নাটকে একুশে পদক পেলেন বরিশালের নিখিল সেন

প্রকাশিত: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮
নাটকে একুশে পদক পেলেন বরিশালের নিখিল সেন

শিল্প সংস্কৃতি ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য বরিশালের নিখিল সেনসহ ২১ বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে এ বছরের একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের অয়োজন করে।

জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ২০১৮ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়। পদকপ্রাপ্তদের পুরস্কার হিসেবে একটি সোনার পদক, সনদপত্র এবং ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদকপ্রাপ্তদের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, বিচারপতিবৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপকবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, কূটনিতিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একুশে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন ভাষা আন্দোলনে ভাষাবিদ ড. মো. শহীদুল্লাহর ছেলে ভাষাসৈনিক আ জ ম তকীয়ুল্লাহ (মরণোত্তর) ও শৈল্য চিকিৎসক ভাষাসৈনিক মির্জা মাজহারুল ইসলাম, সংগীতে উপমহাদেশের দিকপাল সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আয়াত আলী খানের ছেলে শিল্পী ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান, শুদ্ধ সংগীত সাধক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও সুরকার সুজেয় শ্যাম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সুরকার গীতিকার ও শিল্পী ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী মো. খুরশীদ আলম ও বিশিষ্ট সেতারবাদক ওস্তাদ মতিউল হক খান, নৃত্যে মুক্তিযোদ্ধা বেগম মীনু হক (মীনু বিল্লাহ), অভিনয়ে হুমায়ুন ফরীদি (মরণোত্তর), নাটকে নাট্যকার ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নিখিল সেন (নিখিল কুমার সেনগুপ্ত), চারুকলায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার, আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা, সাংবাদিকতায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, লেখক ও ভাষাসৈনিক রণেশ মৈত্র, গবেষণায় ভাষাসৈনিক অধ্যাপক জুলেখা হক (মরণোত্তর), অর্থনীতিতে মইনুল ইসলাম, সমাজসেবায় নিসচার (নিরাপদ সড়ক চাই) কর্ণধার চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, ভাষা ও সাহিত্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম খান (কবি হায়াৎ সাইফ), স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সুব্রত বড়ুয়া, রবিউল হুসাইন এবং খালেকদাদ চৌধুরী (মরণোত্তর)।

পদক বিজয়ীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিজ নিজ পদক গ্রহণ করেন এবং মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ীদের পক্ষে তাঁদের ছেলেমেয়েরা এই পদক গ্রহণ করেন।

নিখিল কুমার সেনগুপ্ত:

সবার কাছে তিনি পরিচিত নিখিল দা নামে, পুরো নাম নিখিল কুমার সেনগুপ্ত। বাবা যতীশ চন্দ্র সেনগুপ্ত ও মা সরোজিনী সেনগুপ্তের দশ সন্তানের মধ্যে নিখিল চতুর্থ। ১৯৩১ সালের ১৬ এপ্রিল বরিশালের কলশ গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

মঞ্চে অভিষেক হয় সিরাজের স্বপ্ন নাটকে কিশোর সিরাজের ভূমিকায়। এরপর বহু নাটকে অভিনয় করেন নিখিল সেন। কমিউনিষ্ট আন্দোলনের এই নেতা শুধু সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেই নয়, অবদান রেখেছেন ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধেও। নির্দেশনা দিয়েছে দর্শক নন্দিত ২৮টি নাটকে।

বরিশাল থেকে মাধ্যমিক শেষে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন কলকাতার সিটি কলেজে। সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে আবারো ফিরে আসেন বরিশালে।

শুধু সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেই নয়, ভূমিকা রেখেছেন কমিউনিষ্ট আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং একাত্তুরে মহান মুক্তিযুদ্ধেও। জীবন সায়াহ্নে এসে এমন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়ে অবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।