কলাপাড়ায় প্রতিদিনই বসে বদলার বাজার

শ্রম বিনিময় ও কেনা-বেঁচা ॥

প্রকাশিত: ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৩৮:পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮
কলাপাড়ায় প্রতিদিনই বসে বদলার বাজার

কলাপাড়ায় মানুষের শ্রম কেনা-বেচার জন্য বসে বদলার বাজার। প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত মেলে এ বাজার। গ্রাহকরা যে যার পছন্দমত এখান থেকে কিনে নিয়ে যায় শ্রমিক ।

উপজেলার পৌরভবন সংলগ্ন এতিমখানা মাদ্রাসার পাশে প্রতিদিন সকালে বসে বদলার বাজার। এখানে ৭০ বছরের বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে ১৪ বছরের যুবকরা আসে কাজের খোজে।

 

গ্রামাঞ্চলে কাজ কম থাকায় প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত শ্রমিকরা এখানে আসে বিক্রি হতে। এই শ্রমবিক্রির বাজার শ্রমিকদের কাছে পরিচিত হওয়ায় কলাপাড়ার টিয়াখালী, চাকামাইয়া, নীলগঞ্জ, ধানখালীসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা এখানে ছোট একটি পোটলা ব্যাগ নিয়ে আসেন। ব্যাগের ভিতরে থাকে পুরাতন জামা কাপড়। কাজের সময় তারা এ পোষাক পড়ে কাজ করেন। শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ কৃষিকাজসহ বাসা বাড়ির কাজের জন্য কিনে নিয়ে যায় তাদের। চলে অন্যান্য পন্যের মত দর কষাকষি। সকালের চাহিদা একটু বেশি। সকালে শ্রমিকরা দামও পান একটু বেশি। দুপুর গড়িয়ে আসলে দাম একটু কমে যায়। তবে কোন শ্রমিক এখানে অবিক্রিত থাকেনা।

 

ক্রেতাদের কাছে কেউ একমাস, কেউ এক সপ্তাহ, কেউবা আবার একদিনের জন্য বিক্রি হয়। এই শ্রমজীবি মানুষগুলো অনেকেই আশ্রয়হীন অথবা হতদরিদ্র। সারাদিন খাটুনির পর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে পান একজন শ্রমিক। শ্রম কেনা মালিকের উপর নির্ভর করে তাদের দাম। তবে এখানে বৃদ্ধের চেয়ে যুবকদের চাহিদা একটু বেশি। প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বাজার হওয়ায় শ্রম বিক্রির বাজার এদিন একটু বেশি জমজমাট থাকে। স্থানীয় ভাবে এসব শ্রকিদের অনেকে বলে শ্রমজীবি, আবার কেউ বলে দিনমজুর, কেউ বা আবার বলে বদলা।

কাজরে সন্ধানে আসা টিয়াখালীর শ্রমিক আ. বারেক বলেন, এখন গ্রামের বাড়িতে কাম-কাজ একটু কম। গ্রামে একদিন কাজ করলে দুদিন বসে খেতে হয়। এভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া এই শহরে কাজের চাপ একটু বেশি। তাই প্রতিদিন সকালে কাজের খোজে এখানে ছুটে আসি। নীলগঞ্জ থেকে কাজের সন্ধানে আসা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রজব আলী জানান, আমাদের মত বৃদ্ধের চাহিদা খুব একটা নেই বললেই চলে। তবে জোয়ানদের চাহিদা অনেক বেশি। সারাদিন হাড় ভাঙা খাটুনির পর গড়ে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা পাই। আর এই টাকা দিয়েই সংসারের ভরপোষন বহন করি।

পৌর শহরের বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান বলেন, নতুন বাড়ি করেছি, এখন চারা রোপন করতে হবে। তাই লোকের সন্ধানে এখানে এসেছি। ৪৫০টাকা মজুরিতে তিন দিনের জন্য তিনজন লোক নিয়েছি। পৌর শহরের আরেক বাসিন্দা রাসেল জানান, আমাদের ওখানে মাহফিল হবে। মাঠ পরিষ্কার করার জন্য লোক খুজছিলাম। এখানে লোক পেয়েছি। ৫০০টাকা করে একদিনের জন্য দুইজন লোক নিয়েছি।