পালিয়ে নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকালো নলছিটির স্কুলছাত্রী ইতুমনি

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৩ | আপডেট: ৯:১১:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৩

বাড়ি থেকে পালিয়ে বান্ধবির বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে পুলিশে কবর দিয়ে গিয়ে নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকালো ঝালকাঠির নলছিটির ইতু মনি নামে এক স্কুলছাত্রী। শুক্রবার বিকেলে প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা থাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ওই ছাত্রীর বাবা মা তাকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখে। ভোর ৬টার দিকে কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এক বান্ধবির বাসায় যায় ইতু মনি। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সহযোগিতায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসন ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। ইতু মনি(১৪) উপজেলা খাগড়াখানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। পরে ওই ছাত্রীর ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না মর্মে বাবা নুরুল ইসলাম হাওলাদার ও মা দুলু বেগম কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের জিম্মায় দেয় উপজেলা প্রশাসন।
স্কুলছাত্রী ইতু মনির অভিযোগ, বাড়ির পাশের বেল্লাল ঢালী নামের এক সৌদি প্রবাসী যুবকের সাথে শুক্রবার বিয়ে ঠিক করে মা-বাবা। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে বিয়েতে রাজি করার চেষ্টা করা হয়। পরে কৌশলে পালিয়ে সে এক বান্ধবির বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে বসে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে খবর পাঠায় ওই ছাত্রী।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মেয়েটির বিয়ের বয়স হয়নি। তাকে বাবা-মা জোর করে প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছে। মেয়েটি ভয়ে বাড়ি থেকে পালায়। আমাকে ফোনে সে বিস্তারিত বলে। আমি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ইতু কেবলমাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়েছি। তাকে পূর্ণ বয়স না হওয়া পর্যন্ত যেন বিয়ে দেওয়া না হয়, এ ব্যাপারে নজর রাখবো।
নলছিটি থানার এসআই মফিজুর রহমান বলেন,‘ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে তার মা ও বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়। আঠারো বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দিতে নিষেধ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email