দুশ্চিন্তায় ২০ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮
দুশ্চিন্তায় ২০ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী

শিমুল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে ঘিরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সাজ সাজ প্রস্তুতির মুখে আগামী ৭ ও ৮ ফেব্রম্নয়ারি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে ২০ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এই দুই দিনের পরীক্ষা বন্ধ রাখতে অভিভাবকরা দাবি জানালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের তরফ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার রুটিন দেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানালেও শনিবারই আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছেন তারা ৭, ৮ ও ৯ তারিখে রাজপথ দখলে রাখবেন। বিএনপির নেতারাও একই সুরে কথা বলছেন। ফলে ৭ তারিখের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং ৮ তারিখের ধর্ম পরীক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এদিকে পরিবহন মালিকরাও এই দিন রাস্তায় গাড়ি নামানো নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের খবর উদ্ধৃত করে পরীক্ষা সংশিস্নষ্টরা বলছেন, সহিংসতা ও বড় কোনো জমায়েত এড়াতে সরকারই এ দিন রাস্ত্মায় কম পরিবহন নামানোর জন্য গোপন সংকেত দিচ্ছে।

পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। ফলে শিক্ষার্থীরা চাইলেও যথাসময়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য থেকে মনে করছেন, রায়ের দিন এবং তার আগের দিন রাস্ত্মায় বের হতে তাদের সমস্যায় পড়তে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়া-আসা নিয়ে তারা দুশ্চিন্ত্মায় রয়েছেন। এ অবস্থায় তারা হয় সুষ্ঠু পরিবেশের সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা অথবা পরীক্ষা বন্ধ করার দাবি করছেন।

তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কিছু বলা হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আরও পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর কয়েকটি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়কেন্দ্রিক কোনো সমস্যা হলে তা রাজধানীর একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে সারাদেশে পরীক্ষা বন্ধ করার মতো কোনো চিন্ত্মা এখনো তারা করছেন না।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সাদিয়াতুন রাবেয়া। তার পিতা জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমার মেয়ের পরীক্ষা সেন্টার আমার বাসা থেকে অন্ত্মত ৬ কিলোমিটার দূরে। রাজনীতিবিদরা যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে মেয়েকে নিয়ে বের হতে পারবেন কিনা জানেন না। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগেই সরকারের উচিত হবে সঠিক সিদ্ধান্ত্ম নেয়া। ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য যেন কোনো হুমকি না হয় সে দিকে সবারই নজর রাখা উচিত। পরীক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক যেমন ক্ষমতাসীন দলের রয়েছেন তেমনই বিরোধী দলেরও রয়েছেন। পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হলে সব দলের লোকই ক্ষতিগ্রস্ত্ম হবে। তাই জাতীয় বিষয়ে সবার ভেবে চিন্ত্মে কাজ করা উচিত।

পরীক্ষা হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক মো. জহুর মোড়ল বলেন, প্রথমে ভেবেছিলেন কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু এরই মধ্যে একদফা সহিংসতা হয়ে গেছে। আরও বড় ধরনের অশান্ত্মি যে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ৮ তারিখে সহিংসতা যে হবে তা রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা থেকেই বুঝা যাচ্ছে। সমস্যার সমাধান করতে না পারলে পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া উচিত হবে। শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকিতে ফেলার চেয়ে পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়াই বেশি নিরাপদ।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির কর্মসূচির উপর নির্ভর করবে সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে। তবে পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সে দিকে লক্ষ রাখা হবে।

আরেক সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান বলেন, বিএনপি অতীতেও এসএসসি পরীক্ষার সময় অবরোধ, সহিংসতা ও নৈরাজ্য করেছিল। তাদের এ বিষয়ে খেয়াল রাখার সময় নেই। তবে সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা হবে যেন পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা না হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তারা সহিংসতা চান না। কিন্তু কোনো সাজানো রায় তো এ দেশের মানুষ মানবে না। সাজানো রায় দেয়ার চেষ্টা হলে তারা প্রতিরোধ করবেন। সরকারের উচিত দেশের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু সেটি কীভাবে দেয়া হবে তা ঠিক করা সরকারের দায়িত্ব। তারাও সরকারের কাছে দাবি জানান রাজনৈতিক কারণে যেন এসএসসি পরীক্ষার কোনো ক্ষতি না হয়, তার ব্যবস্থা করা হোক।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখার একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। এখনো এ বিষয়ে কোনো চিন্ত্মা করেননি। আশা করছেন কোনো সমস্যা হবে না। তবে পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যে কোনো সিদ্ধান্ত্ম নিতে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে। কারণ তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দিকটি সবার আগে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম সাইফ উল্লাহ বলেন, এ নিয়ে তারা এখনো কিছু চিন্ত্মা করেননি। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসএসসি পরীক্ষা হবে পুরো দেশজুড়ে। কিন্তু মামলার রায়ের প্রভাব সম্ভবত দেশের একটি নির্দিষ্ট এলাকাতে সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে এ কারণে সারাদেশের পরীক্ষা বন্ধের প্রয়োজন হবে বলে তার মনে হয় না। আর রায়তো হবে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে। কোনো কিছু হলে সবার আগে তারাই জানতে পারবেন। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় তারা সবার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও অন্যতম মুখপাত্র হাছান মাহমুদ জানান, ‘৭, ৮ ও ৯ ফেব্রম্নয়ারি তারা রাজপথে থাকবেন। যদি আবারও শ্রমজীবী মানুষের ওপর পেট্রলবোমা হামলা হয়, সেই হামলা প্রতিহত শুধু নয়, হামলাকারীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে।যায়যায়দিন।