সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলকরণ ও সৃষ্ট জটিলতা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১০:০১:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮

মোস্তফা মোশাররফ হোসেন
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে, এদেশের ইতিহাস বিনির্মাণে ছাত্র সমাজের ভূমিকা যে সবসময়ই ইতিবাচক ছিল তা কারোরই অজানা নয়। স্বাধীকার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত তারা বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা তাদের ঘটানো অনেক নেতিবাচক ঘটনার স্বাক্ষীও হয়েছি।

আদর্শ বিচ্যুতির অসংখ্য নজির তারা স্থাপন করেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রতিপক্ষের উপর হামলাসহ নানা নেতিবাচক কাজে সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে তারা। দলের অভ্যন্তর থেকে বারংবার সতর্ক করা হলেও তারা থেমে থাকেনি। সরকারি দলের রাজনৈতিক সুবিধার অংশীদার হিসেবে সকল সময়েই সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের মধ্যে এই প্রবণতা একটু বেশীই লক্ষ্যণীয়। সব সরকারের আমলেই এটি অল্পবিস্তর একই রুপ ধারণ করে। তবে আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে সবথেকে বেশী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী হলো বাম ছাত্রসংগঠনগুলো এবং ডানপন্থী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রশিবির। বামেরা অত্যন্ত সুবিধাবাদী।

তারা আমেরিকার সাথে চুক্তি করলে আগুন জ্বালালে, ভারতের সাথে সমঝোতা হলেও আগুন জ্বলে, এমনকি কোনো দাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করলেও সরকারের গুষ্ঠি উদ্ধারে পিছপা হয় না। আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনোর সুযোগ পেয়েছি তারা তাদের চরিত্র সম্পর্কে কিছুটা হলেও অবগত। বাংলাদেশে থেকে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানের নাম তারা ভুলেও উচ্চারণ করেনা। তাদের মুখে তুবড়ি ফোটে ভি.আই. লেনিনকে নিয়ে, মাও সেতুং কে নিয়ে। আমরা সেটা হজম করে এসেছি যুগের পর যুগ। একটা বিষয় না বললেই নয়, ক্যাম্পাসে এরা চলাফেরা করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভাবে। চাদরে শরীর মুড়ে, “চেহ্যাট” মাথায় পরে, ছেলেমেয়ে মিলেমিশে একটা “অন্যরকম” আবহ তৈরি করে। অত্যন্ত উদার মনের এরা। সকলের বিপদে এগিয়ে আসে, টিএসসিতে দাঁড়িয়ে তাদের মেয়েরাই আবার সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে হেলে পড়ে ছেলেবন্ধুর কাঁধে অবলীলায়। সন্ধ্যার পর নন্দীবাবুদের আড্ডা জমে বিভিন্ন আলোছায়াময় আখড়ায়। রাতে না ঘুমিয়ে ছেলেমেয়ে একসাথে প্রগতিশীল সময় কাটানোতেই এদের আধুনিকতা। ছাত্রদল, ছাত্রলীগ কিংবা সাধারণ ছাত্রছাত্রী মাত্রই জানে বাম ছাত্রসংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া মানেই এই অবাধ সুবিধাভোগের সুযোগ পাওয়া। কারন আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় তারা অভিভাবকহীন।

আর রাজাকারের বিবির বাচ্চারা (শিবির) এক্ষেত্রে আরেকটু বেশীই সুবিধাবাদী। তারা মিশে আছে, মিলে গেছে আপনার আমার মাঝে। তবে নীতির পরিবর্তন হয়নি একবিন্দুও, সেটা বোঝা যায় তাদের সৃষ্ট কর্মকান্ডে। আপনি যাকে ভাই বলে কাছে টেনে নিয়েছেন, ভেবেছেন সে-ও আপনার আদর্শকে ধারণ করে, তাহলে বড্ড ভুল করছেন। সময় পরিবর্তন হলে চাপাতির প্রথম কোপটা আপনার কাঁধেই পড়বে, ইতিহাস সেরকমই সাক্ষ্য দেয়। বর্তমান সময়ে চাকুরীর বাজার ভালো। তদবির ছাড়াই সরকারি চাকুরী বাগিয়ে নেয়া যায়, বিসিএস ক্যাডার হওয়া যায়, বিচারকও বনে যাওয়া যায় বটে। আর সে সুযোগটা তারা নিচ্ছে পরিপূর্ণভাবে। আর তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও আমরা সবাই অবগত।

তবে বিগত কয়েক বছরে ছাত্র রাজনীতিতে কিছু গুণগত পরিবর্তন একেবারেই দেখিনি সেটা বললে ভুল হবে। দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। গত কয়েক বছরে সেশনজট কমতে কমতে প্রায় শূণ্যের কোটায় ঠেকেছে। ক্লাস পরীক্ষার বিঘœ ঘটিয়ে, নিজেদের আন্তঃকোন্দলের কারনে কিংবা প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এমন প্রমাণ নিকট অতীতে অপ্রতুল। একথা সত্য যে, অন্যতম বড় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের অবস্থান ক্যাম্পাসে নেই। কিন্তু তাদের “ছাত্রদের” দল বলাটাও খুব একটা যুৎসই নয়। কারন তাদের যারা এখন বিভিন্ন হল ইউনিটের পদ-প্রত্যাশী, তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের অনেকেই বাবা হয়েছেন, আর কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা কারো অজানা নয়। আর ছাত্রলীগও সে যুক্তিতে তাদের ক্যাম্পাসে সহাবস্থান দিতে চায়না। তাদের এ অবস্থান অযৌক্তিক সেকথা বলার সুযোগ কিন্তু একেবারেই নেই।

এবার মূল কথায় আসা যাক । বিগত কয়েক মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট জটিলতাকে সহজভাবে দেখা একবারেই উচিত হবেনা। সদ্য বিদায়ী উপাচার্য মহোদয় তার বিদায়ের কয়েকদিন আগে যে জটিলতার বীজ বপন করে গেছেন তা এখন ফলদায়ী বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বিদায়ী উপাচার্য নিশ্চয় তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন তার বোনা বীজের এহেন ফলন দেখে। তবে পুরো জাতি আজ হতাশ হচ্ছে পরিস্থিতির অবনতিতে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকগুলোও সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাম ছাত্রসংগঠনের পক্ষ নিয়ে ছবিসহ প্রথম পাতায় বড় শিরোনাম করেছে। তাদেরকে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে অভিহিত করে খবর ছেপেছে। কিন্তু কোথাও তারা উপাচার্যসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে যে অশোভন করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনেনি।

  • বাংলা ইনসাইডার