মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরের ক্ষেতাছিড়ার বেরিবাঁধ এখনও বিধ্বস্ত

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | আপডেট: ৫:৩২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ৮ বছর
মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরের ক্ষেতাছিড়ার বেরিবাঁধ এখনও বিধ্বস্ত

শিবাজী মজুমদার শিবু, মঠবাড়িয়াঃ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ৮ বছর পার হলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ^র নদ তীরবর্তী সাপলেজা ইউনিয়নের ক্ষেতাছিড়া গ্রামের বেরিবাঁধ আজও বিধ্বস্ত অবস্থা । সিডরে ক্ষেতাছিড়ার বেরিবাধ ভেঙে সাপলেজা ইউনিয়নে ৮৬জন মানুষের প্রাণহানী ঘটে। এর মধ্যে ক্ষেতাছিড়া গ্রামের জেলে পল্লীতেই নিহত হন ৫৪জন মানুষ। ঘূর্ণিঝড় সিডরে বিধ্স্ত যে বেরিবাঁধের কারনে জলোচ্ছাসে মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়েছিল । সিডরের আট বছরে দুর্গত মানুষেরা কিছুটা ঘুরে দাড়ালেও ক্ষেতাছিড়া মোহনার বেরিবাধ আজও বিধ্বস্ত ।

ক্ষেতাছিড়া গ্রামের সিডরে স্বজন হারা জেলে খলিল শরীফ জানান, ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের ভয়াল রাতে ক্ষেতাছিড়া গ্রামের বলেশ^র নদ মোহনায় প্রথম জলোচ্ছাস আঘাত হানে। মুহূর্তেই বেরিবাধ উপচে আর বাধ ভেঙে ভাসিয়ে নেয় পুরো গ্রাম। ভয়ালতার রাতে তার পরিবারের ৭জন জন সদস্যসহ পুরো গ্রামে ৫৪জন মানুষের প্রাণহানী ঘটে। সেই রাতে জেলে খলিল শরীফ গাছ আকড়ে বেঁচে থাকলেও তার পরিবারের ৭ সদস্য নিহত হন। বৃদ্ধা মা আলেয়া বেগম, স্ত্রী রওশন আরা, মেয়ে কারিমা, তিন নাতি সোনিয়া(৮) ও সিদ্দিক(৫), মিরাজ (৩) ও ভাই জলিল শরীফের স্ত্রী তাছলিমা বেগম নিহত হন। নিহতদের ক্ষেতাছিড়া বেরিবাধের পাড়ে গণকবর দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর হতে ১৯ কিলোমিটার দুরে সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ^র নদ তীরের সিডরের উৎসমুখ ক্ষেতাছিড়া গ্রাম পরিদর্শন করে দেখাগেছে, সিডরের জলোচ্ছাসের ক্ষত নিয়ে বিধ্বস্ত কোন মতে টিকে আছে বাধ। বাবুরহাট থেকে ক্ষেতাছিড়া হয়ে কচুবাড়িয়া পর্যন্ত নদী তীরের প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধ এখনও বিধ্বস্ত। ক্ষেতাছিড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে হাজিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার বিপর্যস্ত সড়কটি আজও পাকা হয়নি। জেলে অধ্যুষিত এ গ্রামের মানুষের বাঁধ ধসের আতংক আজও কাটেনি।
৯৬ নম্বর ক্ষেতাছিড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশীদ মোল্লা বলেন, সিডরের পর ক্ষেতাছিড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিধবস্ত হলে সিডর পরবর্তী স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়। তবে ছোট ও অপরিসর এ সাইক্লোন শেল্টারে ২০০ মানুষের বেশী আশ্রয় নিতে পারেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে ৩০ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১৩ সালে বেরিবাধ ও ব্লক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। ক্ষেতাছিড়া গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেন বলেন, বাবুর হাট থেকে ক্ষেতাছিড়া বাঁধের সাড়ে তিন কিলোমিটারে বিধ্বস্ত বাঁধের বাইরে এখনও ৪৫০ জেলে পরিবারের বসতি । তাদের অনেকেরই বসতির জমি নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাঁধে মাটি ভরাট আর কিছু অংশে দায়সারা ব্লক নির্মাণ কাজ চলছে। তবে তা জলোচ্ছাসের দুর্যোগ ঠেকাতে কোন কাজে আসবেনা ক্ষেতাছিড়ার দুর্গত মানুষদের।

পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) প্রকল্প পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মঠবাড়িয়ার ক্ষেতাছিড়ায় বেরিবাধ নির্মাণ ও ১৮০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ চলছে। বেরিবাধের পাড়ের বসতি সরিয়ে না নেয়ায় আপাতত বাঁধে মাটি ভরাটের কাজ থমকে আছে । কাজটি সম্পন্ন হলে জলোচ্ছাসের কবল হতে ক্ষোতাছিড়ার মানুষ রক্ষা পাবে।

Print Friendly, PDF & Email