পরকীয়া ও খুনোখুনির মূলে সামাজিক অবক্ষয়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭ | আপডেট: ৭:০৫:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭
পরকীয়া ও খুনোখুনির মূলে সামাজিক অবক্ষয়

প্রযুক্তি আমাদের সমাজে যেভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তাতে করে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো আরো পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের এই কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে শিল্প সমাজ ব্যবস্থার দিকে প্রবেশ করছে। এটার সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক ২০/২৫ বছর আগে যে ধরনের ছিল, এখন ওই ধরনের সম্পর্ক আর থাকছে না। এটা এক ধরনের সামাজিক অবক্ষয়। এরই সূত্র ধরে আমাদের নগরজীবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

রাজধানীতে ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই জোড়া খুনের ঘটনার এভাবেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন। তিনি বলেন, মোবাইল প্রযুক্তির যুগে স্বামীর যেমন অন্য ধরনের সম্পর্ক তৈরি করার সুযোগ ঘটেছে, তদরূপ ঘটছে স্ত্রীর ক্ষেত্রে। এখন শারীরিক কামনা-বাসনা চারপাশের পরিস্থিতির ওপর ভর করছে। এটা থেকে আমরা ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছি। আগেকার সামাজিক অটুট বন্ধন এখন আর তেমন নেই।

সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে জীবন-যাপন পদ্ধতিও পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তিত এই নগর জীবনের সঙ্গে জীবন-যাপন পদ্ধতিটার সূত্র ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এটা এক ধরনের অবক্ষয়।

দিন দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্সের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সমাজে হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরকীয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তা থেকে হচ্ছে খুনোখুনি। এসব সমস্যা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সমাধান করতে হবে। ভালো একটা সমাজ গঠন করতে না পারলে এ ধরনের অপরাধ ঘটতেই থাকবে।