তালতলীতে কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিসের জমি বেদখল

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৪৪:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮

বরগুনার তালতলী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কড়ইবাড়ীয়া ইউনিয়ন অফিসের সাইন বোর্ড রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলে জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল হক সিকদার শনিবার সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া অভিযোগে জানা গেছে, কড়ইবাড়ীয়া বাজারের চৌরাস্তার পূর্ব পাশে জেএল নং-৪৫, কড়াইবাড়ীয়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ১৫২৪ নং দাগের ৩ শতাংশ পরিত্যাক্ত জমি কড়াইবাড়ীয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভবন নির্মানের জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কাগজপত্র তৈরী করে উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করেন। সেই মর্মে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম আলী হাওলাদার কড়াইবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি কৃষ্ণকান্ত মজুমদার, কড়ইবাড়ীয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম ও স্থাণীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে ২০১৫ সালে ঐ পরিত্যাক্ত ৩ শতাংশ জমিতে কড়াইবাড়ীয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড অফিস ভবনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বর্তমানে কতিপয় কুচক্রী মহলের চক্রান্তে স্থানীয় আবু কালাম সিকদার, মজিবর ফকির, খালেক মোল্লা, মনির গাজী ও খালেক শরীফ রাতের অন্ধকারে মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া ঐ সাইন বোর্ড সরিয়ে জমি দখল করে সেখানে কাঁচা বাজার বসিয়েছেন।
অভিযুক্তদের পক্ষে আবু কালাম সিকদার, মজিবর ফকির, খালেক মোল্লা মুক্তি যোদ্ধাদের সাইন বোর্ড সরিয়ে জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে কোন সাইনবোর্ড ছিল না। আমরা প্রায় ৫ বছর ধরে ঘড় তুলে কাঁচা মালামাল বিক্রি করছি।
কড়াইবাড়ীয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির তৎকালিন সভাপতি নান্নু সিকদার বলেন, স্থানীয় বাজার কমিটির সাথে আলাপ-আলোচনা করে কড়াইবাড়ীয়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ১৫২৪ নং দাগের ৩ শতাংশ পরিত্যাক্ত জমি কড়াইবাড়ীয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভবন নির্মানের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সাইনবোর্ডও দিয়েছিল। কিন্তু রাতের আধারে এভাবে সাইনবোর্ড খুলে ফেলা অন্যায়।
কড়াইবাড়ীয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঐ জমিতে মুক্তিযোদ্ধারা সাইনবোর্ড দিয়েছে কিন্তু তাদেরকে ঐ জমি দেওয়া হয়নি। তাদের অফিসের জন্য জমির প্রয়োজন হলে আলাপ-আলোচনা করে অন্য জায়গায় জমি দেওয়া হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আকন বলেন, ১নং খাস খতিয়ানের ১৫২৪ নং দাগের পরিত্যাক্ত জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস ভবন নির্মানের জন্য সাইন বোর্ড দেয়া হয়েছিল। ভূমি অফিস থেকে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অফিসের নামে কাগজপত্র তৈরী করে আনতে বলা হয়েছে। এর আগে সাময়িক ভাবে স্থানীয়দের ঐ জায়গায় বসে কাঁচা মাল বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাইনবোর্ড অন্যএকটি ঘরের পাশে আলাদা খুটির সাথে দেয়া রয়েছে। ওই জমি অন্যদের দখলে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা রহমান জানান, খবর পেয়ে লোক পাঠানো হয়েছে। ওখানে মুক্তিযোদ্ধা অফিসের কোন সাইনবোর্ড ছিল না। এ জমি কাউকে বরাদ্দও দেওয়া হয়নি।