ঢাকা, ||

সিগারেট খাওয়া নিয়ে শাবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পরে এ উত্তেজনা রাত আনুমানিক ১১টা পর্যন্ত চলে। সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। আহতরা হলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অন্তু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন নাইম, ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুউল্লাহ আল মাসুদ এবং সীমান্ত। এরা সবাই ইমরান খানের অনুসারী। আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইমরানের অনুসারী সাজ্জাদ ও তন্ময় সন্ধ্যায় গোলচত্বর এলাকায় সিগারেট খেলে সবুজ গ্রুপের অনুসারী ছাত্রলীগের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মনির তাদের সিগারেট খেতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মনিরের সঙ্গে থাকা কর্মীরা প্রতিপক্ষের তন্ময়কে মারধর করেন। পরে উভয়পক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় সবুজ গ্রুপের অনুসারী কর্মীরা শাহপরান হলে গিয়ে ইমরান খানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি রুম ও দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। শাহপরাণ হলের সহকারী প্রভোস্ট আশীষ কুমার বণিক বলেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের অনুসারী কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। আহতদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানার জন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরে সিনিয়রদের হস্তক্ষপে বিষয়টি মিটমাট হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, জুনিয়রদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের কারণে একটু ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল এক ছাত্রীকে নিপীড়ন ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রেক্ষিতে শাবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির স্থগিত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। প্রসঙ্গত, গত ৮ মে ২০১৩ সালে শাবি শাখা ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদী কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার দুই বছর পর ২০১৬ সালের ১০ মে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম।
Top