ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাসে দৈনিক আক্রান্তের হার রেকর্ড, নয়টি প্রতিষ্ঠান ও ১৯ জনকে জরিমানা

প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১ | আপডেট: ৬:২২:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১

ঝালকাঠি জেলায় করোনা ভাইরাসে দৈনিক আক্রান্তের হার রেকর্ড করেছে। করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ দৈনিক ৬০-৭০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে সর্বোচ্চ ৮জনের পজেটিভ রিপোর্ট পেয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে সোমবার স্বাস্থ্য বিভাগকে অবাক করে দিয়ে ১৯ জনের পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। দৈনিক আক্রান্তের তালিকায় এ যাবৎ কালের মধ্যে এই সংখ্যা রেকর্ড করেছে। ১৯ জনের মধ্যে হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারী কর্মকর্তা, ও শিশু সহ জনসাধারণ রয়েছেন। আক্রান্ত ১৯ জনের মধ্যে ঝালকাঠি জেলা শহরসহ সদর উপজেলায় ১৪ জন , নলছিটি উপজেলায় ২জন, কাঠালিয়া উপজেলায় ২ জন ও রাজাপুর উপজেলায় ১ জন। ঝালকাঠি জেলায় এ পর্যন্ত ৪৫৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯১৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ৮২৮ জন সুস্থ হয়েছেন ও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৬৭ জন হোম আইসোলিয়েশনে রয়েছেন। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঝালকাঠিতে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে করনীয় বিষয় নিয়ে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসক মো: জোহর আলীর সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: কামাল হোসেন ও পৌর মেয়র আলহাজ¦ লিয়াকত আলী তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় লকডাউনের জন্য ঘোষিত পূর্ব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নতুন করে এই সভায় প্রধান বাজার এলাকা থেকে কাঁচা বাজার উন্মুক্ত স্থানে দ্রæত সরিয়ে আনা, মটর সাইকেলে ১ জনের বেশি যাত্রী পরিবহন না করা, করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে কোন ভাবেই বাইরে আসা প্রতিরোধ করা, মসজিদ ও উপাসনালয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইবাদত বন্দেগী করা এবং সকল ধরনের জনসমাগম রোধ করা বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ঝালকাঠিতে লকডাউনের মধ্যে করোনা বিষয়ক সচেতনতার জন্য প্রচার প্রচারনার পাশাপাশি সরকারী নিদের্শনা না মানা ও মাস্ক ব্যাবহার না করায় চলছে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। সোমবার দু’টি ভ্রাম্যমান আদালত খাবার দোকান, হোটেল রেস্তোরায় এবং মাস্ক ব্যাবহার না করা ব্যাক্তিদের জরিমানা করেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইয়েম ইমরান ও সিফাত বিন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট মাস্ক ব্যাবহার না করায় ১৯ জনকে ৩৩০০টাকা জরিমানা করেছেন। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু মুসা ও মিলন চাকমার নেতৃত্বে অপর একটি মোবাইল কোর্ট হোটেল রেস্তোরায় নিয়ম লঙ্ঘন করার দায়ে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ২২৭০০টাকা জরিমানা করেছেন। একই সময়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঝালকাঠি ইউনিট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসার জন্য প্রচার প্রচারনা চালিয়েছেন।