নির্বাচন নিয়ে বিএনপির একেক নেতার একেক মত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩৬:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির একেক নেতার একেক মত

সাইদুর রহমান : নিবন্ধন বাঁচাতে হলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে্ই ভোটে থাকতে হবে। বিশেষ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীকদের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোকে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। তবে চলমান দশম সংসদের উপ-নির্বাচনে অংশ নিলে নিবন্ধন বাতিলের জটিলতা কাটবে। আগামী ১৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এবং গাইবান্ধা-১ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিস্থিতিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ও তার নিবন্ধিত শরিকদের উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ৯০ অনুচ্ছেদের ১ ধারার ই উপধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো পরপর দুইবার সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। পরপর দুই সংসদ নির্বাচন বর্জন করার পরও উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিবন্ধন ধরে রেখেছে খেলাফত মজলিস। ২০০৮ সাল থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ?্যতামূলক করার পর দু’টি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধন নিয়ে দু’টি সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়াও সক্রিয় হয়।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০০৮ সালে এটিএম শামসুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সময় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ নিবন্ধন প্রথা চালুর পাশাপাশি কিছু শর্ত প্রতিপালনে ব?্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের সুযোগও রাখা হয়। ২০০৮ সালে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন?্য ছয় মাসের শর্ত সাপেক্ষে (২০০৯ সালের জুলাই) ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে ৩৮টি দল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে নবম সংসদের ভোটে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানে নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে অংশ নেয় ১২টি। নির্বাচন বর্জনকারী ২৮টি দলের মধ্যে ৪টি দল পরবর্তীতে দশম সংসদের উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিবন্ধন বাতিলের জটিলতা এড়িয়েছে। বিএনপি ও তার শরিক জোটের অনেকে এবং আরো কিছু দল একাদশ সংসদে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে। দশম সংসদের সাধারণ নির্বাচনে অংশ না নিলেও পরবর্তীতে মৌলভীবাজার-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ উপ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, মাগুরা-১ ও টাঙ্গাইল-৪ উপ নির্বাচনে এনপিপি, ময়মনসিংহ-৩ উপ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ ন?্যাপ অংশ নেয়। চলমান দশম সংসদের উপ নির্বাচনে অংশ নিয়ে একইভাবে বিএনপিসহ বাকি ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিলের জটিলতা এড়াতে পারবে। ইসির সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেননা পরপর দু’টি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়েও নিবন্ধন বহাল রয়েছে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি খেলাফত মজলিস। দলটি কেন দু’টি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি তা জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দলটি ইসিকে জানিয়েছে, ২০০৯ সালে রংপুর-৩ ও ২০১১ সালে হবিগঞ্জ-১ উপ নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিয়েছিল। তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উপ নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এবং গাইবান্ধা-১ আসনের ভোট ১৩ মার্চ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এবং গাইবান্ধা-১ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৩ মার্চ। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। যাচাই-বাছাই হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। আর ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে। রবিবার ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই সময়সূচি জানানো হয়। গত ৯ জানুয়ারি ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব জানিয়েছিলেন, দুই আসনের উপনির্বাচন ১৩ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ইত্তেফাক।