আমতলী উপজেলায় সার সুপারিশমালা কার্ড ব্যাবহার ও এর উপকারিতা নিয়ে কৃষক মত বিনিময় সভা

আরিফ হোসেন আরিফ হোসেন

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২ | আপডেট: ৬:২০:অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

বরিশাল প্রতিনিধি : (২২) বুধবার জুন নিউম্যান প্রকল্পের উদ্যোগে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামে সার সুপারিশমালা কার্ড ব্যবহারকারি কৃষকদের সাথে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
পবিপ্রবি এর পোস্ট গ্রাজুয়েশন স্টাডিজ বিভাগের ডিন ড. মোঃ ফজলুল হক এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ‌্যালয়ের প্রফেসর ড. রিচার্ড ডাব্লিউ বেল।
প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ এনামুল হক, এডজাঙ্কট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মারডক বিশ্ববিদ‌্যালয়, অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব অধ্যাপক জনাব মোঃ আসাদুল হক (পবিপ্রবি),উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় উপস্থিতকৃত ৫০ জন কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার একপর্যায়ে কৃষক মোঃ কবির হোসেন জানান যে, তিনি গত বোরো সিজনে ৬ বিঘা জমিতে এই সার সুপারিশমালা অনুযায়ী সার প্রয়োগ করে ফসল আবাদ করেছেন এতে তার ফলন বিগত বছর থেকে বিঘা প্রতি ৩ মন বেশি হয়েছে পাশাপাশি সারের খরচও ৭০০ টাকা বিঘা প্রতি কমেছে। যা অত্র এলাকার কৃষকদের মাঝে ব‌্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সভায় উপস্থিত সকল কৃষকগণ ভবিষ‌্যতে বিভিন্ন ফসল আবাদে সার সুপারিশমালা ব্যাবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের মাটি বিভিন্ন ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় মাটির ভৌত গঠনে অবনতি, মাটির জৈব উপাদান হ্রাস পাচ্ছে এবং জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগের পরিমাণ দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়। কিন্তু জমির স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয় কৃষক। মাটি পরীক্ষা করে ফসলের চাহিদা অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করা হলে একদিকে যেমন জমির মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে অন্যদিকে ফসলের ফলন বেশি হয়। জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে ফসল আবাদের খরচ বেড়ে যায় এবং অব্যবহৃত সার বৃষ্টি অথবা সেচের পানির সাথে মিশে গিয়ে পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার দাতা সংস্থা এসিআইএআর- এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি সুরক্ষা সেবাদানকারী সংগঠন, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন এবং অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয় এর যৌথ উদ্যোগে খুলনা, বরগুনা, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, বরগুনা, নিলফামারী এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০১৮ সাল হতে ধান, গম, মসুর, মুগ, সরিসা, ভুট্টা, ছোলা সহ বিভিন্ন ফসলে পরিমিত মাত্রায় সুষম সার ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার উপর একটি প্রকল্প Nutrient Management for Diversified Cropping in Bangladesh (NUMAN) বাস্তবায়ন হয়ে আসছে।
প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ফসল আবাদে জমিতে পরিমিত ও লাভজনক মাত্রায় সুষম সার প্রয়োগ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে ফসল আবাদ করা, জমির মাটি পরীক্ষা করে অথবা বাংলাদেশ সরকারের কৃষি অঞ্চল ভিত্তিক সার সুপারিশমালা ব্যবহার করে কৃষকদের আগ্রহী ও অভ্যস্ত করা, অঞ্চল ভিত্তিক সার সুপারিশমালা কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় ব্লক বা সাব-ব্লক পর্যায়ে কৃষকদের সংগঠিত করে ঐ ব্লকের মৌসুম ভিত্তিক ফসল/জাত নির্বাচন করে গ্রুপ ভিত্তিক ফসল আবাদ ও পরিচর্যা কর্মকান্ড পরিচালনা করা, সর্বোপরি ফসল আবাদে নিবিড়তা এবং উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।

উক্ত প্রকল্পের অধীনে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালি, কড়াই বুনিয়া, কৃষ্ণনগর ইত‌্যাদি গ্রামে ২০১৮ সাল হতে বিভিন্ন ফসল আবাদে সারের সঠিক মাত্রা নির্ধারণের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উক্ত গবেষণায় প্রমাণ হয় যে, অত্র এলাকার অধিকাংশ কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি বা ডিএপি সার ব্যবহার করে আবার পটাশ সার ও জিপসাম সার মাত্রায় অনেক কম ব্যবহার করে। নিউম‌্যান প্রকল্পের মাধ্যমে বরগুনার আমতলী উপজেলায় বিভিন্ন ফসলে সঠিক মাত্রায় সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় পাঁচ হাজার (৫০০০) সার সুপারিশমালা কার্ড বা এফ.আর.জি কার্ড তৈরি করে আমতলী উপজেলায় বিতরণ করা হয়। এই কার্ডে বর্ণিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা বিগত আমন, রবি ও বোরো মৌসুমে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে তুলানমূলক কম খরচে বেশি ফসল ঘরে তোলেন।

Print Friendly, PDF & Email