কনের সাজ ও কিছু কথা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৭:১৫:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৮
কনের সাজ ও কিছু কথা
বিয়ে প্রতিটি মেয়ের জীবনেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। অন্যরকম একটি মুহূর্ত। এ সময় সবাই চায় নিজেকে সুন্দর করে তুলতে। আর এর জন্য চাই পূর্ব প্রস্তুতি। বিয়ের কেন্দ্রীয় আকর্ষণই কনে। নতুন জীবনে প্রবেশের সময় প্রিয় মুহূর্তগুলোতে আমরা প্রত্যেকেই চাই নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে। যতই ব্যস্ততা থাকুক বিয়ের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে পার্লারে বা ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা শুরু করা উচিত। পাশাপাশি কনের সাজকে অতুলনীয় ও প্রাণবন্ত করে তুলতে রূপসজ্জার সঙ্গে সঠিক ডায়েট করতে হবে। বিয়ের প্রস্তুতিতে শুধু রূপ নয় ব্যক্তিত্বেরও যেন প্রতিফলন ঘটে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। বিয়ের আগে প্রয়োজন ত্বকের সঠিক যত্ন। তাই কনের সামনে থাকতে হবে একটি গাইডলাইন। ত্বক এবং চুলের বাড়তি যত্ন এ সময় অতি জরুরি।
ত্বকের যত্নঃ ত্বক পরিষ্কার,  টান টান ভাব বজায় এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ফেসিয়ালের কোনও বিকল্প নেই। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এর পরিচর্যায় ফেসিয়াল এক কার্যকর উপায়। তাই বিয়ের দিনক্ষণ  ঠিক হলে ভালো পার্লারে গিয়ে দক্ষ হাতে ফেসিয়াল করে নিন। ফেসিয়াল করতে হবে অন্তত ১ মাস আগে। তারপর ১৫ দিন পর আবার ম্যাসাজ করে নিন। ব্লিচ করে নিন। কারণ বিয়ের আগে স্বাভাবিকভাবেই নানা টেনশনের কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এ কারণেই ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। আর ফেসিয়াল সহ নানা ধরনের ম্যাসাজ ত্বকের আর্দ্র্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। তবে শুধু পার্লারে গিয়ে ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না, অবসর সময়ে ঘরে বসে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বক পরিচর্যা করতে হবে। ত্বকের যত্নে আলু এবং শসার রস খুব উপকারী। আলু এবং শসার রস একসঙ্গে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে বেশ  কয়েকদিন পর্যন্ত সেটা ব্যবহার করতে পারেন।
চোখের উজ্জ্বলতা বাড়াতেঃ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এতে চোখের নিচের কালি দূর হবে। শসা ও আলুর রস গোলাপজলে মিশিয়ে ফ্রিজে ঠাণ্ডা করে নিয়ে তুলায় ভিজিয়ে চোখে দিতে হবে। এভাবে কিছুদিন মিশ্রণটি চোখে লাগালে চোখের উজ্জ্বলতা বাড়বে। চোখের ফোলা ভাব দূর করতে চোখের কাছে আমন্ড তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর পাকা কলা ও পেঁপে পাতলা করে কেটে চোখে দিয়ে রাখতে হবে। এতে চোখের ফোলা ভাব কমবে।
মুখের দাগ দূর করতেঃ ব্রণের দাগ কমাতে নিম এবং চন্দন বাটা একসঙ্গে মেখে ত্বকে লাগাতে হবে। ত্বকে যদি পোড়া দাগ থাকে তবে মসুর ডালের গুঁড়ো, কাঁচা দুধ, আলুর রস পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। ২০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। মুখে কালো ছোপ বা মেছতার দাগ দূর করতে হলে কাঁচা দুধ, তুলসীপাতার রস, ময়দা পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
ঠোঁটের যত্নঃ ঠোঁটের জন্য আমন্ড তেল, দুধের সর ও মধু মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে। ঘাড় ও পিঠের কালো ছোপ দূর করতে মসুর ডাল বাটা, দই এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ঘাড় ও পিঠে লাগিয়ে রাখতে হবে। আধ ঘণ্টা পর আলতো করে ঘষে তুলে ফেলতে হবে।
হাত-পায়ের যত্নঃ হাত-পা কোমল রাখতে ভ্যাসলিন ও গ্লিসারিন মিশিয়ে লাগাতে হবে। হাত-পায়ের কালো ছোপ দূর করতে পাতিলেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে লাগাতে হবে। এরপর পাতি লেবুর ছাল ঘষতে হবে যতক্ষণ না চিনি গলে যায়। মাসে অন্তত দুবার মেনিকিউর ও পেডিকিউর করতে হবে। বাড়িতে করতে হলে প্রথমে গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। ১০ মিনিট পর ভালো করে ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিতে হবে। এরপর পা ধুয়ে ভ্যাসলিন, স্ট্রবেরির শাঁস ও দুধের মাঠা মিশিয়ে লাগাতে হবে। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। কনুই বা হাঁটুর কালো দাগ দূর করতে সপ্তাহে দুদিন পাকা পাতিলেবু ও চিনি মিশিয়ে ঘষতে হবে যতক্ষণ না চিনি গলে যায়। এরপর গ্লিসারিন, নারিকেল তেল ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে হবে। নখে যদি হলদেটে ভাব থাকে তবে পাতিলেবুর রস লাগিয়ে ব্রাশ করে নিতে হবে।
চুলের যত্নঃ তেলের সঙ্গে জবাফুল এবং আমলকি দিয়ে ১০ মিনিট জ্বাল দিন। তেল ঠাণ্ডা হলে ছেকে রেখে দিন। এই তেল ব্যবহারে আপনার চুল পড়া বন্ধ হবে। আর এই কয়েক দিনেই চুল হবে কোমল, মসৃণ। এছাড়াও এক চা চামচ মধু ও যে কোনো ব্র্যান্ডের এক চা চামচ তেল একসঙ্গে মিশিয়ে তুলা দিয়ে মাথায় মাখতে হবে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। চুল ভালো রাখতে নিয়মিত ভিটামিন ই ক্যাপ খাওয়া যেতে পারে। যদি শুষ্ক ও রুক্ষ চুল হয় তবে এক কাপ মাঠা তোলা দুধে একটা ডিম ভালো করে ফেটিয়ে মাথার স্কাল্পে লাগাতে হবে। ১০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। তৈলাক্ত চুলের জন্য দুই মুঠ পুদিনা পাতা আধা গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি ২০ মিনিট ফোটাতে হবে। এরপর ৩০০ গ্রাম শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে পরে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও পার্লারে গিয়ে এই কন্ডিশনিং ম্যাসাজ ও মেহেদি ট্রিটমেন্ট করা যেতে পারে।
খাওয়া-দাওয়াঃ খাবারের ক্ষেত্রে বেশি বেশি ভিটামিনযুক্ত খাবার যেমন ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি’ আছে এমন ধরনের খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত পানি, শাকসবজি, দুধ, দই, পনির, টমেটো, গাজর খেতে হবে। এগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে এবং চুলকে সুন্দর করবে। ভাজাপোড়া যথাসম্ভব না খাওয়াই ভালো এ সময়। প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস ও তাজা ফলমূল খেতে হবে।
চাপমুক্ত থাকুনঃ সারাক্ষণ মানসিক চাপ আমাদের শরীর, মন এবং ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।  মানসিক চাপমুক্ত থাকুন। বিয়ের আগে এবং পরে আমাদের জীবনে বেশ বড় পরিবর্তন হয়। তাই এই সময়টি পরিবারের সবার সঙ্গে উপভোগ করুন।