‘ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে’

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭ | আপডেট: ৬:৫৯:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭
‘ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে’

বরিশাল: ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ‍সুসম্পর্ক এবং সে সম্পর্কটা বজায় থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থ বিষয়ে সে রকম কোনো মতবিরোধ আছে বলে আমার মনে হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি চান, বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক, তারা শান্তিতে থাকুক। তাদের আপদে-বিপদে পশ্চিমবঙ্গের সহানুভূতি, সহযোগিতা থাকবে’।

বৃহষ্পতিবার (০২ নভেম্বর) রাতে বরিশাল সার্কিট হাউজে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এসব কথা বলেন।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়টি জাতীয় বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যা বলার বলেছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতেও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি খুব পরিষ্কার। তিনি বলেছেন, এটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার কি করবেন না করবেন, সেটি তাদের বিষয়’।

বিধানসভার স্পিকার বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মতামত- বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। আমরা জানি, বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে যে লড়াই আমাদের বাংলাদেশ করেছিলো এবং বিশ্বে সেই ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, ভাষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক সমৃদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গেও আমাদের অনেক বলিষ্ঠ লেখক রয়েছেন, ভাষা অনেক সমৃদ্ধি লাভ করেছে। তুলনামূলকভাবে এটা বলা যদিও যাবে না, কোন দেশ সমৃদ্ধ বেশি, কোন দেশ সমৃদ্ধ নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান যেটা চলে, সেটা বজায় থাকবে’।

তিনি বলেন, গত বছরে বাংলাদেশের স্বাগতিক দেশ হিসেবে সিপিএ (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি আ্যাসোসিয়েশন) সম্মেলন করার কথা ছিলো। এ বছর সেটার আয়োজন করেছে বাংলাদেশের সংসদ। এই সিপিএ সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। এটি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। যেখানে অংশগ্রণের উদ্দেশ্যে আমি বাংলাদেশে এসেছি’।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশে আসার আমার সুযোগ হয়েছে তাই পূর্বপুরুষদের বরিশাল টাউনে এসেছি। এতো স্মৃতিকথা তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে, এর আকর্ষণ বা তীব্রতায় এখানে এসেছি। আমার বয়োজ্যেষ্ঠরা উম্মুখ- আমি এখানে কি কি দেখে গেলাম, শোনার জন্য। আমার ঠাকুরদা বরিশাল কোর্টে প্রাকটিস করতেন। দূর্ভাগ্যবশত যখন বঙ্গভঙ্গ হলো, একটা দাঙ্গা হয়েছিলো, তখন বাংলাদেশের সকল সম্পত্তি ছেড়ে আমরা কোলকাতায় স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করি। তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম। তাই তখনকার নিজের কোনো স্মৃতিই আমার মনে নেই। বরিশালে আসার পরে এতো বেশি আতিথেয়তা করা হচ্ছে, আমি মুগ্ধ হচ্ছি’।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম হলো, তখনকার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কি ছিলো আপনারা জানেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার এসেছে। কিন্তু চিরকাল বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। এ সম্পর্ক বজায় থাকবে, আরো সুদৃঢ় হবে। কিছু কিছু প্রভাবশালী দেশ দু’দেশের সম্পর্কে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা সফল হবে বলে আমার মনে হয় না’।

এর আগে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, সম্পাদক বাপ্পি মজুমদারসহ গণমাধ্যমকর্মীরা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানযোগে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে পৌঁছান তিনি।

শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) সকালে পশ্চিমঙ্গের স্পিকার স্ত্রী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বরিশাল নগরের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজ সংলগ্ন নিজ জন্মভিটা পরিদর্শন করবেন। পরে বরিশালের অন্যতম পুরাতন নিদর্শন গৌরনদী উপজেলার মাহিলারা মঠ ও আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মনসা মন্দির এবং উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল মহাশ্মশান ও মুকুন্দ দাস কালীবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

  • বাংলানিউজ