জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ বরিশাল অঞ্চলে প্রার্থী হচ্ছেন কারা?

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩৩:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৮
জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ বরিশাল অঞ্চলে প্রার্থী হচ্ছেন কারা?

২০১৮ ভোটের বছর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা এ বছরই। সে হিসেবে ঘড়ির কাটা বলছে সময় আর ১ বছরও নেই। তাই ইতোমধ্যে সারাদেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনেই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী দৌঁড় ঝাপ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে মরিয়া।

শুধু রাজনৈতিক শিবিরেই নয়, বরিশাল বিভাগে নির্বাচনী মাঠেও নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের কদর বেড়েছে। প্রায় এক ডজন তরুন নেতা আওয়ামীলীগ দলের হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আর তরুনদের নির্বাচনী মাঠ দখলের প্রতিযোগিতায় প্রবীণরা হয়ে পড়েছেন কোনঠাঁসা। এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বণ্টন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, স্বাধীনতার পরবর্তি সময় থেকে বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দীতা হয়ে আসছে। নব্বই দশকের পর থেকে জোটগত ভাবে নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সমমনা দলগুলো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দীতায় উঠে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৭ সালে প্রণীত ভোটার তালিকা বিগত সকল নির্বাচনের হিসেব পাল্টে দিয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারায় নতুন ভোটারদের সমর্থন তারা নিজেদের পক্ষে নিতে সক্ষম হয়। তবে এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটারদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রার্থী তালিকায় কৌশলগত পরিবর্তন না আনলে উভয় জোটেরই নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সুত্র জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগে গুনগত পরিবর্তন আনা হয়। নতুন ভোটারদের কথা বিবেচনায় রেখে বরিশাল বিভাগে মনোনয়নে আওয়ামীলীগে দলের সিংহভাগ পদে তরুণ নেতৃত্বকে স্থান দেয়া হয়। তরুনদের কথা চিন্তা করলে বরিশালে এগিয়ে রয়েছে চার তরুন আওয়ামীলীগ নেতা।আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানা গেছে শেখ হাসিনার সুনজরেও রয়েছেন তারা।

এরা হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না,বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিন ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জোবায়দুল হক রাসেল ও আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

শেখ হাসিনার সুনজরে থাকায় নতুন করে আলোচনায় রয়েছেন চার তরুন আওয়ামীলীগ নেতা।

জানা যাক চার তরুন নেতা সম্পর্কে কিছু তথ্য:

ইসহাক আলী খান পান্না: ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তিনি তৎকালীন সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির করা বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে তখনকার ছাত্রলীগ।আন্দোলন করতে গিয়ে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য বার। ২০০৮ সালে ও ২০১৩ সালে পিরোজপুর-২ আসন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় নমিনেশন পেয়েছিলেন। কিন্তু দলের এবং জাতীয় স্বার্থে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নিবার্চন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। দলের প্রতি এবং দেশের প্রতি ত্যাগ ও আনুগত্যই তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ঐ আসনের বতর্মান এমপি, মহাজোটের অন্যতম শরিক, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। কিন্তু সব কিছু ঠিক থাকলে সংসদ নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর-২ আসন থেকে তিনি এবার ও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী দলের নেতা কর্মীরা।

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ:

বরিশাল শহরের বিবির পুকুরপাড়ে ঝুলছে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিশাল ছবি। শহরজুড়ে নেতা-কর্মীদের পোস্টার-ব্যানারেও তিনি আছেন। রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের পাশে মোটরসাইকেল মালিক ও চালক সমিতির কার্যালয়ের সাইনবোর্ডেও সাদিক আবদুল্লাহর ছবি।

জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন হাওলাদার বলেন, সাদিক সাহেবই তো আগামী দিনের নেতা। দল প্রার্থী করলে তিনি মেয়রও হবেন।

স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিবিদেরা বলছেন, অল্প সময়ে বরিশালের রাজনীতিতে একচ্ছত্র হয়ে উঠেছেন সাদিক আবদুল্লাহ। পিতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পর এখন তিনিই বরিশালের আলোচিত নেতা। তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত মহানগর আওয়ামী লীগ। শুভাকা‌ঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ‘যুবরত্ন’ উপাধিও পেয়েছেন তিনি।

জোবায়দুল হক রাসেল:পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনেও মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমানে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মৃত্যুঞ্জয়ী জোবায়দুল হক রাসেল। এই আসনের বর্তমান এমপি আসম ফিরোজ টানা ৭ বার মনোনয়ন পেয়ে ৬ বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন,বাউফলবাসী এবার পরিবর্তন চান।

রাসেল তৃণমূল থেকে উঠে আসা আওয়ামীলীগ এর দু:সময়ের পরিক্ষিত কর্মী, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে রক্ত দিয়েছেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকার দ্বারা বারবার কারা নির্যাতিত হয়েছেন। একজন বিচারপতির সন্তান হয়েও সাধারণ মানুষকে যেভাবে বুকে জড়িয়ে নেন, যেভাবে সবার বিপদেআপদে সহযোগীতার হাত বাড়ান, তাতে এলাকায় নিরহংকারী, কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে ইমেজটি দারুণভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনার আদরের রাসেল। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমূলক ও নানা ইতিবাচক কাজ করে গণমানুষের কাছে হয়েছেন ব্যপক সমাদৃত, তৈরি করে নিয়েছেন শক্ত অবস্থান।
সম্প্রতি দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডী ৩/এ এর কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সামনে রাসেলকে ডেকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দিলে এলাকাবাসীও আওয়ামীলীগ নেতাকে রাসেলকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছেন।

মনিরুজ্জামান মনির: ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।ঝালকাঠি-১ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের জরিপেও মনিরুজ্জামান মনির জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসা তরুণ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এ আসনটি শেখ হাসিনাকে জয় উপহার দিতে চান।

দলীয় নেতা-কর্মী ও বিশেষত তরুণদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় এই তিন নেতাকে নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেতে উন্মুখ এলাকাবাসী, সবাই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে দলের হাইকমাণ্ড ও সর্বোপরি দলীয় সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের দিকে। বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস