জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এমপি জেবুন্নেসার মাতৃভাষা দিবস পালন (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮
জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এমপি জেবুন্নেসার মাতৃভাষা দিবস পালন (ভিডিও)

নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছেন বরিশাল -৫ আসনের (সদর)এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ। 

প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকারে  স্থানীয় সময় ২০ ফেব্রুয়ারি রাত রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহর পর্যন্ত মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

বরিশাল  -৫  আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন,  বিদেশের মাটিতে নিজের মায়ের ভাষা দিবস পালন করছি বলে আজ আমার মধ্যে একটা ভিন্ন রকম ভালো লাগা কাজ করছে। আজ দিনটা আমাদের । বাঙলাই হলো সেই ভাষা, যা বুকের রক্তে অর্জিত হয়েছে, ঠাঁই করে নিয়েছে হৃদতন্ত্রে। সারা বিশ্বে আমরা সেই জাতি – যাঁরা নিজের মুখের ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে। আমরা সেই ভাইদের উত্তরাধিকার ।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে  জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান একুশের প্রথম প্রহরে তিনিসহ যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের ৮ জন সংসদ সদস্য, স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও অন্য কর্মকর্তারা। এসময় দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিউ ইয়র্কের সভাপতি, অন্যান্য নেতৃবন্দ ও নিউইয়র্কে বসবাসরত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিপুল প্রবাসী বাঙালিরা।  বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বেদীতে আসে নতুন প্রজন্মও। এ সময় বাংলা ভাষা ও বাঙালি হিসেবে গর্ববোধের কথা জানায় তারা।

তারা বলেন, এই দিনে বাংলা ভাষার জন্য অনেকে জীবন দিয়েছিলেন। সেই ভাষার প্রতি সম্মান জানাতে ও তাদের সম্পর্কে জানতেই এখানে এসেছি।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টায়  ভাষা শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন। এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।এতে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত সংসদ সদস্য  মুহাম্মদ ফারুক খান, জেবুন্নেছা আফরোজ, মুন্নুজান সুফিয়ান, ইসরাফিল আলম, ফখরুল ইমাম, আনোয়ারুল আবেদীন খান ও রোখসানা ইয়াসমিন ছুটিসহ মিশনের কর্মকর্তারা।

তারা আলোচনা সভায় বক্তারা ভাষা হিসেবে বাংলাকে যথাযথ মর্যাদা দেয়ার আহ্বান জানান।  এছাড়া বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান।

সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলাতে ভাষণ দিয়ে যেভাবে এই ভাষাকে সকলের সামনে তুলে ধরেছিলেন আমাদের সেভাবেই এ ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে উপনীত হয়। আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, লাল-সবুজের পতাকা। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষার মর্যাদা উচ্চ আসনে সমাসীন হয়।’

স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে প্রস্তাবনা রেখেছেন। এটির বাস্তবায়নে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

নিউইয়র্ক ছাড়াও কুইন্সের গুলশান টেরেসে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের আয়োজনে সর্বস্তরের প্রবাসী ভাষা শহীদদের সম্মানে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জ্যামাইকা, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনে প্রবাসী বাংলাদেশীরা নানা আয়োজনে পালন করেন মহান একুশে ফেব্রুয়ারি।
অমর একুশে পালন উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, উডসাইডের গুলশান টেরেসে বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক এবং কুইন্স প্যালেসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে যৌথভাবে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন  (জেবিবিএ-এনওয়াই) এবং জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১ মিনিটে (বাংলাদেশে একুশের প্রথম প্রহর) ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সামনে দ্যাগ হ্যামারশেল্ড পার্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং বাঙালির চেতনা মঞ্চ অমর একুশের বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে।
শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আরো শ্রদ্ধা জানায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবি সংগঠন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্র, সিলেট সদর সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং উপস্থিত প্রবাসী বাঙালিরা।
জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে কর্মসূচির সমন্বয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ। তাকে সহযোগিতা করেছেন জ্যাকসন হাইটসের ব্যবসায়ীরা।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ও ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার অ্যাভিনিউতে প্রবাসীদের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও আঞ্চলিক সংগঠনের উদ্যোগে শহীদ দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুককলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন শহীদ মিনারে ফুল দেয় যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব (এবিপিসি), নিউইয়র্ক প্রেসক্লাব, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পার্টি, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম সমিতি, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন, জামালপুর সমিতি, শেরপুর সমিতি, ময়মনসিংহ এব্রড, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশন, বরিশাল সমিতি ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতি।
অন্যদিকে ফ্লোরিডায় মেট্রোপলিটন আওয়ামী লীগের ব্যানারে অঙ্গরাজ্যটির ওয়েস্ট পামবিচে ফ্লেবার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে শহীদ দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ‘বাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স’-এর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান ও ফোবানার চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান।