ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ১০:৫৪:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা আওয়াামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চুর নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এ প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুলকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চুকে। এর আগে ওই পদে ছিলেন গোলাম মোস্তফা ফিরোজ। দলীয় কোন্দল সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগে তাকে আর দলীয় পদ দেওয়া হয়নি। এ কারনে তিনি এইচএম আখতারুজ্জামানের ওপর ক্ষিপ্ত হন। সেই থেকে বাচ্চুর বিরুদ্ধে গোলাম মোস্তফা ফিরোজ নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ফিরোজের নিজের আইডি ও ফেইক আইডি তৈরি করে ফেসবুকে বাচ্চুর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে বাচ্চুর সম্মানহানী হচ্ছে জানিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু স্বাধীনতার স্বপক্ষের একজন মানুষ। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে কুলকাঠি ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের প্রথম ভিক্ষুক মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা করা হয় কুলকাঠিকে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন, সন্তান প্রসবে মায়েদের নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা, অসহায় মানুষকে ব্যক্তিগত সাহায্যের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান বাচ্চু। এ কারনে বিগত দিনের চেয়ে কুলকাঠি ইউনিয়ন এখন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাটিতে রূপলাভ করে। এতে ঈর্ষান্নিত হয়ে গোলাম মোস্তফা ফিরোজের নেতৃত্বে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার শুরু করে। অপপ্রচারকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমির হোসেন আমুরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। তারা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্মল চন্দ্র ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বিএনপির ছত্রছায়ায় বীরদর্পে চলাফেরা করেছেন। অথচ প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তখন এলাকায় থাকতে পারেননি। দায়িত্বহীনতার কারনে তাদের পরবর্তী কমিটিতে আর পদ দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারাও ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চুর নামে অপপ্রচারে সহযোগিতা করছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দলীয় নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে ঝালকাঠির যুবলীগ নেতা কাওসার হোসেন মায়েজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল খালেক, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মিন্টু মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নুসরাত জাহান বেবী ও ছাত্রলীগ সভাপতি শামীম রেজাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম মোস্তফা ফিরোজ বলেন, আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের কোন লেখা আমি লিখিনি। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা প্রচার করা হচ্ছে।