ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সাথেই গড়ে উঠছে বেসরকারি ক্লিনিক

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৪৫:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

 

সিরকারি বিধি বিধান উপেক্ষা করে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের পূর্ব পাশে মাত্র ৩৫ গজ দূরত্বে বায়তুল আমান জামে মসজিদের পিছনে গড়ে উঠছে একটি বেসরকারী ক্লিনিক। ২০১৬সালে প্রথমে তারা হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ভবনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করে। এরপরে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রস্তুতি নেয় ক্লিনিক স্থাপনের। রোগী বেশি পেতে মালিকানায় অংশিদার করা হয়েছে চিকিৎসক এবং ভবনের নিশ্চয়তা বিধানে মালিকানায় অংশিদার করা হয়েছে ভবন মালিককেও। নিয়মানুযায়ি সরকারি হাসপাতালের ৩’শ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থাকতে পারবে না। সরকারি এ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এ বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশে রয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক গঠন এবং পরিচালনার দিকনির্দেশনা। বেসরকারি ক্লিনিক সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় সরকারী মানসম্মত সেবা না পাবার আশঙ্কা করছেন সাধারণ রোগীরা। ২০১৬ সালে স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে শুধুমাত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু করে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগ করা দালালরা রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। ফলে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে চলতি বছরের ২ অক্টোবর র‌্যাব কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ ক্লিনিকের একাধিক দালাল আটক হলেও জরিমানার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন মালিকপক্ষ। এর পূর্বে গত মে মাসের ২৮ তারিখে সদর হাসপাতালের পিছনে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে দালালদের মধ্যে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার ঘটনায় ঘটে যায় তুলকলাম কান্ড।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের পূর্ব পাশে বায়তুল আমান জামে মসজিদের পিছনে স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। সে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে “শিঘ্রই শুভ উদ্বোধন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত, ঝালকাঠি জেলায় এই প্রথম অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বেসরকারী হাসপাতাল, স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ আলী, ক্লিনিক বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, থেরাপি বিভাগ, শিশু বিভাগ, ডেন্টাল বিভাগ, জরুরী বিভাগ, চক্ষু বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, ২৪ ঘণ্টা আমরা আপনাদের সেবায় নিয়োজিত, সদর হাসপাতাল রোড (গুরুদাম ব্রিজ সংলগ্ন) ঝালকাঠি।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে। যারা রোগীদের ভালো চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করিয়ে থাকে। ফলে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হারিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন । অন্যদিকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় চলে দালাল চক্রের বেপরোয়া বিচরণ।
সূত্র জানায়, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে কিছু অসাধু কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও দালালদের অলিখিত চুক্তিতে কোনো কোনো রোগের চিকিৎসাই মেলে না। এরপর দালাল আর কর্মকর্তাদের প্ররোচনায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে যান পাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে ছলে বলে কৌশলে আর্থিক ব্যয় বাড়ানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোটা অঙ্কের রসিদ। ঝালকাঠি পৌরসভার সার্ভেয়ার মোঃ গিয়াস মল্লিক জানান, সদর হাসপাতাল থেকে নির্মিতব্য স্কয়ার ক্লিনিকের দূরত্ব মাত্র ৩৫ গজ।
ঝালকাঠি স্কয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী জানান,“আমরা ক্লিনিক করার জন্য সিভিল সার্জনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। দূরত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, কতদূর দূরত্বে স্থাপন করেছি তা সরেজমিনে এসে দেখে যান। অনেকেই এ প্রশ্ন করেছে, তখন আমি তাঁদের উত্তর দিয়েছি বারডেম-পিজি হাসপাতালের কাছাকাছিই রয়েছে অনেক বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক। তখন তারা সবাই চুপ হয়ে গেছে”।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান,“এধরণের কোন ক্লিনিক নির্মাণের অনুমতি আমরা এখনও দেই নাই। স্কয়ার ক্লিনিককে অনুমতি দিয়েছিলাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে একটি বেসরকারী ভবনে। সদর হাসপাতাল থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে কোনভাবেই কোন উঠানোর অনুমতি দেয়া হবে না”।

Print Friendly, PDF & Email