বিদায় নাকি অবসর

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৩:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

এম এইচ রবিন ও আবু আলী

সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পুণ্যভূমিখ্যাত সিলেটের দুই আসনের সরকারদলীয় এই দুই সংসদ সদস্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে পরবর্তী নির্বাচনের আগে মন্ত্রিত্বের সমাপ্তি ঘটছে কিনা এ আলোচনা এখন সর্বত্র।

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে একের পর এক লুটপাটের দায়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছেই এখন সমালোচনার মুখে মুহিত। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়া শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের আমলে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসও ভাবিয়ে তুলেছে সরকারকে।

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই ঘরে-বাইরে ব্যাপকভাবে সমালোচিত দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে সরকারের নীতিনির্ধারকদের একাংশ। তাদের মতে, মুহিত ও নাহিদের জন্য সরকারকে বারবার বিব্রত হতে হচ্ছে। দুজনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে না দিলে আগামী নির্বাচনে ভোটের বাক্সে টান পড়তে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আরেকাংশের নেতারা মনে করেন, সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে এসে অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ এ মুহূর্তে তাদের সরিয়ে দিয়েও দায় এড়াতে পারবে না সরকার।

সব দিক মিলিয়ে মনে হচ্ছে, দুই মন্ত্রীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। তারা এখনই বিদায় নেবেন নাকি ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাচ্ছেনÑ সময়ই বলবে সে কথা। তবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তাদের যতিচিহ্ন সময়ের ব্যাপার।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ সময়ে ফের আলোচনায় এসেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সব সময়ই বেফাঁস মন্তব্যের জন্য তিনি আলোচনা-সমালোচনায় থাকলেও এবার ভিন্নভাবে উঠে এসেছেন। হঠাৎ করেই শনিবার একটি ব্যাংকের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে অর্থমন্ত্রী পদের দায়িত্ব থেকে অবসর নেবেন। তিনি বলেন, এত বড় লম্বা ক্যারিয়ার খুব ভালো না। বহুদিন থাকলে পরে নিশ্চয় একটা পচন আসে, সে পচনটা মানুষের জন্য, দেশের জন্য মঙ্গল হয় না। সুতরাং আমার সে রকম চিন্তা-ভাবনা খুবই প্রয়োজন এবং আমি সেটি করেই রেখেছি। এবার সত্যিকারে ডিসেম্বরে অবসরে যাব। অনেক দিন বাকি, আরও ১০ মাস। এমন বক্তব্যের পর দলের ভেতরে এবং বাইরে এবং সরকারি আমলাদের মধ্যে এক ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তাদের মতে, আসলে তিনিই সরে যাচ্ছেন না তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এ বিষয়ে গতকাল দিনভর আলোচনা ছিল সচিবালয়ে এবং পার্টি অফিসে।

৮৫ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী নানা সময়ে আবেগী ও বেফাঁস কথা বলে সমালোচিত হয়ে কয়েক দফা পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা হয়নি। তার আমলেই শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি, হলমার্ক তথা সোনালী ব্যাংক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ দেশে বড় বড় কয়েকটি আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। এর কোনোটিরই সন্তোষজনক সমাধানে আসতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। উপরন্তু যেখানে সেখানে বেফাঁস কথা বলে প্রায়ই সমালোচিত হয়েছেন। এতে শুধু বাইরেই নয়, দলের ভেতরেও সমালোচিত হতে হয়েছে তাকে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে তার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় তার অবস্থান ভালো নয়। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দল আগামী জাতীয় সংসদে নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করবে বলে জানা গেছে।

বেফাঁস মন্তব্যে পটু : ২০১০ সালে শেয়ারাবাজারে কেলেঙ্কারিতে ক্ষত তৈরি হয় দেশের অর্থনীতিতে। সে ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ওই সময় লাখো বিনিয়োগকারী সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব, অনেকেই আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন। শেয়ারবাজার নিয়ে সে সময় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ‘শেয়ার মার্কেটে কোনো ইনভেস্টর নেই, সব জুয়াড়ি, ফটকাবাজ,’ ‘অ্যাই অ্যাম একদম ফেডআপ…।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শেয়ারবাজার বুঝি না।’ আর গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অল আর রাবিশ।’

ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নয় মাস ধরে সরকার থেকে পালানোর চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি সরকার থেকে বের হয়ে যাওয়ার। যদিও সেটা হলমার্ক বা ব্যর্থতার কারণে নয়, সেটি ছিল স্বাস্থ্যগত কারণে।

২০১০ সালের ২৪ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাজেট বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল ভারত থেকে ৮৫ শতাংশ পণ্য এবং সেবা ক্রয় করার শর্তে এক বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির যৌক্তিকতা কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি রাবিশ প্রশ্ন। তার পরও আমি বলছি, অতীতে পণ্য ও সেবা ক্রয় করার শর্তে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ ঋণ নিয়েছে।’ একই অনুষ্ঠানে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে একদিন বাজারে না যাওয়ার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী।

২০১০ সালের ৫ জুলাই উত্তেজিত কণ্ঠে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডির বক্তব্য রাবিশ, টোটালি রাবিশ। আমি খুবই দুঃখিত।’ একই বছর ১৭ আগস্ট অর্থমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ট্রানজিটের বিরোধিতা যারা করে তারা ননসেন্স।’

এর আগে তিনি বাসাবাড়িতে গ্যাস সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ওই বছরের ২ জানুয়ারি অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদকে তিনি বলেন, ‘ইট বিলংস টু আবর্জনা।’

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়ম সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি সম্পর্কে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি বড় ঘটনা নয়।’ উল্টো হলমার্ককে আরও ঋণ দেওয়ার পক্ষে ওকালতি করেন। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, ‘দেশের একমাত্র সমস্যা ড. ইউনূস। তার কথায় সততা নেই।’ পরে বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক সরকার দখল করে নিয়েছে’ বলে ড. ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন, তা ‘টোটালি রাবিশ’।

এর পর বিতর্কিত হন পদ্মা সেতু নিয়ে বেফাঁস কথা বলার জন্য। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সম্পর্কে বিষোদ্গার করে মুহিত বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লোকজন ফোঁপর দালাল। তাদের কারণে ঋণচুক্তি বাতিল হয়েছে।’ সেই বছরের ২৩ ডিসেম্বর বলেন, অর্থনীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের ক্লাস নেবেন অর্থমন্ত্রী। হলমার্ক সম্পর্কে আরেক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না। বিষয়টি নিয়ে বুদ্ধিজীবী ও ব্যাংকাররা হইচই শুরু করেন। বুদ্ধিজীবী ও ব্যাংকারদের কথা রাবিশ ও বোগাস।

২০১৫ সালে শিক্ষকদের অবমননা করে সমালোচনার মুখে পরেন অর্থমন্ত্রী। বেতন বৃদ্ধি ও পদমর্যাদার দাবিতে আন্দোলরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষকদের কঠোর সমালোচনা করে মুহিত বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছে। তাদের এ কর্মবিরতির কোনো যৌক্তিকতা (জাস্টিফিকেশন) নেই। তারা জানেই না নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য কী আছে, কী নেই। না জেনেই আন্দোলন করছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের পর অর্থমন্ত্রীর ক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের পদ ছাড়তে হয় আতিউর রহমানকে। ওই সময় অর্থমন্ত্রী আতিউরকে বলেন, ‘তিনি পদ ছেড়ে দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক বরং ভালো চলবে।’

২০১৭-১৮ বছরের বাজেট প্রস্তাবনার পর যেন ওলোট-পালোট আচরণই করছেন অর্থমন্ত্রী। ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম কথা বলে বিভ্রান্তি তৈরি করেন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। একবার বলেন, ‘এ ভ্যাট কমানো হবে।’ আবার বলছেন, ‘এ ভ্যাট কমানো হবে না।’ ব্যবসায়ী নেতাদের আন্দোলনের হুমকির জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন করেন কিছু হবে না।’ ৭ জুন আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তাকে ‘খামাখা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাজেটে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে। সিপিডিকে ‘রাবিশ’ বলে আখ্যায়িত করেন।

