`দেশবাসী শান্ত থাকুন’ : খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৩২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮
`দেশবাসী শান্ত থাকুন’ : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেওয়া হয়েছে। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি জেল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশবাসী শান্ত থাকুন।

অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ আরও বলেন, রায় ঘোষণার সময় বেগম জিয়ার বয়স ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি আদালত বিবেচনা করে রায় দিয়েছেন। আমরা রায়ের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই আপিল করবো।

আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার এ রায় ঘোষিত হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেলের পথে নেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। বেলা টার দিকে পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে পৌঁছান তিনি।

আদালতের রায়ে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ১০ বছরের কারাদণ্ডই বহাল রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে অর্থদণ্ড হিসেবে আত্মসাৎকৃত ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আসামিদের পরিশোধ করতে বলা হয়েছে সব আসামিকেই।

এর আগে এ মামলার আসামি বেগম খালেদা জিয়া, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, কাজী সলিমুল হক কামালসহ অন্যদের আদালতে হাজির করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ১টা ৪০ মিনিটে রায় শুনতে গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে পৌঁছান বেগম জিয়া। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও আদালতে এসেছেন। তার গাড়িবহরের নিরাপত্তায় ছিলেন চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স-সিএসএফের সদস্যরাও।

এদিকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আদালতে পৌঁছান বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলার আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে ৯টা ১০ মিনিটে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে কাজী সলিমুল হক কামালকে সকাল ৮টায় আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ মামলার অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী। এ কারণে তাদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তার হাজিরার কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, বর্তমান সভাপতি জয়নুল আবেদীন, মীর নাসির উদ্দীন, নিতাই চন্দ্র রায়, সানাউল্লাহ মিয়া, আজিজুর রহমান খান বাচ্চু, আমিনুল ইসলাম ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ উপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মান্নান, মীর আবদুস সালাম প্রমুখও উপস্থিত হয়েছেন।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার গত ২৫ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক আকতারুজ্জামান রায়ের জন্য দিন ঠিক করেন ৮ ফেব্রুয়ারি।  উল্লেখ্য, ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করে।