সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় সফলতা নেই বাংলাদেশের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩৭:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮
সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় সফলতা নেই বাংলাদেশের

রবিন আকরাম: বিস্তীর্ণ জলসীমায় সমুদ্র অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা এর জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টদের অনভিজ্ঞতা এবং উদ্যোগ গ্রহণের উদাসীনতাকে। ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর দেশ গড়তে এখাতে সরকারি প্রণোদনা এবং দক্ষ জনবল সৃষ্টির পরামর্শ তাদের।

২০১২, এরপর ২০১৪, দুই বছরের ব্যবধানে নতুন যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। জনসংখ্যার ভারে ন্যুজ্ব স্থলভাগের বাইরে সমুদ্রসীমার ১ লক্ষ ১৯ হাজার বর্গ কিলোমিটারে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অধিকার। বিস্তৃত এই জলসীমায় রয়েছে ব্লু ইকোনমি কিংবা সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা। কিন্তু এ সম্ভাবনা কতটা কাজে লাগাতে পেরেছে বাংলাদেশ?

অথচ, সমৃদ্ধিতে আজ যারা বিশ্বের নেতৃত্বে তাদের এগিয়ে যাবার অন্যতম ভিত্তি সমুদ্র অর্থনীতি। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সমুদ্রবক্ষ এবং উপকূলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী আয় হয়েছে ৭.২ ট্রিলিয়ন ডলার। পৃথিবীর মোট বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ চলে সমুদ্র পথে। কৌশলগত অবস্থানে থাকায় একবিংশ শতাব্দীর এই অর্থনীতির সবদিকে যেমন সম্ভাবনায় বাংলাদেশের জলসীমা তেমনি দেশের সমুদ্রসীমার ২৮টি ব্লকে রয়েছে তরল গ্যাসের উজ্জ্বল সম্ভাবনা।

কিন্তু ঐহিত্যগতভাবে উপকূলের কাছাকাছি কিছু মৎস্য আহরণ ছাড়া সমুদ্র অর্থনীতিতে আর কোন সফলতা নেই বাংলাদেশের। কিন্তু বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবদান খুবই নগণ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৪০ থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত আমরা মাছ ধরি। এর পরে আমরা আর পারি না। সার্ভে ডেটা নিয়ে আমাদের গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের আমদানি রফতানি বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনাই বাংলাদেশের জাহাজ রয়েছে মাত্র ২০টি। এদের বেশিরভাগেরই দক্ষ জনশক্তি নেই।

এমন অবস্থায় অপার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির পাশাপাশি, বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার পরামর্শ তাদের।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেই যেই খাতে রেমিটেন্স আসছে । সেই রকম করে বেসরকারি সেক্টরের আগ্রহ তৈরি করতে হবে। একটা অধিদপ্তর গঠন করতে হবে। যে অধিদপ্তর সমুদ্র বিষয়ক সকল বিষয় দেখভাল করবে।’

পৃথিবীর ৪শ ৩০ কোটি মানুষের ১৫ ভাগ প্রোটিনের যোগান আসে সামুদ্রিক মাছ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তু থেকে। সূত্র: সময় টিভি