উদ্বোধন হলো স্বপ্নের পায়রা সেতু

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২১ | আপডেট: ৪:৫৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২১

দক্ষিণ বাংলার মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১ টা ৫ মিনিটে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), কুয়েত ফান্ড এবং ওপেক ফান্ডের অর্থায়নে বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কে পায়রা নদীর ওপর এ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪৪৭ দশমিক ২৪ কোটি টাকা। এ সেতু ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও ঝালকাঠির সঙ্গে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলাকে সরাসরি সড়ক পথের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ফলে মাওয়া বা আরিচা থেকে পায়রা বন্দর ও সাগরকন্যা কুয়াকাটায় যেতে আর কোনো ফেরির প্রয়োজন হবে না।

১৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটির প্রস্থ ১৯.৭৬ মিটার। আর সেতুর সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১২৬৮ মিটার এবং প্রস্থ ২২.৮০ মিটার। এ সেতুতে ৩২টি স্প্যান ও ৩৩৮টি পাইল রয়েছে। যার মধ্যে মূল সেতুর পাইল সংখ্যা ৫২টি। আর এ সেতুর গভীরতম পাইলের দৈর্ঘ্য ১৩০ মিটার, যার সংখ্যা ৪০টি। এছাড়া পিয়ার সংখ্যা ৩১টি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা প্রান্তে আরো বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-এমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।

অপরদিকে বরিশাল প্রান্তে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিববুর রহমান, বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ নাথ, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা, সংরক্ষিত ২৯ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আফজাল, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের স্থানীয় কর্মকর্তাসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম আক্তারুজ্জামানসহ বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পায়রা সেতুর গুরুত্ব কী?

বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা রেহানা আক্তার  বলছেন, ”এক সময় ঢাকা থেকে আমতলী আসতে হলে আটটি সেতু পার হতে হতো। শুধু বরিশাল থেকেই পার হতে হতো চারটি সেতু। এই সেতুটি হয়ে যাওয়ার পর পদ্মা নদী ছাড়া ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে আর কোন সেতু রইল না।

”কখনো কখনো যানজটে পড়ে এই ফেরিঘাটেই দিন পার হয়ে যেত। ঝড় বৃষ্টি হলে ফেরি বন্ধ থাকত। কিন্তু এখন আর আমাদের পথে কোন বাধার মুখে পড়তে হবে না,” তিনি বলছেন।

গত কয়েক বছরে পটুয়াখালী, ও বরগুনা জেলার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা ছিল পায়রা নদী। এখানে ফেরি পার হতে এক বা দেড় ঘণ্টা লেগে যেত। কখনো কখনো সময় আরও বেশি লাগত।

পায়রা সেতু প্রকল্পের পরিচালক আবদুল হালিম বলছেন, ”এই সেতুর ফলে পায়রা নদী বন্দর এবং কুয়াকাটা পর্যটন সৈকতের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ তৈরি হল। কাউকে পথে আর কোন বাধার মুখে পড়তে হবে না। ফেরিতে যে সময় ব্যয় হতো, যে যানজট হতো, তা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।”

এর ফলে বেশ কিছু সুবিধা আসবে বলে তিনি মনে করছেন: “সেগুলো হলো, এসব এলাকায় শিল্পায়ন হবে, ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে, কুয়াকাটাসহ অন্যান্য এলাকার পর্যটন বিকশিত হবে, সবমিলিয়ে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।”

Print Friendly, PDF & Email