ছাত্রীদের সঙ্গে ফেসবুকে অশ্লীল চ্যাট, শিক্ষক বহিষ্কার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫৭:পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০১৮

নারায়ণগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় চ্যাটিং, আপত্তিকর ছবি প্রদান, যৌন হয়রানির অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষকের নাম আবুল খায়ের। তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফতুল্লার কাশীপুর হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি বুধবার এক জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবুল খায়েরকে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছে।

এদিকে শিক্ষকের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুই শিক্ষার্থীর স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড় চলছে। তারা ওই শিক্ষকের বিষয়ে নানা কথা তুলে ধরেন সেখানে।

গত মঙ্গলবার (১লা মে) কাশীপুর হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল খায়েরের নামে ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মালিহা তাহসিন মিম। তিনি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘পুরুষ স্কুলশিক্ষকরা ছাত্রীদের সঙ্গে মেসেঞ্জারে বাজে বাজে চ্যাট করছে, বাজে ছবি এবং ভিডিও দিচ্ছে…

ওরা কেমন শিক্ষক? মেয়েরা এখনো কতোটা নিরাপদ?? শিক্ষক তো অভিভাবকদের মতো হওয়া উচিত। সমপ্রতি একটা ঘটনা এই নারায়ণগঞ্জে… কাশিপুরের অনেকেই এই ঘটনা জানেন… এমনকি সমপ্রতি সে মারও খাইসে শুনছি    ইনভেস্টিগেট করে দেখুন সত্য কিনা… আমরা চাই না কোনো স্কুলের সম্মান এই সমস্ত শিক্ষকের জন্য নষ্ট হোক…

এমন শিক্ষক নারায়ণগঞ্জের জন্য লজ্জা।’ যদিও মালিহা তার স্ট্যাটাসে কোনো শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেননি।

কিন্তু পরবর্তীতে ওই ফেসবুক আইডিতে যোগাযোগ করলে তিনি আবুল খায়ের নামে এক শিক্ষকের নাম প্রকাশ করেন।

এর পর থেকেই যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখা যায়। বুধবার (২রা মে) উক্ত ঘটনার সত্যতা জানিয়ে এনামুল ফেরদৌস নামের একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো।

‘সমপ্রতি আমার স্কুল/আমাদের স্কুল কাশীপুর হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের আবুল খায়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সত্য। সে স্কুলের সদ্য প্রাক্তন (এসএসসি) এবং বর্তমান ছাত্রীদের সঙ্গে ইমু, মেসেঞ্জার, কোচিং সেন্টারে এনে পরীক্ষার নাম্বার বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে কুরুচিপূর্ণ ছবি নেয়। তার সুবিধা মতো তার বিছানায় যেতে বাধ্য করে এবং ভিডিও করে রাখে তার ব্যক্তিগত মোবাইল এবং ল্যাপটপে। এই সকল ছবি, ভিডিও দেখায় এবং ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে বার বার শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। এমন একজন ভুক্তভোগী আয়াদের কাছে অভিযোগ করে (এলাকার যুবক)। তার কথার উপর ভিত্তি পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪

করেই শিক্ষকের বাড়িতে যাওয়া হয়। অতঃপর শিক্ষকের মোবাইল, ল্যাপটপ ঘেঁটে ৫/৬ জন শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও পাই। ঘর তল্লাশি করে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ড্রিংকস, ট্যাবলেট, মেয়েদের বিশেষ সময়ের অন্তর্বাস। প্রায় ২০ জিবি পর্নো ভিডিও পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে স্কুলের ২জন শিক্ষক, কাশীপুর সমাজ উন্নয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খবর পেয়ে ছুটে আসেন এবং তার কৃতকর্মের বিবরণ শুনে হতবাক হন। এ সময় তাদের সামনে সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমাদের এলাকার মাননীয় স্কুল কমিটি, প্রধান শিক্ষকের হাতে…

আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

ওদিকে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিন হাটখোলা এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ১৪ বছর যাবৎ আবুল খায়ের হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়াতেন। এরমধ্যে হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য এসএসসি দেয়া এক ছাত্রীকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে তিনি বাসায় গিয়ে পড়াতেন। ওই ছাত্রীর সঙ্গেই অশালীন আচরণের অভিযোগ এনে গত বুধবার (৩০শে এপ্রিল) ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা ও এলাকাবাসী আবুল খায়েরের বাসায় হানা দেয় এবং তার ল্যাপটপে অপ্রীতিকর ছবি ও ভিডিও পায়। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আবুল খায়েরকে মারধর করে। এ বিষয় জানাজানি হয়ে গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডেকে আবুল খায়েরকে বিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন।

এ বিষয়ে হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হক জানান, ‘আমরা খায়ের স্যারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে জানতে পেরেছি। অভিযোগ জানার পর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, বুধবার (২রা মে) জরুরি সভায় বহিষ্কার করা হলেও তা কার্যকর হবে ১লা মে থেকে।

তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল খায়েরের বাসায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা না বলে ফোন রেখে দেন। এরপর একাধিকবার তার মোবাইলে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।