এর পর আবগারি শুল্ক প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবের আবগারি শুল্ক নিয়ে যে বিতর্ক হচ্ছে তা খামাখা। এ শুল্ক নতুন কিছু নয়, এটি আগে থেকেই ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটের সিস্টেমটা জাস্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। এক লাখ টাকার ঊর্ধ্বের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্নফাঁস আর বেফাঁস মন্তব্যে বিব্রত সরকার

সরকারের অনেক উন্নয়ন কর্মকা- এবং অনেক অর্জন হয়েছে ৯ বছরে। কিন্তু শিক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস আর মন্ত্রীর বেফাঁস মন্তব্যে বিব্রত সরকার। জাতীয় সংসদ থেকে রাজপথে সর্বত্র শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের জোর দাবি উঠেছে। পতদ্যাগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেও দাবি এ মন্ত্রীর।

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি : সরকারকে জড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের দাবি ওঠে জাতীয় সংসদে। ৯ জানুয়ারি অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী এ দাবি তোলেন। এর কিছুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের জের ধরে তাহজীব আলম বলেন, অতিকথন দোষে দুষ্ট শিক্ষামন্ত্রীর অতিবিতর্কিত মন্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে। পত্রপত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘আপনারা সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ খাবেন। ঘুষ খেতে না বলার নৈতিক সাহস আমার নেই। কারণ আমি ঘুষ খাই, মন্ত্রীরা ঘুষ খায়।’ এই বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তাকে অবশ্যই সংসদে দাঁড়িয়ে তার মন্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। সত্যিই তিনি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ হলে জনগণের কাছে সরকারকে বিতর্কিত না করে, ওনার উচিত নিজের পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে ক্ষোভ : জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে তার ব্যর্থতা, দুর্নীতি অনিয়ম স্বীকার করে পদত্যাগের আহ্বান জানান। প্রশ্নপত্র ফাঁস মহামারী আকারে রূপ নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করতে প্রধানমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। জিয়াউদ্দিনের এই বক্তব্যকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান অনেক সংসদ সদস্য। তার বক্তব্যের শেষে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনেছেন, তিনি তার বিবেক বিচেনায় জাতির স্বার্থে যতটুকু করার প্রয়োজন অবশ্যই তিনি করবেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে নোটিশ : দায়িত্বে অবহেলা ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রাথমিক সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), এসএসসি ও এইচএসসিসহ সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ হওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার পদত্যাগ চেয়ে এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আখন্দ।

নোটিশের বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ। সুতরাং তার ওই পদে থাকার অধিকার নেই। তার স্থলে সংবিধানের ৫৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যিনি সংসদ সদস্য নন এমন একজন শিক্ষায় অসামান্য দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত নাগরিককে শিক্ষামন্ত্রী করতে এ নোটিশ।

প্রশ্নফাঁস বন্ধে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রজোট। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস আজ মামুলি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁস বন্ধে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি সরকারের কাছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এ দাবি জানান। গত ৭ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি মনে করি শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ করা উচিত।

প্রশ্নফাঁস রোধ করতে না পারায় অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি করেছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানায়।

পদত্যাগ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি : মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, আমার পদত্যাগ করার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কোনো অন্যায়কারীকে আমরা প্রশ্রয় দেই না। শক্ত হাতে তা প্রতিরোধ করা হচ্ছে। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল এ ধরনের গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। শনিবার রাজধানীর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পদত্যাগ নিয়ে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, আমার পদত্যাগ করা নিয়ে কিছু অনলাইনে নিউজ প্রকাশ করা হয়েছে। পদত্যাগের ফাইল নাকি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। এসব বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ।

তবে এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করতে চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু এতে সায় দিলেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান। এ কথা শোনা যায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাঝে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রী এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা করা হচ্ছে। নানা কথা হচ্ছে। তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই নিত্য-নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন, নতুন নতুন কর্মপন্থা ঠিক করছেন। এরপরও কোনো সুরাহ হচ্ছে না বিধায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে না ভাবার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রণালয়ে অনিয়মে জড়িতদের খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি শক্ত হাতে মন্ত্রণালয় সামলাতে বলেন। প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে বলে৤ আমাদের সময়