আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হবে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৫৯:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮
আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হবে
  • শান্তা মারিয়া

প্রদর্শনীতে শোভা পাচ্ছে একের পর এক ছবি। কিন্তু শিল্পী নেই। শিল্পী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। শিল্পীর নাম আফ্রিদা তানজিম মাহী। মাত্র ২০ বছর বয়সী প্রতিভাবান এই শিল্পী আত্মহত্যা করেছেন।

মাহীর এ আত্মহত্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়ে গেছে শোকের প্রবাহ। কিন্তু তাতেই কি বন্ধ হয়েছে আত্মহত্যা? এর পরও আত্মহত্যা করেছেন একজন সংসদ সদস্যর সন্তান। কেন এই অকাল ভয়ঙ্কর মৃত্যু? এর বেশ কিছুদিন আগে শোনা গেছে ব্লু-হোয়েল গেমসের কারণে কিশোর ও তরুণ বয়সীদের আত্মহত্যার খবর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। বছরে প্রায় আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। এসব আত্মহত্যার বেশিরভাগই ঘটে বিষণœতার কারণে।

সারা বিশ্বে ৫ থেকে ১৭ শতাংশ মানুষ বিষণœতায় ভুগছে। ১৭টি রাষ্ট্রে পরিচালিত ওয়ার্ল্ড মেন্টাল হেলথ সার্ভের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে একজন বিষণœতায় ভুগছে। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বিষণœতায় আক্রান্ত। শিশুদের মধ্যেও ১ শতাংশ বিষণœতায় ভুগছে। দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বিষণœতায় আক্রান্ত। বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীদের মধ্যে বিষণœতার হার প্রায় দ্বিগুণ। বিষণœতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন ও সৃজনশীলতা। দেশে মাত্র ২০৬ জন মানসিক রোগের চিকিৎসক রয়েছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি দেশে অবহেলিত অবস্থায় আছে। অথচ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আত্মহত্যা শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়, আত্মহত্যাকারীর স্বজনরাও মুখোমুখি হন প্রচ- মানসিক আঘাতের। আত্মহত্যাকারী সন্তানের মা-বাবা এবং আত্মহত্যাকারী মা-বাবার সন্তানরা যে মানসিক ট্রমার শিকার হন তা থেকে অনেকে সারা জীবনেও বেরিয়ে আসতে পারেন না। আত্মহত্যারোধে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচাতে চাই ব্যাপক গণসচেতনতা। সাংবাদিক জয়শ্রী জামান তার দুই সন্তানকে হারানোর পর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে চলেছেন। তিনি মনে করেন, আত্মহত্যারোধে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা। বিষণœতা বা যে কোনো মানসিক সমস্যায় যদি সঠিক সময়ে কাউন্সেলিং দেওয়া যায়, তাহলে অনেকের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। কাউন্সেলিং দরকার গার্মেন্টস কারখানাগুলোয়। নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা এ উপমহাদেশে বেশি। তাই নারীদের সহায়তা দরকার। উপযুক্ত চিকিৎসা সহায়তা পেলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ অনেকটাই সম্ভব। আর অভিভাবকদের প্রতি বলা যায়Ñ যখনই সন্তানের মধ্যে কোনো রকম বিষণœতা বা অন্য কোনো অস্থিরতা দেখা দেয়, তখনই সতর্ক হতে হয়। যেমন ঘরের দরজা অকারণে বন্ধ রাখা, অন্যদের সঙ্গে কথা না বলা ইত্যাদি অস্বাভাবিক আচরণ যদি দুই সপ্তাহের বেশি চলে তাহলে অবশ্যই তার চিকিৎসাসেবা লাগবে। তার প্রতি বাড়িয়ে দিতে হবে সাহায্যের হাত। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

আত্মহত্যাকারী হিসেবে নয়, তরুণ প্রজন্মকে আত্মজয়ী ও আত্মপ্রত্যয়ীরূপে দেখতে চায় সমাজ। সূত্র: আমাদের সময়