কিশোরগঞ্জ জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সমূহ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২২ | আপডেট: ১২:১০:অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২২

কিশোরগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল এবং ঢাকা বিভাগের সর্বশেষ জেলা। উপজেলার সংখ্যানুসারে কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। কিশোরগঞ্জ জেলার ব্র‍্যান্ড নাম হলো “উজান-ভাটির মিলিত ধারা, নদী-হাওর মাছে ভরা”। কিশোরগঞ্জ ঢাকা বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। হাওর অঞ্চলের জন্য কিশোরগঞ্জ বিখ্যাত।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাকসেনারা নিকলি উপজেলার শ্বশানঘাটে প্রায় অর্ধশত নিরীহ লোককে হত্যা করে। ১৪ আগস্ট কুলিয়ারচর উপজেলায় পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে ৪ জন পাকসেনা নিহত হয় এবং ২৮ জন রাজাকার অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট আত্মসমর্পণ করে। ৩ সেপ্টেম্বর পাকসেনারা স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় অষ্টগ্রামের ইকরদিয়া গ্রামে ৩৫ জন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ৫ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার সাভিয়ানগর গ্রামে পাকসেনারা আরও ২৫ জন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ৬ সেপ্টেম্বর নিকলি উপজেলার গুরুই গ্রামে পাকসেনারা ২৫ জন নিরীহ লোককে হত্যা করে। ১৯ অক্টোবর নিকলি উপজেলায় পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ২০ অক্টোবর নিকলি শত্রুমুক্ত হয়। ২৬ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা বাজিতপুর উপজেলা শত্রুমুক্ত করে।

১ নভেম্বর পাকসেনারা মিটামইন উপজেলার ধুবাজুরা গ্রামের ১৮ জন এবং তেলিখাই গ্রামের ৩ জন লোককে হত্যা করে। ১৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা হোসেনপুর থানা এলাকায় একটি সেতু ডিনামাইটের সাহায্যে উড়িয়ে দেয় এবং রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে রাইফেলসহ ১৪ জন রাজাকারকে বন্দি করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদলের বরইতলায় পাকসেনারা ৩৬০ জন নিরীহ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে।

জনসংখ্যা ২৫৯৪৯৫৪; পুরুষ ১৩২০১১৭, মহিলা ১২৭৪৮৩৭। মুসলিম ২৪৩২৬৬৪, হিন্দু ১৬০৪৯২, বৌদ্ধ ২৫৬, খ্রিস্টান ১১ এবং অন্যান্য ১৫৩১।জলাশয় রধান নদী: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও মেঘনা, কালনী, ঘোড়াউতরা, ধনু নদী।প্রশাসন ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় রূপান্তরিত হয়। কিশোরগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।

দর্শনীয় স্থান সমূহ

জঙ্গলবাড়ি দুর্গ

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার অধীনে জঙ্গলবাড়ি গ্রামে অবস্থিত। দুর্গটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী এগারসিন্ধুর যুদ্ধে মানসিংহের কাছে পরাজিত হওয়ার পর লক্ষ্মণ সিং হাজরার কাছ থেকে ঈসা খান দুর্গটি দখল করেন। সম্ভবত লক্ষ্মণ হাজরা বা ঈসা খান কেউই দুর্গটির মূল নির্মাতা নন। দুর্গ এলাকার বাইরে বিশেষ করে দুর্গের দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম অংশে অসংখ্য ইটের টুকরা ও মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। প্রাপ্ত নিদর্শনাবলি সম্ভবত প্রাক-মুসলিম আমলের এবং বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে, মুসলমানদের আগমনের পূর্বে দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল, এবং এটি একটি সমৃদ্ধশালী জনবসতির কেন্দ্র ছিল। তবে দুর্গের অভ্যন্তরে বেশ কিছু স্থাপনা ঈসা খানের। মুসা খান কর্তৃক মুগল আধিপত্য স্বীকার করে নেবার পর ঈসা খানের বংশধরগণ সোনারগাঁও থেকে জঙ্গলবাড়ি দুর্গে তাদের পরিবারবর্গকে স্থানান্তর করেন। কালক্রমে তারা এ অঞ্চলের জমিদারে পরিণত হন। মুসা খানের দৌহিত্র হায়বাত খান ‘হায়বাতনগর’ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।

পাগলা মসজিদ

পাগলা মসজিদ বা পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ যা কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত।তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে একটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত।১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ্ স্টেট মসজিদটি পরিচালনা করছে।পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া নামক স্থানে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত।জনশ্রুতি অনুসারে, ঈসা খান-র আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক একজন ব্যক্তি নদীর তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে স্থানটিতে মসজিদটি নির্মত হয়। জিল কদর পাগলার নামানুসারে মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।।অপর জনশ্রুতি অনুসারে, তৎকালীন কিশোরগঞ্জের হয়বতনগর জমিদার পরিবারের ‘পাগলা বিবি’র নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়।।

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

ইসলামের ঐষী বাণী প্রচারের জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে আগত শোলাকিয়া “সাহেব বাড়ীর” পূর্ব পুরুষ শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ তার নিজস্ব তালুকে নরসুন্দা নদীর তীরে ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে ৭ একর জমির ওপর “শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান” প্রতিষ্ঠা করেন ও তার ইমামতিতে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কিংবদন্তী মতে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ ঈদের জামাতের মোনাজাতে ভবিষ্যতে মাঠে মুসল্লীদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে “সোয়া লাখ” কথাটি ব্যবহার করেন। অন্য একটি মতে, সেই দিনের সেই জামাতে ১,২৫,০০০ (অর্থাৎ সোয়া লাখ) লোক জমায়েত হয় এবং এর ফলে “শোলাকিয়া” নামটি (“সোয়া” মানে পূর্ণ এক এবং চার ভাগের একভাগ এবং “লাখ” মানে এক লক্ষ) চালু হয়ে যায় (সোয়া লাখ-এর অপভ্রংশ সোয়ালাক যা থেকে শোলাকিয়া)। পরবর্তীতে ১৯৫০ সনে স্থানীয় দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ (যিনি ঈশা খাঁর বংশধর ছিলেন), ঈদগাহের জন্য ৪.৩৫ একর জমি দান করেন। এই মাঠে ২৬৫টি কাতার আছে এবং প্রতিটি কাতারে ৫০০ শত মুসল্লী নামাজের জন্য দাঁড়াতে পারেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ
কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ

আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া, কিশোরগঞ্জ
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ
পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ
পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ
হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদরাসা
জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ
কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
এস.ভি. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email