সেই ছাত্রলীগ নেত্রী শায়লা যা লিখলেন তার ফেসবুকে!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১:৫০:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করার ঘটনার মধ্যে একজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ২ দিন ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ছবিতে দেখা যায় এক নারী আরেক নারীকে বিবস্ত্র করার দৃশ্য। সেই ছবির মেয়েটির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শায়লা শারমিন।

শায়লা শারমিন তার নিজ ফেসবুক আইডি (শ্রাবণী শায়লা) থেকে গত ২৪ জানুয়ারি রাতে একটি স্ট্যাস্টাস দেন। সেখানে তিনি লেখেছেন তার নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো: ‘আমি শ্রাবণী শায়লা, আর এটাই আমার একমাত্র ফেসবুক আইডি। আমার নামে ভুয়া আইডি খুলে অনেক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।দয়া করে এসব অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর (শ্রাবণী শায়লা) নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন। সেই গুলো পাঠকদের জন্য তোলে ধরা হলো:

‘পিলিজ আপনারা গালি গলাজ টা বন্ধ করেন, আমার কাপড় খুললে যদি আপানারা খুশি হন তাহলে আমি কার কাছে বলব যে প্রতিশোধনিতে । আর আপনারা গালি গলাজটা বন্ধ করেন।’

আরেকটি স্ট্যাস্টার্সে লিখেন, ‘দেখেন আমার অবস্থা কী এর পর আপনারা বলেন, সব দোষ আমার। যা হয় হবে তবু আপনারা কিছুটা ভালো ব্যবহার করেন আমার সাথে’ ।

‘সবাই শুধু বলতেসে আমি কাপড় খুলে ফেলতে চাইসি। কিন্তু এই ছবিটা ভাল করে দেখুন সবাই আমি কিন্তু অন্য মেয়েদেরকে বাধাও দিসি। তাকে বাঁচিয়েছি! তাই একটি সবগুলা পিক দেখে জাজ করবেন ২,১ টা পিক দেখে জাজ করবেন না। আর আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। দয়া করে মাফ করে দিবেন।’

২৩ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সময় যে মেয়েটিকে বিবস্ত্র করা হয়েছে। তিনি হলেন মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, মাগুরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ১৯৯৪ সালে ওই আসনে আলোচিত উপনির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা শফিকুজ্জামান বাচ্চু মেয়ে শ্রবণী শফিক দীপ্তি। তার দাদা প্রয়াত আসাদুজ্জামানও ছিলেন সংসদ সদস্য।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর দফায় দফায় ছাত্রলীগ হামলা চালায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে রাখে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বের হতে গেলে তাদের উপর হামলা করে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।