সিলেট-১ এর প্রার্থী ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা?

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩০:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮

মঙ্গলবার সিলেট সফরের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর প্রচারাভিযান শুরু করছেন। এর মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার ভোট যুদ্ধের সূচনা করবে। কিন্তু যে শহর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেছেন, সেই আসনেই আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। ঐতিহাসিক ভাবে সিলেট-১ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়, সেই দলই সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট যাত্রার আগে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হবেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী?

প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান শেখ হাসিনা পূণ্যভূমি সিলেট দিয়েই শুরু করেন। এবারও তাই করছেন এবং বেশ আগেই করছেন। ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সিলেটে পৌঁছে প্রথমে হযরত শাহজালাল (রা.) এবং হযরত শাহ পরান (রা.) মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেলে তিনি এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। সাধারণত নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের পক্ষে মনোনীত প্রার্থীকে পরিচিত করান। তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সূত্রে বলা হয়েছে, এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি কোনো প্রার্থীকে পরিচিত করাবেন না।

সিলেট-১ আসনের প্রার্থী চুড়ান্ত হয় বহু আগেই। গত চারটি নির্বাচনে এই আসনের প্রার্থী কে হবে তা অনেক আগে থেকে নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এবার তেমনটি নয়। ২০০৮ এবং ২০১৪ তে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। কিন্তু গতবছর তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা দেন যে, ‘আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না।’

প্রবীণ এই নেতা বলেন, তাঁর বদলে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হবে তাঁর ছোট ভাই আবুল মোমেন। মোমেন একজন ডিপ্লোম্যাট। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে তাঁর ছোট ভাইয়ের নাম ঘোষণা করলে সিলেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সাবেক মেয়রের নেতৃত্বে একটি অংশ অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার বৈধতা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিলেটে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, ‘সিলেট-১ আসনের প্রার্থী দেবেন নেত্রী, সংসদীয় বোর্ড, মুহিত সাহেব একা দেওয়ার কে? সিলেটে তীব্র প্রতিবাদের মুখে অর্থমন্ত্রী তাঁর প্রস্তাব নিয়ে এগুননি। ২৫ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে আলাপচারিতায় তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই, তবে দলের স্বার্থে আমি নির্বাচন করতেও পারি।’ প্রার্থীতা নিয়ে কোন্দলের মীমাংশা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী সফর আসলে কোন্দল মেটানোর মিশন বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। ওই নেতারা মনে করছেন, কোন্দল এবং বিরোধের মধ্যস্থতা হিসেবে মুহিত সাহেবই হয়তো আগামী নির্বাচনে এই স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ আসনে আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে দাঁড়াতে পারেন।

শেখ হাসিনার সিলেট সফরে কি এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেবেন? আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়তো কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন না বরং জনসভায় তিনি তাঁর সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরবেন। আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে যেই দাঁড়াক তাঁকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাবেন। তবে ঘরোয়া বৈঠকে তিনি কোন্দলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবেন বলেই জানা গেছে।

  • বাংলা ইনসাইডার