দশমিনায় লোকসান গুনতে গুনতে পোল্ট্রি খামারিরা দিশে হারা

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮
অস্বাভাবিক হারে ডিমের মূল্য কমে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার লেয়ার পোল্ট্রি খামারিরা। লোকসান গুণতে গুণতে খামারিদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেউ কেউ লোকসানের বোঝা কমাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই পোল্ট্রি খামারের ডিম দেয়া মুরগিও বিক্রি করে দিচ্ছেন। অপরদিকে লাভ হচ্ছে না ব্রয়লারেও। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলার লেয়ার ও ব্রয়লার পোল্ট্র্রি্র খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিম উৎপাদনের ৩০৯টি লেয়ার ও মাংস উৎপাদনের ৩৯৭টি ব্রয়লার পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এর মধ্যে লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১০০টি ব্রয়লার এবং প্রায় ১৫০টি লেয়ার পোল্ট্রি খামার। বর্তমানে এ উপজেলা থেকে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩১৪টি এবং মুরগির মাংস উৎপাদন হচ্ছে ২০ হাজার ৩০০ কেজি। ডিমের দাম পড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন এ উপজেলার লেয়ার পোল্ট্রি খামারিদের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
পোল্ট্রি খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, উপজলায় ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ২ হাজার পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠে। একসময় দশমিনাকে বলা হতো পোল্ট্র্রি শিল্পের উপজেলা। দেশের প্রাণিজ আমিষের অনেকটাই সঙ্কুুলান হতো এখানকার পোল্ট্রি খামার থেকে। কয়েক দিনে খামারিদের ডিমপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টাকা। কিন্তু এ ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকায়। এতে প্রতি ডিমে লোকসান হচ্ছে এক থেকে দেড় টাকা। এ হিসেবে শুধুমাত্র ধামরাই উপজেলার খামারিরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
অপরদিকে ব্রয়লার পোল্ট্রি খামারে প্রতি কেজি মুরগি উৎপাদন খরচ কখনও বেশি, কখনও কম হচ্ছে। এতে মুরগি বিক্রি করে কখনও লাভ, কখনও ক্ষতি আর কখনও বা খরচ-বিক্রি সমান সমান থাকছে। দিন দিন খাদ্য, বাচ্চা, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ছে। এতে বেশির ভাগ সময় লোকসান গুনতে হয় খামারিদের।
এ বিষয়ে স্থানীয় ডিমের আড়তদার শাহজাহান শিয়ালী বলেন, ডিমের দাম নির্ধারণে কোনো সিন্ডিকেট নেই। ডিমের দাম এমনিতেই কমে গেছে। এতে খামারিরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সঙ্গে আমিও।
সরেজমিন জানা যায়, দশমিনা  উপজেলার দক্ষিন দাসপাড়া গ্রামে, নতুন বাজার, বাশবাড়িয়া, ঢনডনিয়া, বটতলা, চরহোনাবাদ, কলেজ পাড়া, পুজা খলায়, দশমিনা বাজারসহ  বিভিন্ন এলাকায় লেয়ার ও ব্রয়লার পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে।
পোল্ট্রি খামারিরা ব্যাংক, ব্র্যাক, অন্য এনজিও বা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খামার গড়েছেন। আরজ বেগী বাজার এলাকার আচার্য পোল্ট্রি খামারে ডিম তোলার ফাঁকে পতিক আচার্য জানান, তিন লাখ টাকা লোন নিয়ে তিনি এ পোল্ট্রি খামারটি গড়েছেন। সঙ্গে বাড়ির গাছপালা, গরুসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেও টাকাও খাটান এখানে। মাস গেলে তাকে ১৬ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি গুনতে হয়। কিন্তু ডিমের দাম কমে যাওয়ায় প্রতিদিনই ক্ষতি হচ্ছে। এখনতো তার চালানও হারিয়ে গেছে। আলঙ্গীর রাড়ি পোল্ট্রির জানান, তার দুই শেডে ২ হাজার ৩০০ মুরগি আছে। এর মধ্যে এক সেটে ১ হাজার ১০০টি মুরগি প্রতিদিন ৮০০ ডিম দিচ্ছে। কিন্তু দাম কমে প্রতি ডিমে এক থেকে দেড় টাকা করে ঘাটতি হচ্ছে। ৮০০টি ডিমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। এতে এক মাসে লোকসান হয় ৩৬ হাজার টাকা। আরেক খামারি নজরুল ইসলাম জানান, ডিমের দাম কমায় মাসে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
দশমিনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, কোন খামারি যদি আমাদের কাছে আসে আমরা তাদেরকে প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে এ ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করে থাকি। তাছাড়াও আমাদের মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক ভি.এফ.এ ডাক্তার রয়েছেন।