শার্শায় টার্কি খামারে স্বাবলম্বী রাজু

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮
শার্শায় টার্কি খামারে স্বাবলম্বী রাজু

শার্শা উপজেলার গিলেপোল গ্রামে একবছর আগে রাজু গড়ে তোলেন টার্কির খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে তিনি একটি বিমান কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। কিন্তু বিমানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে চাকরি আর টেকেনি। বছর খানেক আগে বেকারত্ব ঘুচাতে রাজু টার্কির খামার গড়ে তোলেন।

রাজু আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রথমে দেড়শ টাকা দরে ৬০০ ডিম কিনি। ওই ডিমের বাচ্চা ফোটানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে ইনকিউটেটর কিনে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো শুরু করি। এরপর এর চাহিদা দেখে রাজুকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

রাজু বলেন, প্রতিটি একদিনের টার্কির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে তিনশত টাকায় আর এক মাসের বাচ্চার দাম ছয়শ টাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে তার কাছে টার্কির বাচ্চা নেওয়ার জন্য আসছে।

বর্তমানে তার খামারে পূর্ণবয়স্ক টার্কি আছে ৭৫টি এবং একমাস বয়সের বাচ্চা আছে ২০০টি। ছয় মাস বয়স হলেই টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে। প্রতিটি টার্কি বছরে ১২০ থেকে ১৫০টি ডিম দিয়ে থাকে। একবছরে সব খরচা বাদে তার লাভ হয়েছে ছয় লাখ টাকা।

রাজু তার বাড়ির পাশে টার্কির খামারটি বাড়াতে নতুন করে ফার্ম তৈরিতে হাত দিয়েছেন। পূর্ণবয়স্ক পাঁচশ টার্কি সেখানে রাখা যাবে।

রাজু বলেন, এটি তৈরি হলে আর বাচ্চা কিনতে এসে লোকজন ফিরে যাবে না। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসে বাচ্চা কিনতে। কিন্তু সবাইকে বাচ্চা দিতে পারি না। তাই নতুন করে ফার্মের পরিধি বাড়াচ্ছি।

রাজুর দেখাদেখি আরও অনেকে ছোট ছোট খামার গড়ে তুলছেন। রাজুর খামার থেকে টার্কির বাচ্চা কিনে ঝিকরগাছার মাঠুয়াপাড়ার কামরুল ইসলাম, শিমুলিয়ার মনিরুজ্জামান বিল্লাল ও কামারপাড়ার আবু সাইদ তিন বন্ধু তিনটি খামার গড়ে তুলেছেন।

কামরুল বলেন, টার্কি তৃণভোজি প্রাণী হওয়ায় এরা লতাপাতা ও ঘাস খায়। এদের রোগবালাইও কম। নতুন খামার তৈরি করেছি। টার্কির সংখ্যা বাড়াতে পারলে বেশি লাভ হত। কিন্তু অর্থ সংকটে এগুতে পারছি না। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারটি বড় করা সম্ভব হত।

মনিরুজ্জামান বিল্লাল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রাজুর খামার থেকে ৩৬ দিনের ৩৮টি টার্কির বাচ্চা কিনে প্রথম খামার শুরু করি। আড়াই মাসের প্রতিটি বাচ্চার ওজন এখন দুই কেজি হয়েছে। ওদের জন্য দুই কাঠা জমিতে ঘাস লাগিয়েছি।’

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রাজু টার্কির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার খামারটি উপজেলার একমাত্র টার্কির খামার। লাভজনক হওয়ায় টার্কির খামারের প্রতি আরো অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। পূর্ণবয়স্ক একটি টার্কিতে ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস পাওয়া যায়। এই মাংস খুব সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে তার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।