বরিশালে অদক্ষ শিক্ষক দিয়ে চলছে নাম করা কোচিং সেন্টার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৩১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮
বরিশালে অদক্ষ শিক্ষক দিয়ে চলছে নাম করা কোচিং সেন্টার

গোলাম মোস্তফা, বরিশাল ॥ আমাদের দেশে ঠিক কবে, কখন, কীভাবে কোচিং সেন্টারগুলোর জন্ম হল তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে বর্তমানে যে আমরা সবাই একটি কোচিং রাজ্যে বসবাস করছি তা আর বলে দিতে হয়না, অলিতে গলিতে নানান ধরণের কোচিং সেন্টারের উপস্থিতিই তার জানান দেয়। তাই আজকাল কোচিং বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উেঠছে। রংবেরং এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে বরিশাল শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে কোচিং সেন্টার গুলো। ফলে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বরিশালের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে বর্তমানে কোচিং ব্যবসা জমজমাট করে তুলেছে এক শ্রেণীর স্বল্প শিক্ষিতরা। আবার কোন কোন কোচিং সেন্টার সাইনবোর্ড না লাগিয়ে ভিন্ন কোন কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। অধিকাংশ কোচিং-এর শিক্ষকরা পাঠদানে অদক্ষ আর উচ্চ শিক্ষিত নয়। দু’একটি সার্টিফিকেট নিয়ে তারা কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হয়ে বসে আছেন। আবার সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে পার্ট টাইম সময় দেয় কোচিং সেন্টারে কোন কলেজের অদক্ষ ছাত্ররা।

এ সকল শিক্ষকদের মধ্যে ভাল টিচিং পদ্ধতি নেই। নেই কোন খেয়াল ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যা অর্জনের জন্য বেশী সময় সময় কোচিং-পার করে দিলেও কখনও কখনও ফল হচ্ছে শূন্য। ভুল শিক্ষা,কখনও ভুল সাজেশন আবার পরীক্ষার খাতায় সঠিক নাম্বার পেলেও যোগ ফলে এসে দেখাযায় অনেক কম। যা বার বার করে আসছে কোচিং সেন্টার এর শিক্ষকরা। এমনি ভুল বার বার করার ফলে ছাত্র/ছাত্রীর অভিবাবকরা ছুটে যায় শিক্ষকের কাছে। এমনই নজির আছে বেশ বরিশাল শহরে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ফেলে দিচ্ছে বিপাকে। যা একজন শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক খতি স্বরূপ।

রাফি নামের এক ছাত্র সাপ্তাহিক পরীক্ষার খাতায় ৫০ মার্কের মধ্যে যেখানে খাতায় ৫০ পাবার কথা সেখানে যোগের খাতায় অনেক কম। রাফির মা পরীক্ষার খাতা দেখেতো অবাক, যে স্যারে পরীক্ষা নিয়েছে সেই স্যারে খাতা দেখে কারেক্টও করেছে কিন্তু যোগ করে মোটের ঘরে ভুল করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে রাফির মা কোচিং এর স্যারের সাথে আলাচনাও করেছে। আবারও ঐ ছাত্রের দীর্ঘ ৪ মাস পর সাপ্তাহিক পরীক্ষার খাতায় একই রকম অবস্থা, যেখানে যোগ ফলে ২টি কারেক্ট অংকের নাম্বার যোগফলে নাই। বিষয়টি নিয়ে আবারো স্যারের সাথে আলোচনায় বসে। আমরা আপনাদের কোচিংয়ে সন্তানদের দেই ভালো করার জন্য। এভাবে ভুল করলে ছাত্রের মন-খারাপ হয়ে যায়। আমরা অনেক আশা করে আপনাদের উপর ছেরে দিই তাই আপনাদের উচিৎ দক্ষ শিক্ষক দিয়ে কোচিং পরিচালনা করা।

এভাবেই চলছে প্রাইভেট কোচিং বানিজ্য, কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। অনতিবিলম্বে প্রাইভেট কোচিং সমস্যার সমাধান দাবী করেছেন সচেতন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। ফলে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের অধিকাংশ স্কুল কলেজের কতিপয় শিক্ষকরাও প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসের নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে ও পরে ছাত্র-ছাত্রী ম্যানেজ করে, কখনও বাড়ি, আবার কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসেই প্রাইভেট পড়াচ্ছেন তারা।কোন কোন শিক্ষক ক্লাসে ভাল করে পাঠদান করেন না। বাধ্য হয়ে তাই ওই সকল শিক্ষকদের কাছ থেকে ভাল করে পড়তে হলে মাসিক চুক্তিতে মোটাংকের অর্থ গুনতে হয়।