ঢাকা, ||

ড্রাম থেকে উদ্ধার করা লাশটি নরসিংদীর স্কুল শিক্ষিকার

গাজীপুরে ড্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশটি নরসিংদী জেলার পূর্ব ব্রাহ্মনদি এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে এবং আনসার উল্লাহর স্ত্রী নার্গিস বেগমের (৫৪)। আনসার উল্লাহ সাবেক এনএসআই’র কর্মকর্তা। নার্গিস তার দ্বিতীয় স্ত্রী। নিহত নার্গিস নরসিংদীর ঘোরাদিয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। সেখানে থেকেই তিনি চাকরি করতেন। ছুটির দিনে বা কোন প্রয়োজনে ঢাকার বাসায় থাকেন নার্গিস। নিহত নার্গিসের ভাই মো. সাইদুর রহিম জুয়েল জানান, আনসার উল্লাহ সাবেক এনএসআই’র কর্মকর্তা। তিনি ঢাকার ১৭০ নম্বর তেজকুনীপাড়াস্থ বাসায় প্রথম স্ত্রী ও উভয় পক্ষের সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই মেয়ে রয়েছে। নার্গিসের ঘরে তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছোট ছেলে কুয়েট’র তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সবার বড় মেয়েও ঢাকায় বসবাস করেন। জয়দেবপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মন্তোষ চন্দ্র দাস বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে তেজকুনীপাড়ার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নার্গিস। শনিবার ঈদের দিন দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকার কাছে ঢাকা বাইপাস সড়কের কাওরান বাজার আড়তের গেইটের সামনে থেকে ওই নারীর (৫৪) লাশ ড্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার ছেলে নাজিউর রহমান বাবু (২৪) তার মায়ের লাশটি সনাক্ত করেছেন। তার মা নরসিংদী থেকেই স্কুলে চাকুরি করেন বলেন বাবু। ছুটির দিনে বা কোন প্রয়োজনে নার্গিস ঢাকার বাসায় থাকেন। জয়দেবপুর থানার এসআই মন্তোষ বলেন, শনিবার ঈদের দিন সকাল ১১টার দিকে এলাকাবাসী ড্রাম থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে দুপুরে ড্রামে থাকা নারীর আস্ত লাশটি উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশটিতে পঁচন ধরেছে। ধারনা করা হচ্ছে, ২/৩ দিন আগে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর ড্রামে ভরে বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছে। তার পরনে টিয়া রংয়ের সালোয়ার-কামিজ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে কমলাপুরে যান। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষন দাস জানান, নিহতের বুকে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, ২/৩ দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রোববার বিকেলে নিহতের ভাই আহমেদ হোসেন মানিক বাদি হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন। তবে কি কারণে নার্গিসকে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয় বলে জানান জয়দেবপুর থানার এসআই মন্তোষ।
Top