দশমিনায় বেপরোয়া সবজি বাজার চাল-পিঁয়াজে অস্থিরতা

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৩:০৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮

 

 সঞ্জয় ব্যানার্জী,দশমিনা প্রতিনিধি:- চলছে শীতের মৌসুম  মাঘ মাসের প্রায় দুই সপ্তাহ শেষের দিকে। শীতের তীব্রতা কমার আগেই এক লাফে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সবজির বাজার। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে সবজিসহ নিত্য পণ্যের দাম। পুরো শীতকাল দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে থাকার কথা থাকলেও গত দু সপ্তাহ আগে থেকেই সবজির দাম বেড়েই চলছে। কুয়াশায় সবজি নষ্ট ও পরিবহন সংকটকে ব্যবসায়ীরা দায়ী করলেও আসলেই কারণটা কি তা স্পষ্ট নয় । গত এক সপ্তাহের মধ্যে সবজিভেদে দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকায়। আর অস্থিরতা চাল-পিঁয়াজের দামেতো আছেই।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নানা জাতের সবজি আবাদে ধুম পড়েছে । ঘনকুয়াসা আবহাওয়া থাকায় শীতের সবজির  ফলন হয়েছে খুবই কম দাম ও চাহিদা নিজেদের নাগালের বাহিরে । উপজেলার ব্যবসাইরা অনেক দিন পর উপযুক্ত দাম পেয়ে তারা লাভের মুখ দেখছেন। উপজেলায় এবছর ১ হাজার ৬ শত ৬০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের সবজি চাষ হয়েছে। সবজি চাষীরা উন্নত জাতের লাউ, ফুলকপি, বাধা বাধাকপি, টমেটো, উচ্ছেসহ শীতকালীন সবজি চাষ করে কৃষকরা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে নিতে চেয়েও তা পারেনি আবহাওয়ার ককারনে।

তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে ব্যক্তি চাষ করেছেন। কৃষকরা পুরোদমে শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেলো । চাষীরা সবজি চাষে ভালো ফলন হবে বলে মনে করে চাষীরা সবজি চাষ করতে থাকেন কিন্তু আবহাওয়ায় সব কিছু পরিবর্তন করে দেয় । বাজারে চাহিদা ও দাম দু’টোই রয়েছে। সারা বছর সবজি চাষ করলেও শীতের সবজি চাষের গুরুত্বটা অন্যরকম। শীত মৌসুমে অনেক প্রকার সবজির আবাদ করা যায়। বাজারে শীতকালীন  সবজি সরবরাহ করতে পারলে ভাল লাভও পাওয়া যায়। সবজি চাষেই এখন সংসার পরিচালনা করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে এলাকার কৃষকদের।

 

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. বনি আমিন খান জানান, চলতি রবি মৌসুমে  উপজেলায় ১৮ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে শীত কালীন সবজি চাষ নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলায় ফুল কপি, ওল কপি, টমেটো ও সিমসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করা হচ্ছে। চাষীদের এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় এ সকল সবজি চাষ করার জন্য প্রশিক্ষন ও বিভিন্ন প্রদশর্নী হিসাবে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এ বছর উপজেলায় কিছু কিছু সৌখিন চাষীদেরকে ব্রকলিন ও লেটুসের মত সবজি চাষে উৎসাহ প্রদান করছি এবং চাষীরা চাষ করছে। আগামীতে এ সকল সবজি চাষ বৃদ্ধি পাবে।

 

একাধিক কৃষকরা বলেন, ঘন কুয়াশায় প্রচুর পরিমাণে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকটও। সব মিলিয়ে এখন বাজারে সবজির দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পিঁয়াজ এখন ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পিঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে।

খুঁচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সবজির দাম আবার আগের মতো হয়ে গেছে। পিঁয়াজ, সবজি, চাল- কোনো কিছুতেই ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বাজার দর ধীরে ধীরে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এদিকে চালের বাজারের অস্থিরতা এখনো বিরাজমান। অন্যদিকে সবশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশি রসুন ৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ৮৫ টাকা, চিনি ৫৫-৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০-১২০ টাকা ও আমদানি করা মসুর ডাল ৬০ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে।