নলছিটির মোতালেবসহ গ্রেফতারকৃত ৩ জন জঙ্গি সম্পৃক্ত!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪১:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন ও লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হোসেন মতিনকে সোমবার আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়ার কথা ছিলো ডিবি পুলিশের। তবে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেফতারের পর সোমবার দিনভর অভিযান চালানোয় ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রিমান্ড আবেদন করবে আদালতে।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরস্বতী পূঁজা পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ডিবি পুলিশ শিক্ষা মন্ত্রীর পিওসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

এ বক্তব্যের পর একই দিন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি কোনও কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হলে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সেটি মানা হয়নি। তাদের গ্রেফতারের আগে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারত।’

সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিনজনের অপর সঙ্গীদের ধরতে আজ একাধিক স্থানে অভিযান চালোনা হয়। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজন রাঘব-বোয়ালের নাম পাওয়া গেছে, মূলত সেই রাঘব বোয়ালর খুঁজে বের করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এ তিনজনকে আদালতে পাঠানো হবে।

জঙ্গিবাদের ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে স্কুলটির মালিক খালেদ হোসেন মতিনের রিট আবেদনে উচ্চ আদালত কিছু নির্দেশনা দিয়ে স্কুলটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ালে একই আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

সূত্র জানায়, হাইকোর্টে যখন লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক রিট আবেদন করেন তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী মোতালেব হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন টাকা খেয়ে স্কুলটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেয়। যা খালেদ হোসেন মতিনের কল রেকর্ডের সাথে নাসির উদ্দিন ও মোতালেব হোসেনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কল রেকর্ডে কত টাকা লেনদেনের মাধমে ওই দুইজন স্কুল খোলার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন তা-ও জানতে পেরেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী মোতালেব হোসেন মাত্র ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে কীভাবে বছিলার মতো জায়গায় একটি সাততলা ভবন নির্মাণ করতে পারেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনেরও একাধিক ফ্লাট ও সম্পদের খোঁজ পেয়েছে গোয়েন্দারা। এরা দুজন শুধুমাত্র তদবির বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেই জড়িত নন জঙ্গিবাদের অর্থের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এদের।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে মঙ্গলবার (আজ ২৩ জানুয়ারী) আদালতে তোলা হবে। তবে কোনও মামলায় তাদেরকে আদালতে তোলা হবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

গত রবিবার রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ঘুষ-বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী মোতালেব হোসেন ও জঙ্গিবাদে অর্থ সহায়তার অভিযোগে খালেদ হোসেন মতিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী ও মন্ত্রীর পিওর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। অন্যদিকে, লেকহেড স্কুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিলো।

পরিবার ও থানা সূত্র জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর পিও মো. মোতালেব হোসেনকে রাজধানীর বসিলা এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। মোতালেব সেখানে তার নির্মাণাধীন বহুতল বাড়ির কাজ তদারক করতে গিয়েছিলেন। ওই দিন হাজারীবাগ থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই দিন রাজধানীর গুলশানের লেকহেড গ্রামার স্কুলের পরিচালক খালেদ হাসান মতিনকে অপহরণের অভিযোগে গুলশান থানায় জিডি হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে কর্মরত উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন নিখোঁজ হন। তিনি খিলক্ষেত এলাকার লেকসিটি কনকর্ডে থাকতেন। সব ঘটনাই নিখোঁজদের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার বা আটকের কথা অস্বীকার করেছিলো।

রবিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ডিএমপির (মিডিয়া) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছিলেন, এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী মো. নাসির উদ্দিনকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে মোতালেব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। অপর এক অভিযানে লেকহেড স্কুলের মালিক মো. খালেদ হাসান মতিনকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।