এসএসসি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২১

এসএসসি একদম দ্বারপ্রান্তে । নিশ্চয়ই যে যার মত আখের গোছাতে নেমে পড়েছো বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে পরীক্ষার আগে আগে এরকম মনোভাব উঁকি দিয়ে থাকে। এটা তেমন অস্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়। প্রতিটি বিষয় পরীক্ষায় দুটি অংশে বিভক্ত থাকে। পরীক্ষাটি ব্যাবহারিক পরীক্ষা এবং লিখিত পরীক্ষা হয়। লিখিত পরীক্ষা আবার দুটি অংশে বিভক্ত একটি লিখিত এবং অন্যটি এমসিকিউ। প্রতিটি গ্রুপের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা থাকে

করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় । সীমিত পরিসরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে গ্রুপ ভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার আগের ‘হাতে গোনা’ বাকি সময়টুকু যদি ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে ভালো ফলাফল করা খুব কঠিন হবে না। বিভিন্ন বিষয় একটু বুদ্ধি করে, রুটিনে ফেলে শেষ করতে হবে, এই যা! তবে রুটিনটি হতে হবে সম্পূর্ণ নিজের।

শেষ মুহূর্তের জন্য কিছু কথাঃ এখন একদম নতুন করে প্রথম অধ্যায় থেকে পড়ার পরিকল্পনায় আছে অনেকেই। যদিও আমরা ‘নিজের মতো করে পড়ো’ নীতিতে বিশ্বাসী, তবুও, এই পদক্ষেপ নেয়াটা খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বইয়ের সূচীপত্র লেখা পাতায় যাও।সেখানে দেখো পাশাপাশি কোন অধ্যায়গুলো পড়া হয়েছে। সেই অধ্যায়গুলো থেকে স্কুলের পরীক্ষাগুলোতে কেমন প্রশ্ন এসেছে। শুধুমাত্র সেই অধ্যায়গুলো রিভিশনে রাখো। সূচীপত্রে পড়া বিষয়গুলো দাগ দেয়ার পর খেয়াল করে দেখো, বইয়ের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শেষ হয়েছে কিনা।

প্রধানত তোমার পড়া অধ্যায়গুলোর সাথে খাপ খায়, এমন অধ্যায়গুলো খুঁজে বের করো । একটা নির্দিষ্ট সময় বাঁধো। দিন আর রাতের যেকোনো একটা সময় যেই অধ্যায়গুলো পড়া হয়নি, সেগুলো পড়ার জন্য বরাদ্দ করো। আর বাকি সময় পড়ে থাকা অধ্যায়গুলো রিভিশনে রাখো। এখন সময় ‘ব্যয়’ করার মতো সময় নেই ঠিক। কিন্তু ‘ইনভেস্ট’ করার মতো অসংখ্য সময় আছে। সময়টাকে খুব কৌশলে ইনভেস্ট করো।  তবে এরকম চাপের মধ্যেই নিজেকে সামলে নেবার চেষ্টা করতে হবে। ভুলে যাও যে কেউ তোমাকে কোনো প্রকার পরামর্শ দিয়েছেও। পরীক্ষা তোমার, প্রস্তুতি তোমার, ফলাফলও তোমার উপর। তাই নিজের পরামর্শ অনুযায়ী এগিয়ে যাও।

একদম শেষ মুহুর্তে নতুন কিছু ঠিকভাবে বুঝে ফেলা প্রায় অসম্ভবই বটে। তাই তোমাদের উচিত যেগুলো আগেই পড়া হয়েছে তা পুনরায় পড়ে ভালোভাবে আয়ত্ব করা। কারণ একটু একটু করে পাঁচটা প্রশ্ন লেখার চেয়ে সম্পূর্ণভাবে চারটা প্রশ্ন লেখাও অনেক উত্তম৷
এসএসসি পরীক্ষা যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, মাথা ঠাণ্ডা রাখতেই হবে। কিন্তু এটা একদমই ভুল যে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পড়াশোনা অব্যাহতি দিতে হবে সুতরাং শেষ মুহুর্তে এসে গোলমাল পাকিয়ে ফেলা কিন্তু বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তাই তোমার উচিত এক’টা দিন পড়াশোনাতেই ব্যস্ত থাকা। বাকি সব কাজের প্রক্সি না হয় পরীক্ষার পর দেয়া যাবে। শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি তখন বলেছিলেন, এই পরীক্ষা হবে গ্রুপভিত্তিক শুধুমাত্র তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার রেওয়াজ রয়েছে।

কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হবার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি (আমরা ভুলক্রমে বলেছিলাম ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষাও হয়নি। ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত)

২০২১ সালে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না সেটি নিয়ে নানা আলোচনা ছিল সরকারের মধ্যে।

Print Friendly, PDF & Email