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার। ঈদের আমেজে নির্বাচনী আমেজ হারিয়ে গেছে অনেকটা। ঘুমিয়ে থাকা ভোটারদের জাগ্রত করার প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।

মান-অভিমান ভুলে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর জেলা ও মহানগরের সব শীর্ষ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রচারণায় উপস্থিত থাকলেও সাধারণ ভোটারদের তেমন দেখা যায়নি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেসব ভাসমান ভোটারের হাতে মেয়র প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে, সেসব বহিরাগত ভোটারের বেশির ভাগই গতকাল রোববার পর্যন্ত কর্মস্থল গাজীপুরে ফিরে আসেনি। এই ভাসমান ভোটারদের বেশির ভাগই পোশাক কারখানার শ্রমিক। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে ভোটের আগে এ ভাসমান ভোটারদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে প্রথম থেকেই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়। ঈদের ১০ দিন পর ২৬ জুন গাজীপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের ছুটি শেষে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত নারী-পুরুষ লাখ লাখ শ্রমিক যাতে মহানগরে ফিরে আসে সেজন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি প্রার্থী হাসান সরকার প্রথম থেকেই ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। রমজান মাসে ইফতার মাহফিল করে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করেছেন প্রার্থীরা। তবে ঈদের ছুটি শেষে ভোটাররা গাজীপুরে ফিরে আসার পর পুরোদমে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড জমে উঠবে বলে মনে করছেন প্রার্থীরা। গাজীপুর ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৫ লাখ ভোটার নিজ নিজ জেলা থেকে আজকালের মধ্যেই কর্মস্থলে ফিরে আসবেন বলে ধারণা করছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গাছা কমান্ড কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত পথসভায় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে সন্তান হিসেবে ভালোবেসে আজ এই পথসভার আয়োজন করেছেন। আমি সবার সহযোগিতা নিয়েই নৌকাকে বিজয়ী করতে চাই।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মহির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা ইউনিট কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. আজমত উল্লা খান, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ, ডেপুটি কমান্ডার মোহর আলী, আবদুর রউফ নয়ন, জাতীয় পার্টির নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান সরকার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক ঈদ পুনর্মিলনী সমাবেশে তার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। হাসান সরকার বলেন, সিটি করপোরেশন মেয়রের চেয়ারটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এটি জ্ঞানী ও বয়স্ক মানুষের চেয়ার। মেয়র নির্বাচন কোনো ছেলে খেলা নয়। আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, গাজীপুর সিটিতে বিএনপির বিজয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন এক সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে গত নির্বাচনের মতো এবারও বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হবে।

গাজীপুর পৌর বিএনপি সভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, আহামদ আলী রুশদী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ প্রমুখ।

দুই প্রার্থীর শুভেচ্ছা বিনিময় :এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির প্রার্থী হাসান সরকার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। টঙ্গী বাজার আনারকলি রোডে মুক্তিযোদ্ধা কাজী নূর মোহাম্মদের জানাজায় এসে তারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

গাজীপুরের রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় মনোনীত সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ঈদের নামাজ আদায় করেন টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। নামাজ শেষে দুই মেয়র প্রার্থী তাদের কর্মী-সমর্থকসহ টঙ্গী বাজার আনারকলি রোডে মুক্তিযোদ্ধা কাজী নূর মোহাম্মদের জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আগে তারা এক অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। সমকাল

Print Friendly, PDF & Email