নিখোঁজের পর চাচীর ঘ‌রের গর্ত থে‌কে মিল‌লো শিশুর লাশ: চাচী-চাচ‌তো বোন আটক

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ | আপডেট: ১০:৪০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা বাঘিয়ার আরব আলী বেপারীকান্দি এলাকায় আপন চাচীর নির্মানাধীন ভব‌নের টয়লেটের মেঝের নীচ থেকে বালু চাপা অবস্থায় শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চাচী নার্গিস আক্তার দেখিয়ে দিলে শুক্রবার ভোর রাতে আড়াই বছর বয়সী শিশুর লাশ উদ্ধার করে ‌শিবচর থানা পুলিশ। নির্মম এ হত্যাকান্ডে চাচী নার্গিস আক্তার ও চাচাতো বোন হাফসা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‌নিহত শিশু ‌শিবচর উপ‌জেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ইউনুস বেপারীর আড়াই বছর বয়সী ছে‌লে কুতুব উ‌দ্দিন বেপারী।

স্থানীয়, পারিবারিক ও মামলার সূত্রে জানা যায়, জেলার শিবচরের কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার ওহাব বেপারির বড় ছেলে আবুল হোসেন বেপারির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নার্গিস বেগম ২ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়ি কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা বাঘিয়ার আরব আলী বেপারীকান্দি এলাকাতে বসবাস করে। স্বামী পীরের বাড়িতে গিয়ে মারা গেলেও নার্গিস এ মৃত্যুর জন্য শশুরসহ ওই বাড়ির লোকদের দায়ী করতো।

‌শিবচর থানার ও‌সি মো. মিরাজ হোসাইন ব‌লেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই ইসমাইল বেপারিকে নার্গিস বিয়ে করতে চাইলে পরিবারটি এতে রাজী হয়নি। উভয় ঘটনার সাথে জমি-জমা নিয়েও বিরোধ ছিল এদের মাঝে। গত মঙ্গলবার ওহাব বেপারির বাড়িতে বেড়াতে আসে নার্গিস আক্তারের মেয়ে হাফসা আক্তার (১৪)।

ও‌সি আ‌রো ব‌লেন, পরদিন বুধবার সকালে মা নার্গিস ফোন দিলে মেয়ে হাফসা বাড়িতে রওনা করে । চলে যাওয়ার আগে হাফসা চাচা ইসমাইল বেপারির স্ত্রী ময়না বেগমের কাছ থেকে তার একমাত্র শিশু সন্তান কুতুবউদ্দিনকে কোলে নেয়। ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে হাফসা কুতুবউদ্দিনকে নিয়ে সটকে পড়ে। সন্তানসহ ভাবী ও হাফসাকে বাড়িতে গিয়েও না পেয়ে কুতুবউদ্দিনের বাবা ইসমাইল বেপারি শিবচর থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ পেয়ে শিবচর থানার একাধিক টিম মাঠে নামে। একটি মাদ্রাসার সিসিটিভি দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় হাফসা কুতুবউদ্দিনকে নিয়ে তার মা নার্গিসের কাছে দেয়। নার্গিস শিশুটিকে কাপড়ে ঢেকে সটকে পরে। কিন্তু কোন কিছুতেই নার্গিস বিষয়টি স্বীকার করছিল না। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর নার্গিস তার ঘরের ভেতরের মধ্যে নির্মানাধীন টয়লেটের মাটির নীচে শিশুটিকে পুতে রাখা হয়েছে বলে জানায়। পরে পুলিশ নার্গিসকে নিয়ে শুক্রবার ভোর রাতে তার ঘরের টয়লেটের মেঝেতে পুতে থাকা অবস্থায় কুতুবউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এব্যাপা‌রে ‌শিশু‌র পিতা ইউনুস বেপারী ব‌লেন, ‘সম্প‌ত্তির লো‌ভে আমার সন্তান‌কে হত্যা করা হ‌য়ে‌ছে। এর আ‌গেও হুম‌কি দি‌য়ে‌ছিল আমার কোন বংস রাখ‌বে না, সেটাই ক‌রে‌ছে বড় ভাইয়ের তার স্ত্রী ও তার সন্তানরা মি‌লে। এ নির্মম হত্যার ক‌ঠোর বিচার চাই।’

এব্যাপা‌রে সহকারী পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান ব‌লেন, আমিসহ পুলিশের একটি টিক ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাগে হত্যাকারী নার্গিস বেগম জানিয়েছে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন-মালিন্য থাকার কারণেই তার ভাতিজা কুতুব উদ্দিনকে হত্যা করেছে । এঘটনায় তা‌কে ও তার মে‌য়ে‌কে গ্রেফতান দেখা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

Print Friendly, PDF & Email