বরিশালে হত্যা মামলার আসামি ছেড়ে দেয়ায় গৌরনদীর ওসি প্রত্যাহার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮
বরিশালে হত্যা মামলার আসামি ছেড়ে দেয়ায় গৌরনদীর ওসি প্রত্যাহার

বরিশালের গৌরনদীতে কলেজছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী সাকির গোমস্তা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফাহিমকে গ্রেফতারের পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওসি মনিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করার পর তাকে গৌরনদী থানা থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

সাকিরের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেছিল, গত বছর ২২ নভেম্বর সাকিরের উপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার ৬নং আসামি ফাহিমকে আটক করে গৌরনদী থানার এসআই শামসুদ্দিনের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর এসআই শামসুদ্দিন আসামি ফাহিমকে আটকে থানায় নিয়ে যান। ওইদিন সন্ধ্যায় ওসি মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে ফাহিমকে ছেড়ে দেন। ওই সময় ফাহিমকে ধরে আনায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ওসি মনিরুল। ওসি আসামি ফাহিমকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে এসআই শামসুদ্দিন আসামিকে ছেড়ে না দিয়ে ডিউটি অফিসারকে বুঝিয়ে দিয়ে বরিশালে যান।

ওই দিন পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলাম (মিঠু)। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে সাকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফাহিমকে থানায় ধরে নিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ওসি মনিরুলকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ওসি মনিরুল মাদক নির্মূল ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অযোগ্যতার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ, পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের গালাগাল করে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা। সাকির গোমস্তা প্রতিবাদ করলে সোহেল গোমস্তা, ইলিয়াছ খান, সুমন হাওলাদার, এমরান মির ও ফাহিমের নেতৃত্বে যুবলীগের ১০/১২ কর্মী ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে সাকিরকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ২১ নভেম্বর গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাকিরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।