ঢাকা, ||

ডিগ্রি পরীক্ষার খাতা দেখেছে প্রাইমারির ছাত্ররা

খুনলা: জেলার পাইকগাছায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ডিগ্রি (পাশ) পরীক্ষার খাতা দেখে নাম্বার দিয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমকি পর্যায়ের ছাত্ররা। সম্প্রতি পাইকাগাছার কপিলমুনি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুল হামিদ নিরীক্ষণের জন্য ডিগ্রী পরীক্ষার ৫০০ খাতা নিয়েছেন। কিন্তু সেই খাতা নিজে নিরীক্ষণ না করে তার প্রাইভেট পড়ানো তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ,সপ্তম ও অস্টম শ্রেণির ছাত্রদের দিয়ে নাম্বার বসিয়েছেন। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানা গেছে, তাদের প্রাইভেট শিক্ষক আব্দুল হামিদ তাদের কাছে পরীক্ষার খাতা দিয়ে বলেন, যার হাতের লেখা ভালো তাকে ৭-৮ এবং যার হাতের লেখা খারাপ তাকে ৫-৬ নাম্বার দিয়ে দিবি। এছাড়া তার স্ত্রী আসমাতুল্লানাহার ও পরীক্ষার খাতার গোল বৃত্তগুলো পূরণ করেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হলে তার অফিস সহকারী বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যান বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রভাষক আব্দুল হামিদ শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষার ওএমআর ফর্মে গোল বৃত্ত পূরণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু তৃতীয় শ্রেণির পলাশ, চতুর্থ শ্রেণির ইমন, পঞ্চম শ্রেণির রাখি, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুঁই, উমি ও শাওন, সপ্তম শ্রেণির সুমাইয়া, অস্টম শ্রেণির হাফিজা, হাবিবা, আজগর, পিয়াল ও বকুল পরীক্ষার উত্তরপত্রের খাতায় নম্বর দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জুঁই এর বাবা বদরুল আলম ও মাদ্রাসা শিক্ষক বাহারুল ইসলাম। এ বিষয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ আব্দুল হামিদ বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, “আমি নিজে খাতা দেখছি, বাচ্চাদের দিয়ে খাতা দেখাইনি। তবে তারা আমার কাছে প্রাইভেট পড়ে।” কপিলমুনি কলেজের অনার্সের শিক্ষক প্রতিনিধি তাপস কুমার সাধু জানান, “বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি, সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এটাই আমার কাম্য।” কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ বাহাউদ্দীন বাহার জানান, “আমাদের অনার্সের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ আব্দুল হামিদ যদি এ কাজ করে থাকেন তাহলে তার বিচার হোক সেটা আমি চাই।”
Top