বিএনপির বিরোধের বাইরে কিছু খুঁজে পায়নি পুলিশ

ফেনীতে সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর ও হামলা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭ | আপডেট: ১১:০৯:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭
বিএনপির বিরোধের বাইরে কিছু খুঁজে পায়নি পুলিশ

খালেদা জিয়ার বহরে থাকা সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনাতেও বিএনপির সাবেক দুই সাংসদের বিরোধ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করা নিয়ে ওই দুই পক্ষের বিরোধ নতুন মাত্রা পায়। দলীয় এই কোন্দলের কারণেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বিএনপির সাবেক দুই সাংসদ হলেন জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল) এবং রেহানা আক্তার রানু। গত বুধবার তাঁরা দুজন ফেনী জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার ঘটনায় বিএনপির কারও জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। নিজেদের মধ্যে বিরোধ নেই বলেও জানান। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর ফতেপুরে তাঁর বহরের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের আটটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় হামলার শিকার হন গাড়িতে থাকা সাংবাদিকেরা।

এদিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ৩১ অক্টোবর বিকেলে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনীর মহিপাল পার হওয়ার সময় পেট্রলবোমা ছুড়ে দুটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জন্যও পুলিশ বিএনপির সাবেক দুই সাংসদের বিরোধকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারেও বিএনপির সাবেক দুই সাংসদের দোষ খুঁজে পায় পুলিশ।

এদিকে ফেনীর মহিপালে পেট্রলবোমা ছুড়ে দুটি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এক আসামি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। আসামি নূরের সালাম ওরফে মিলন ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বুধবার সন্ধ্যায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসেনের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

বাস পোড়ানোর পর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নূরের সালাম ৩১ অক্টোবর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন। সেদিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে অন্যদের সঙ্গে মহিপাল এলাকায় ছিলেন সালাম। বাসের আগুন নেভাতে তিনি সাহায্য করেন।

সালামের জবানবন্দির বিষয়ে ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদ খান চৌধুরী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বাস পোড়ানোর ঘটনায় কতজন জড়িত, কারা পরিকল্পনকারী সবই বলেছেন সালাম। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আপাতত কিছু প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না তাঁরা।

এই মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৫ জনকে আসামি করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। অন্যদিকে সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুধবার রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৩ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার নেতাদের মধ্যে সোনাগাজী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল মোবারক, ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামাল হোসেন, ফেনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন, ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন অন্যতম।

● প্রথম আলো